শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগী এলেই টিএইচওর ক্লিনিকে পরীক্ষার পরামর্শ

আপডেটঃ ১২:৪১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রোগ নির্ণয়ের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় সব ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু এসব ব্যবহার হয় না।রোগী আসামাত্রই পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সামনের ‘জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এটি বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিদিনের চিত্র।জানা গেছে, জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. আকতারুজ্জামান।তার বাড়ি বাঘা উপজেলার খায়েরহাট বামনডাঙ্গা গ্রামে।ঘুরেফিরে চার বছর ধরে তিনি এখানে কর্মরত।এখানে শুধু তিনি নন, তার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার কান্তা, মামা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল হান্নান এবং খালু স্বাস্থ্য সহকারী জালাল উদ্দিন কর্মরত।অভিযোগ, রোগী এলেই পরীক্ষার জন্য জননী ক্লিনিকে পাঠাতে চিকিৎসকদের বাধ্য করা হয়।ডা. আকতারুজ্জামান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা হওয়ায় চিকিৎসকরাও বাধ্য হন।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ডা. আকতারুজ্জামান আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসাবে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন।দুই বছর পর তাকে নাটোরে বদলি করা হয়।কিন্তু মাত্র দুই মাস তিনি সেখানে থাকেন।এরপর তদবির করে টিএইচও হিসাবে তিনি আবার বাঘায় আসেন।প্রায় দুই বছর ধরে তিনি এ পদেই রয়েছেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিক ঘিরে তিনি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।ডা. আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সব যন্ত্রপাতিই আছে।এরপরও এখানে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। রোগী এলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জননী ক্লিনিকে পাঠানো হয়।চার বছর আগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জমি কিনে ক্লিনিকটি নির্মাণ করেন ডা. আকতারুজ্জামান।তবে সাইনবোর্ডে প্রোপ্রাইটর হিসাবে লিখেছেন মা পারুল নাহারের নাম।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের ডা. আকতারুজ্জামান বিশেষ সুবিধাও দেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে না থেকে চিকিৎসকরা রাজশাহী শহরে থাকেন।হাসপাতালে তারা দেরি করে যান আবার আগেভাগেই বের হন।জননী ক্লিনিকে তারা রোগী পাঠান বলে টিএইচও ডা. আকতারুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না।তিনি নিজেও জননী ক্লিনিকে বসে রোগী দেখেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দুই বছর ধরে হিসাবরক্ষকের পদ শূন্য।এক নারী স্বাস্থ্য সহকারীকে হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন ডা. আকতারুজ্জামান।অভিযোগ, তার সব অনিয়মে সহায়তা করেন ওই সহকারী।সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কোয়ার্টারগুলোয় চিকিৎসকরা থাকেন না।এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।এছাড়া কমপ্লেক্সের পুকুর, আমগাছ, নারিকেল গাছ ইজারা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, ডা. আকতারুজ্জামানের কাছে তারা এবং হাসপাতালের চিকিৎসকরা জিম্মি।

সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য তারা তাকে অন্যত্র বদলি করার দাবি জানান।বাঘা পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।একই ধরনের অভিযোগ করেন পৌর প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু, বাজুবাঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফাতেমা মাসুদ লতা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, সব অভিযোগ ঠিক নয়।পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল নেই। তাই বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনতে বলা হয়।সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে তিনি নতুন এসেছেন।এসব অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।