মঙ্গলবার ১৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীর বাঘায় মুঘল আমলের নারী মসজিদ

আপডেটঃ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

মুসলিম সভ্যতার প্রাচীন এক নিদর্শন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারী মসজিদ।মুঘল স্থাপত্য রীতিতে তৈরি এ মসজিদটিতে এখনও নামাজ আদায় করেন নারীরা।তবে সংস্কারের অভাবে মসজিদটি এখন জৌলুস হারাচ্ছে।তাই মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের।রাজশাহী শহর থেকে ৪৯ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বাঘা উপজেলা সদরে হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলার (রহ.) ছেলে হজরত শাহ আউল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজার সংলগ্ন এলাকায় মসজিদটি অবস্থিত। পাশেই রয়েছে হজরত জহর শাহ’র (রহ.) মাজার।মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে এলাকার মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে পাঁচজন সঙ্গীসহ বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য বাঘা এসেছিলেন হজরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (রহ.)।

তিনি বাঘা ও আশপাশের এলাকায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য লাভ করেন।তার ছেলের নাম হজরত শাহ আবদুল হামিদ দানিশ মন্দর (রহ.)।শাহ আবদুল হামিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে শাহ আবদুল ওয়াহাব (রহ.) বাঘার খানকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।হজরত আবদুল ওয়াহাবের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলের মধ্যে হজরত শাহ মোহম্মদ রফিক (রহ.) ১০২৮ হিজরি সনে ২০৩৭ আনা শালিমানার সম্পত্তি ওয়াকফ করেন।ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি (ষষ্ঠ রইশ) সাইজুল ইসলামের আমলে রইশ পরিবার ও বাইরের পর্দানশীন নারীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করা হয়।তারা এ মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।

বহুকাল পর মসজিদটিতে এখনও নারীরা নামাজ আদায় করেন।তবে আগের মতো আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয় না।শুধু জুমার দিন স্থানীয় নারীরা নামাজ আদায় করেন।প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি দেখতে এখনও ছুটে যান দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা।তবে মসজিদটির বর্তমান দশা দেখে তাদের হতাশই হতে হয়।সংস্কারের অভাবে মসজিদটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।গত ৪ মার্চ বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই কাতারে প্রায় ৩০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন মসজিদে।মসজিদটিতে কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। দুই পাশে দুটি জানালা রয়েছে।

তবে একটিতে কোন গ্রিল নেই।পুরনো ইটগুলো এখন দিনে দিনে ক্ষয়ে যাচ্ছে।মসজিদের পূর্ব দিকে প্রবেশপথ।মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে একটি দরজা এবং দুটি জানালা।মসজিদের ভেতরে প্রবেশপথের মূল দরজার ওপরে ফারসি ভাষায় পাথরে খচিত শিলালিপি এখনও রয়েছে।তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট, প্রস্থ ১৩ ফুট।চারপাশের দেয়াল ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি চওড়া।উত্তর ও দক্ষিণে লম্বাকৃতির মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ।

মসজিদের সামনেই বসে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা তিলোকা বেগম (৪৮)।তিনি বলেন, ১৫-২০ বছর আগে এই মসজিদে দিনের তিন ওয়াক্ত নামাজ আদায় হতো। কিন্তু এখন আর হয় না।এখন শুধু জুমার দিন এখানে নামাজ হয়।তবে দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেকেই মানত করে নামাজ আদায় করতে আসেন।আর রমজান মাসে নারীরা মসজিদটিতে কোরআন তেলাওয়াত করেন।ইবাদাত করেন।বিদ্যুৎ থাকলে নারীরা এখনও আসতেন বলে মনে করেন তিনি।বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের বর্তমান মোতাওয়াল্লি খন্দকার মুনসুরুল ইসলাম রইশ বলেন, এ ধরনের মসজিদ দেশে আর আছে কিনা আমার জানা নেই।এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুরনো নকশা অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার প্রয়োজন।

জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক আবির বিন কায়সার বলেন, প্রায় ৩০০ বছর আগে মসজিদটি নারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল বলে এলাকায় প্রচলিত।তাই সেটির নাম ‘নারী মসজিদ’ হিসেবেই ছড়িয়ে পড়েছে।সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।পুরনো নকশা অক্ষুণ্ন রেখেই মসজিদটির সংস্কার করা হবে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।