বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

পশ্চিমঞ্চল রেলওয়ের প্রধান হিসাব কর্মকর্তা ও প্রধান হিসাব রক্ষকের অবৈধ লেনদেনর তদন্তে, তদন্ত টিম রাজশাহীতে

আপডেটঃ ১:১১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ভাবে বিপুল পরিমাণ টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমঞ্চল রেলওয়ের প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমানের বিরুদ্ধে।এছাড়া তার অবৈধ অর্থ ( কমিশনের টাকা)উত্তোলনে নিয়োজিত  প্রধান হিসাব রক্ষক কামালসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে , বাংলাদেশ রেলওয়ে সদর দপ্তর থেকে একটি তিন সদস্যের দল এরই মধ্যে রাজশাহীতে এসে বিষয় গুলি তদন্ত শুরু করেছে।তদন্ত টিমটি রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার দপ্তরে গত সোমবার থেকে ত কাজ শুরু করেছেন।এ দলের দলের আহ্বায়ক হলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) আনিসুর রহমান।তিনি গতকাল দৈনিক সমাচারকে বিষয়টি নিশ্চিট করেছেন।তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সদর দপ্তরে অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যোগদান করেন জামশেদ মিনহাজ রহমান।এর পর থেকে তিনি পশ্চিম রেলওয়ের অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা ও হিসাব কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে অধিকাংশ ফাইলপত্র নিজের কাছে নিয়ে নেন।তিনি নিজের মতো করে বিল ছাড়করণসহ এককভাবে নানা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে থাকেন।দিনের বেলা অফিস না করে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করতে থাকেন।সেই সঙ্গে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ,না করেই কয়েক কোটি টাকার বিল তিনি পাশ করে দেন।এর বাইরে অন্যান্য উন্নয়নকাজের বিপরীতে আরও কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।সবমিলিয়ে গত এক বছরেই তিনি কোটি কোটি টাকার অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

তাকে এই অবৈধ আয়ের সুযোগ করে দিন প্রধান হিসাব রক্ষক কামাল হোসেন।হিসাব রক্ষক কামাল হোসেন তার ঊর্ধ্বতন কে কমিশনের টাকা পাইয়া দেওয়ার সুযোগে ,তিনিও অর্থছাড়ের জন্য ঠিকাদারদের নিকট থেকে আলাদাএকটা পার্সেন্টেজ নিয়ে থাকেন।এমন অভিযোগ রেলওয়ে পশ্চিমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালিকদের।অন্যদিকে প্রধান অর্থ উপদেষ্টা  তার অধিনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইচ্ছে মতো বদলি বাণিজ্যেও মেতে ওঠেন।এ পর্যন্ত জামশেদ মিনহাজ রহমান অন্তত ১০ জনকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বা লালমনিরহাট বিভাগে বদলি করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ের এই দুটি বিভাগের উন্নয়নকাজের বিল পাশ হওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেই।কিন্তু সেটিও না করে গত এক বছরে ওই কর্মকর্তা নিজের ক্ষমতার অপব্যহার করে অন্তত শত কোটি টাকার বিল পাশ করে দিয়েছেন।একাজে যেমন তিনি লাভবান হয়েছেন ,অন্যদিকে প্রধান হিসাবরক্ষক কামাল হোসেন ও লাভবান হয়েছেন।এর বাইরে তিনি এ পর্যন্ত অনেকটা গোপনে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১৬ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন।

অথচ সরকারি নির্দেশে রেলওয়েতে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।সম্প্রতি প্রধান হিসাব রক্ষক কামাল হোসেন এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৬  লক্ষ টাকার বিল ছাড়ের জন্য  ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তার জন্য ১ শতাংশ এবং প্রধান অর্থউপদেষ্টার জন্য ১ শতাংশ উৎকোচ নেন।কিন্তু তিনি উপদেষ্টার ১% উৎকচের টাকা না দেই নিজেই তা আত্মসাৎ করেন।বিষয়টি প্রধান অর্থ উপদেষ্টা জানতে পারলে হিসাবরক্ষক কামাল অর্থ উপদেষ্টার  রুমে গিয়ে তার দুই পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান এবং এমন কাজ ভবিষ্যতে আর করবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেহাই পান।ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সকলেরই জানা।(ছবি সংরক্ষিত)।

সূত্র মতে, জামশেদ মিনহাজ রহমান সরকারি অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই কানাডায় চলে যান পরিবারসহ।ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শৃঙ্খলা আইনে তার চাকরি চলে যায়।প্রায় ১০ বছর পর দেশে ফিরে চাকরি ফেরত পেতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।শেষে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে রাজশাহীতে পশ্চিম রেলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন করা হয়।
এর বাইরে একাউন্টস টিটিদের নিকট থেকে মাসিক মাসোহারা আাদায়, বিভিন্ন দপ্তরের কাজ না করে অবৈধ বিল পাস করা, গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করা, রেলের সরকারি গাড়ি আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ব্যবহার করেন তিনি।আর তার এসব অপকর্মে সহায়তা করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাবরক্ষক কামাল হোসেন।

তাঁর মাধ্যমেই অবৈধ লেনদনও করেন জামশেদ মিনহাজ রহমান।তবে কামাল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়মের বাইরে তার কোনো কিছু করার নাই।উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা যেসব নির্দেশ দেন, কেবল সেবই আমি পালন করি।’অন্যদিকে একই দপ্তরের অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা গোলাম রাব্বানী বলেন, দপ্তরের সরকারি বিধি অনুযায়ী সব ফাইল ও সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা ও হিসাব কর্মকর্তার দপ্তর হয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে যাওয়ার কথা।কিন্তু প্রধান হিসাব কর্মকর্তা নিচ থেকে নিজের দপ্তরে সব ফাইল তুলে নেন।

ফলে দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড আমি কিছুই জানতে পারি না।মৌখিকভাবে এ নিয়ে কয়েক দফা প্রতিবাদ করেছি।কিন্তু ফল হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামশেদ মিনহাজ রহমান বলেন, আমি তদন্ত দল নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি।এসব অভিযোগ নিয়ে এখন কিছুই বলতে পারব না।আমাকে দুই-তিন সময় দেন, তখন কথা বলবো।’

জানতে চাইলে পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘ওই কর্মকর্তা হিসাব ক্যাডারের হওয়ায় তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক দপ্তর।এ কারণে এক্ষেত্রে আমার কিছু করণীয় নেই।তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।