বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত রাজশাহীর গ্রামের নারীরা

আপডেটঃ ৬:৩১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ি, কাকনহাট উপজেলা,বিশেষ করে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সর্বত্রই  বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে সুসাদু কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম।মাসকলাই ও চালকুমড়ো দিয়ে কুমড়োর বড়ি তৈরিতে নারীদের ব্যস্ততা দেখা মেলে শীতের শেষের দিকে।মাসকলাই ভিজিয়ে রাখার পর সেটি দিয়ে ডালের আটা ও পাকা চাল কুমড়ো মিশিয়ে এসুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়।গ্রামীণ এলাকার ৯০ ভাগ মহিলা পালা করে কুমড়ো বড়ি দেয়ার কাজটি করে থাকেন।এই অঞ্চলের নারীরা এই বড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পূর্বে থেকে চাহিদা মতো চাল কুমড়ো পাকানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।এরপর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু খাবারের অংশ বিশেষ কুমড়ো বড়ি।

কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাষকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়।মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি।রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।
বড়ি তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলার পৌর এলাকার শ্রীমন্তপুর গ্রামের এক মহিলা জানান, বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়।এরপর চালকুমড়া ছিলে ভেতরের নরম অংশ ফেলে মিহিকুচি করে রাখতে হবে।তারপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।ধোয়া হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে।পরে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হবে।

এবার ডালের সঙ্গে কুমড়া মেশাতে হবে।খুব ভালো করে হাত দিয়ে মিশাতে হবে যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়।তারপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হবে।বড়ি তিন থেকে চার দিন এভাবে রোদে শুকানোর পর খাওয়ার উপযোগি হয়,পরে সেটি অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়।এ ছাড়াও শীতের সময় মূলত বড়ি তৈরি করা হয়।শীত মৌসুমের উপাদেয় খাবার কুমড়া বড়ি, নিজেরা খাওয়াসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো হয়।

এলাকার কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগররা জানান, কুমড়োর বড়ি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।রাত জেগে শীলপাটায় কেজি কেজি ডাল বাটা সহজ কাজ নয়।তবুও পেটের তাগিদে অনেক কষ্ট করে আমাদের কুমড়ার বড়ি তৈরি করতে হয়।শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে কিছু বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।