রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

কর্মবিরতিতে যাচ্ছে রেলওয়ের সিগন্যাল কর্মীরা: চরম ঝুঁকিতে পড়বে রেল চলাচল

আপডেটঃ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ২১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

আদালতের চূড়ান্ত রায় উপেক্ষা করে রেল কর্তৃপক্ষ সিগন্যাল কর্মীদের ৮ কর্মঘন্টার পরিবর্তে ২৪ ঘন্টা কাজ করিয়ে নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।প্রতিবাদ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থাসহ বদলি করছেন।দাবি না-মানা হলে রেলওয়ের সিগন্যাল কর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলাসহ কর্মবিরতিতে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিগন্যাল অ্যাসোসিয়েশন।

সিগন্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রভাস কুমার মল্লিকের নিকট সিগন্যাল কর্মীদের দাবির বিষয়গুলি এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তার ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৭১৮৭৭৫….তে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেলের সিগন্যাল কর্মীরা দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে আসছেন এমনকি তারা ঈদের ছুটিও পান না।তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটিও নেই।এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর তারা আদালতে মামলা করেন।এরপর২০১৪ সালের মার্চ মাসে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।এরপর রেল কর্তৃপক্ষ এ রায়ের বিপক্ষে আদালতে রিভিউ করেন।দীর্ঘ দীর্ঘ শুনানির পর ,২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর আদালত আবারো ৮ কর্মঘণ্টার চূড়ান্ত রায় দেন।

তিনি আরো বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরও রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতের রায় উপেক্ষা করে তাদের দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।তাদের এই বেআইনি অবস্থানের বিপরীতে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে বদলিসহ নেওয়া হচ্ছে নানা ব্যবস্থা।স্বাভাবিক কারণেই এ পরিস্থিতিতে এমএসসহ ৫৫২ সিগন্যাল কর্মী, আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জোট বেঁধেছেন। তারা ৬ মার্চ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ স্থগিত রেখেছেন।এরপরও তাদের ন্যায্য দাবি না-মানা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা করবেন বলেও জানান এই শ্রমিক নেতা।

জানা গেছে সিগন্যাল কর্মীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৬ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে।পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়।এ অবস্থায় চালক ও গার্ডরাও ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন না-চালানোর জন্য কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন।সব মিলিয়ে বর্তমানে রেলে যে অচলাবস্থা চলছে, তার অবসান হওয়া জরুরি।আমরা মনে করি, সিগন্যাল কর্মীদের দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেওয়ার বিষয়টি শুধু অনৈতিক নয়, অমানবিকও বটে।এছাড়া এটি আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন , ২৪ ঘণ্টা কাজ করা মানে তা শুধু দৈহিক নয়, মানসিক সংকটেরও জন্ম দেয়।সিগন্যাল কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, অনেকে কঠিন রোগে ভুগছেন।২৪ ঘণ্টা কর্মব্যবস্থা অনৈতিক, অবৈধ এবং মানবাধিকার পরিপন্থি।আদালত তার রায়ে ৮ কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।এরপরও উচ্চ আদালতের এই রায় উপেক্ষা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।তবে রেলওয়ে কি দেশের আইন-আদালতের ঊর্ধ্বে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান?

রেলের সিগন্যাল কর্মীদের আন্দোলনের ফলে রেল চলাচলে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তাতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।আমরা চাইব, সে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে রেল কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী সিগন্যাল কর্মীদের দিয়ে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকবে।বিষয়টি শুধু রেলের কর্মীস্বার্থ নয়, জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

আমরা চাইব, সে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে রেল কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী সিগন্যাল কর্মীদের দিয়ে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকবে।বিষয়টি শুধু রেলের কর্মীস্বার্থ নয়, জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।