রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ্ অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু, আহত- ১১

আপডেটঃ ১২:০৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৭, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীতে কেটিসি হানিফ পরিবহনের একটি বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।সংঘর্ষ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে ভেতরে থাকা চালকসহ ১৭ যাত্রীর সবাই পুড়ে মারা গেছেন।এদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ১১ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ৬ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত ১৭ জনের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকায়।নিহত ১৭ জন চালকসহ মোট ৫টি পরিবারের লোক বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাটাখালী থানার অদূরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাপাশিয়া নামক এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

নিহতরা হলেন- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে সালাহউদ্দিন (৩৮), স্ত্রী শামসুন্নাহার (৩২), তাদের দুই ছেলে-মেয়ে সাজিদ (৯) ও সাবা ১৮ মাস), শামসুন্নাহারের বড় বোন কামারুন্নাহার (৩৬); পীরগঞ্জ সদরের তাজুল ইসলাম ভুট্টু, স্ত্রী মুক্তা, সন্তান ইয়ামিন, দাঁড়িকাপাড়া গ্রামের মোখলেসুর, বড় মজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা এবং তাদের সন্তান সুমাইয়া, সাদিয়া; ফয়সাল ও  চালক হানিফ মিয়া ওরফে পঁচা।বাকি দুইজনের নাম ও পরিচয়ও জানা যায়নি।

এ ঘটনায় বাসের যাত্রী আহত আবুল হোসেন পাপ্পু রামেক হাসপাতালের ৪ নং ওয়ার্ডে, তার স্ত্রী বেগম রোকেয়া হিরা ৬ নং ওয়ার্ডে এবং অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (৩২) ৮ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামেক হাসপাতালে আহত বাবা-মায়ের পাশে থাকা রাবিকুল হাসান তুষার বলেন, আমিসহ বাবা-মাকে নিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ায় চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে কেটিসি হানিফ পরিবহনের ওই বাসে যাচ্ছিলাম।আমরা ঠিক সামনের সারিতে ডানপাশে ছিলাম। শুরু থেকেই হানিফ পরিবহনের চালক ‘রাফ’ গাড়ি চালাচ্ছিলো। কাটাখালীর থানার পাশে গিয়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।আমি যখন বুঝতে পারলাম এমন দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে তখন আমার সামনের সিটে পা-দিয়ে জোরে শক্ত করে শক্তি প্রয়োগ করছিলাম।যার জন্য আমার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।আমার বাবার মাথায় ও পিঠে গুরুতর জখম ও মা কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করছেন নিহত সালাহউদ্দিনের ভাগ্নে বউ চম্পা।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে আমরা বেশ কয়েক বছর থেকে রাজশাহীতেই অবস্থান করছি।মাইক্রোবাসে আমার ফুফা শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন রাজশাহীতে আসতেছেন এমন খবর আমাদেরকে জানানো হয়।কিন্তু কাটাখালীতে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের খবর শুনেই আমি হাসপাতালে ছুটে আসি।এসে দেখি আমার আত্মীয়-স্বজনেরই পোড়া লাশ! শুধু আমার ফুফা শ^শুড় সালাহউদ্দিনের মরদেহ চিনতে পেরেছি।বাকিরা সবাই পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় কারও লাশ সনাক্ত করতে পারছি না।’

তিনি আহাজারি করতে করতে আরও বলেন, আমার ফুফু  শ্বাশুড়ি কামরুন্নাহারের স্বামী শাহজাহান তোতা ২০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস একই পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন।এই কষ্ট আমরা কেমন করে সহ্য করবো!’রাজশাহীর কেটিসি হানিফ কাউন্টারের টিকেট মাস্টার মেহেদী জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ যাত্রীদের কেউ মারা যাননি।তবে অনেকেই আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিটি টিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে জানা যায়, ঘটনার সময় একটি বাঁশভর্তি ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়ি ও এক কিশোর সাইকেল চালিয়ে শহরের অভিমুখে আসছিল।একই অভিমুখে দ্রুত গতিতে মাইক্রোবাসটিও আসছিল।বিপরীত দিক থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসও যাচ্ছিলো।মূলত মাইক্রোবাসটি বাঁশভর্তি ভ্যানটিকে অভারটেক করে যাওয়ার পরপরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মাইক্রোবাস ওই বাঁশের ভ্যানটি ওভারটেক করার মূহুর্তে বাসটি ঢুকে পড়ে এবং মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।এতে মাইক্রোবোসের ড্রাইভারসহ ১৭ জন যাত্রি নিহত হয়।তারপরও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দুর্ঘটনার কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে।দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।