বুধবার ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রামেক হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্য, বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনেরা

আপডেটঃ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে রোগী ধরা দালালরা।সেইসাথে দৌরাত্ম্য বেড়েছে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের।এতে রোগীর স্বজনরা প্রতারিত হচ্ছে।চলতি মাসের ৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই মাইকে বাজতে থাকে-‘দালাল, প্রতারক, পকেটমার থেকে সাবধানে থাকুন।আদেশক্রমে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’এরপরও থেমে নেই দালাল ও ওষুধ কোম্পানির বিক্রয়প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য।হাসপাতালে বহির্বিভাগের ভিতরে ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে, সেবা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করছে দালালরা।সুযোগ পেলেই রোগী ও স্বজনদের কাছে গিয়ে প্রলোভন দেখাচ্ছে।বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নগরীর লক্ষিপুরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টি সেন্টারে।

তবে আগের চেয়ে দালালদের সংখ্যা অনেক কম দেখা দেছে।কিন্তু ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।রোগী স্বজনরা সেবা নিয়ে চিকিৎসকদের রুম থেকে বের হলেই তারা জোর করে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ছবি তুলছেন।যা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।চলতি বছরের শুরুতেই রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন।এরপর নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় কমে আসে দালালদের দৌরাত্ম।তবে কয়েক সপ্তাহ থেকে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠছে দালালরা।

পাল্টিয়েছে দালালির ধরণ।প্রথমেই হাসপাতালে ডুকে দালালরা একাধিক জন মিলে বহির্বিভাগে টিকিট করে নিচ্ছে।রোগী ও রোগীর স্বজন হয়ে টার্গেট করছে সেবা নিতে আসা রোগীদের।মাঝে মাঝে বহিবির্ভাগের বাইরে এসে ৫-৭ জন মিলে পরামর্শ করে হাসপাতালে ডুকছেন তারা।এখানে দায়িত্বরত কয়েকজন আনসার সদস্যদের ম্যানেজ করেই তারা কাজ করছে।চলতি সপ্তাহে কথা হয় কয়েক দালালের সাথে তারা জানান, কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে কড়া হওয়ায় তাদের তাদের করতে একটু সমস্যা হচ্ছে।

তবে আনসার সদস্যদের গেটে ডুকেই তারা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করছেন।তারপরে সারাদিন তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।তবে কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা বহির্বিভাগে আসলে দালালরা সটকে পড়ছে।অন্যদিকে রিপ্রেজেন্টেটিভদের কেউ কিছু না বলায় তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।অসহায় রোগী-স্বজন ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হলেই তারা ঘিরে ধরছেন এবং কয়েকজন মিলে ব্যবস্থাপত্রের ছবি নিচ্ছেন।রিপ্রেজেন্টেটিভরা বলছেন, আমরা সবসময় হাসপাতালে ঢুকি না- মাঝে মাঝে ঢুকি।তাদের নির্ধারিত দিনে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো হাসপাতালে ঢোকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

এদিকে গত কয়েক মাস আগেও জেলা উপজেলা ও নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসহায় রোগিদের বিভিন্ন কৌশলে তারা বাইরে নিয়ে যেতো।এমন দৃশ্য ছিলো প্রতিদিনের।তবে আগের চেয়ে এই সমস্যা একটু কমেছে।চিকিৎসা নিতে আসা রোকেয়া আকতার জানান, আগে হাসপাতালের দালালদের অত্যাচার বেশি ছিলো।এখন রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরত্ম্য বেড়েছে। দালালরা আগের চেয়ে একটু কম।কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে বাইরে চিকিৎসকদের রুম থেকে বের হলেই রিপ্রেজেন্টেটিভরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র কেড়ে ছবি তুলছে।যা অত্যন্ত বিরক্তিকর।

সামসুজ্জোহা নামের এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে দালালদের দৌরত্ম্য নেই এটা ভুল কথা।এখনো দালাল আছে তবে আগের চেয়ে একটু কম।কিন্তু রিপ্রেজেন্টেটিভদের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা ঠিক করা দরকার কর্তৃপক্ষের।রামেক হাসপাতালের আনসার বাহিনীর ইনচার্জ (পিসি) মো. দুলাল আলী জানান, আমার অধিনে থাকা আনসার সদস্যরা দালালদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে রোগী ধরার জন্য হাসপাতালে প্রবেশ করছে।এমন বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে বর্তমানে আমি ছুটিতে রয়েছি।ছুটি শেষে খোঁজ-খবর নিয়ে সত্যতা পেলে অভিযুক্ত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

রাজপাড়া থানার (ওসি) মাজাহার জানান, আমরা নিয়মিত দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান করছি।গত বুধবার দুই নারী দালালকে ধরা হয়েছে।দালালদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় কাজ করছি।দালালদের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছি আমরা।তবে রিপ্রেজেন্টিভদের নিয়ন্ত্রণ নেই! এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি।আমরা হাসপাতালে গেলে তারা বাইরে বের হয়ে যায়।

আমরা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেলে তারা আবার হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে যায়!
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, দালারা যেন হাসপাতালে না ডুকতে পারে সে বিষয়ে আমাদের আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেয়া আছে।দালালদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি।আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিষয়ে সপ্তাহের সোম ও বুধবার তাদের ভিজিটের দিন নির্ধারণ করা আছে।তারা হাসপাতালের বাইরে থাকে, ভেতরে না।সিসি ক্যামেরা দিয়ে আমরা সবসময় এ বিষয়ে নিয়ে কাজ করছি।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।