শুক্রবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

চলন্ত ট্রেনে ঘটছে ছিনতাই, থামছেনা পাথর নিক্ষেপের ঘটনা

আপডেটঃ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০৪, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

প্রতিদিন ৩৬৬টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটে চলে।যেখানে দুই লাখেরও বেশি যাত্রী রেল ভ্রমণ করেন চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় ভ্রমণকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রেনে পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে প্রায় চল্লিশটির বেশি।এতে আহত হয়েছে শতাধিক।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চলন্ত ট্রেনের মধ্যে ছিনতাইকারী হাত থেকে নিজের কাছে থাকা ব্যাগটি রক্ষা করতে গিয় ট্রেন থেকে পড়ে এখনো শয্যাশায়ী রয়েছে গার্মেন্টস কর্মী সাবিনা ইয়াসমিন।‘মাথায় আঘাত পাওয়ায় ঘটনার পর থেকেই কাউকে চিনতে পারছেন না।

মাথায় তীব্র যন্ত্রণা, নড়াচড়া করলেই বমি করছেন।তরলজাতীয় খাবার ছাড়া আর কিছুই খেতে পারছেন না।চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন, সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে।মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।তবে কোনও অপারেশনের প্রয়োজন হবে না।সাবিনা ইয়াসমিনের সুস্থ হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।সে কারণেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের লোকজন নিয়ে যায় গ্রামের বাড়ি।ট্রেনে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিনের মতো হতভাগ্যের তালিকা বাড়ছেই ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ,যে কেউ যে কোন সময় চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়ছে কিংবা নেমে পড়ছে।তাদের ধরতে অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে’।

রেলওয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মকর্তা বলেন, স্টেশন প্ল্যাটফর্মগুলোর চারপাশ সুরক্ষিত হলে, অপরাধ করে কেউ পালিয়ে যেতে পারবে না।প্লাটফর্মে ঢোকা এবং বের হওয়ার জন্য একই রাস্তা থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে নিয়োজিত রেলওয়ে পুলিশ সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।ট্রেনের ভিতর যাত্রীদের টার্গেট করে যেন ছিনতাই কিংবা অপরাধমূলক কাজ কেউ না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে ব্যাপক নজরদারি চলছে বলে জানান রেলওয়ের ঐ পুলিশ কর্মকর্তা।যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জি এম কামরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনে চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাই কিংবা ঢিল ও পাথর ছোঁড়ার মতো ঘটনা।নিরাপত্তা এমন একটি জিনিস, কোনও জায়গায় নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হাত ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলে নিরাপত্তা হবে না, নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।নিরাপত্তার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ট্রেনে ঢিল ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটছে, এসব এলাকা চিহ্নিত করে আশপাশের স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।এছাড়া ছিনতাই প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।যদিও রেলওয়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে একাধিক বাহিনী।যাত্রীদের নিরাপত্তায় তাদের আরও পেট্রোলিং বাড়াতে হবে।রেলওয়ে পুলিশের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অঞ্চলের পুলিশ সুপারদ্বয় বলেন, ট্রেনে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে জনগণকে সচেতন হতে হবে।যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশ কাজ করছে।আগে থেকে ছিনতাই কিংবা পাথর ছোঁড়ার ঘটনা অনেকাংশেই কমেছে।যেসব জায়গায় পাথর ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটছে সেসব এলাকার চিহ্নিত করে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী মসজিদ মাদ্রাসা এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান মেয়র কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

রেলওয়ে রেলওয়ে পশ্চিম রাজশাহীর নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ডেন্ট বলেন, তার বাহিনীতে জনবল সংকট থাকলেও, তারা যাত্রীদের নিরাপত্তায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।এর ফলে আগের চেয়ে ট্রেনে অপরাধের ঘটনা অনেক কমেছে।রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে যে পরিমাণ জনবল রয়েছে, তা দিয়েই আন্তরিকতার সাথে যাত্রী নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।