বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

লুটপাটের অভিযোগ সাড়ে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ বঙ্গবন্ধু কর্ণারে কিছুই নাই

আপডেটঃ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বঙ্গবন্ধু কর্ণার নির্মাণে খরচ দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।কিন্তু বঙ্গবন্ধু কর্ণারে দুটি ছবি আর কয়েকটি র‌্যাক ছাড়া কিছুই নেই।আরডিএ ভবনের নিচতলায় এই বঙ্গবন্ধু কর্ণার।অভিযোগ উঠেছে, বঙ্গবন্ধু কর্ণারের টাকাও লুটপাট হয়ে গেছে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে মুজিবর্ষ পালিত হচ্ছে।মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিটি সরকারি দপ্তরে বঙ্গবন্ধু কর্ণার নির্মাণ ও চালুর নির্দেশনা দেয়া হয় মন্ত্রিপরিষদ থেকে। এ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে বঙ্গবন্ধু কর্ণার চালু হলেও ব্যতিক্রম শুধু আরডিএ।সরেজমিনে দেখা গেছে, আরডিএ ভবনে প্রবেশমুখে নিচতলার বাম পাশে কাাঁচ দিয়ে ঘিরে বঙ্গবন্ধু কর্ণার নামে একটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আগে থেকেই থাকা নিচতলার দেয়ালের সঙ্গে তিনদিকে তিনটি বড় কাঁচ দিয়ে ঘিরে বঙ্গবন্ধু কর্ণার বানানো হয়েছে।ভেতরে কয়েকটি র‌্যাক ছাড়া তেমন নতুন কিছুর নির্মাণ চোখে পড়েনি।

কর্ণারের ভেতরে একটি কাঠের চেয়ার রাখা হয়েছে।ভেতরে কয়েকটি র‌্যাক থাকলেও সেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকাণ্ডভিত্তিক কোন বই-পুস্তক নেই।কর্ণারের ভেতরে দেয়ালের সঙ্গে ৪২ বাই ৪৮ ইঞ্চির বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর দুটি বড় ছবি রাখা হয়েছে।ছবিগুলোর ওপরেও ধুলাবালি জমেছে অযত্ন অবহেলায়।গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু কর্ণারটিতে একটা বড় তালা মারা ছিল।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আরডিএ’র প্রকৌশল শাখা স্পট কোটেশানের মাধ্যমে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে প্রায় ৭০০ স্কয়ার ফুট আয়তনের বঙ্গবন্ধু কর্ণারটি নির্মাণ করেছে।বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর রচিত দেশি-বিদেশি বই-পুস্তক, জার্ণাল, ম্যাগাজিন, স্থিরচিত্র, ঐতিহাসিক ডক্যুমেন্টারি, সিডি বা অন্যান্য কোন উপকরণই এই কর্ণারের জন্য সংগ্রহ করা হয়নি।

আরডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কর্ণারটি নির্মাণে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার লাখ বা তার চেয়ে কিছু কম টাকা খরচ হয়ে থাকতে পারে।বাস্তবে সেখানে নতুন কোন অবকাঠামোই সংযোজন করা হয়নি।কিন্তু তারপরও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি দল আরডিএ’র বঙ্গবন্ধু কর্ণারের নির্মাণ কাজ অডিট করে ব্যয়ের পরিমাণকে যৌক্তিক বলে প্রতিবেদন দিয়ে গেছেন।এই বঙ্গবন্ধু কর্ণার গত জুনে নির্মাণ করা হলেও এখনও সেটি ফাকা পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আরডিএ’র কর্মকর্তারাই। তারা বলছেন, আরডিএ’র শীর্ষ কর্মকর্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন না বলেই নির্মাণের ৯ মাস পরও বঙ্গবন্ধু কর্ণার ফাকা পড়ে আছে।সবকিছু জেনেও কোন উদ্যোগ নেননি সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন।সাইনবোর্ড নির্ভর এই বঙ্গবন্ধু কর্ণারে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোথায় খরচ হয়েছে জানতে চাইলে আরডিএ’র প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে আমি কোন কথা বলতে পারব না।এটা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।’

আরডিএ চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন বলেন, ‘একটা এ রকম কর্ণার করে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন খরচ কত হয়।আমরা কর্ণার এখনও চালু করিনি।ভেতরে এসি লাগানো আছে।তাতে খরচ বেড়েছে।সেট না করা হলেও একটা টেলিভিশনও কেনা হয়েছে।’আরডিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘কত খরচ হয়েছে সেটা বলতে পারব না।তবে আমরা কিছু ছবি এবং বইপত্র কিনছি।দ্রুতই সব চলে আসবে।’মুজিববর্ষ শুরুর এতদিন পর কেনাকাটা কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।সমস্যা নেই তো।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।