বুধবার ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

এগ্রো কোম্পানির কারসাজিতে টমেটো চাষিরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে

আপডেটঃ ১২:২৮ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

যে টমেটো গত বছর জমিতে বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে।এবার সেই টমেটো চাষিরা বিক্রি করছেন মাত্র ৫ টাকায়।ভরা মৌসুমে টমেটো বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিচ্ছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শত শত টমেটো চাষি।এগ্রোর কারসাজিতে চাষিদের এ বিপুল ক্ষতি গুনতে হচ্ছে।চাষিদের অভিযোগ, সস, ক্যাচাপ ও অন্যান্য খাদ্য উপজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে রাজশাহীর টমেটো চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।অর্থকরী কৃষিপণ্য হিসাবে টমেটোর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও চাষিদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা দাবি করে কিছু এগ্রো কোম্পানি নিজেদের অবদান প্রচার করলেও মাঠের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন।পানির দামে টমেটো কিনে নিজেদের মুনাফা বাড়াতেই এসব কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে টমেটো চাষিদের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে ভুক্তভোগী একাধিক চাষি অভিযোগ করেছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে উৎপাদিত উন্নত জাতের টমেটোর অর্ধেকই উৎপন্ন হয় গোদাগাড়ীতে।দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হওয়া ছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলে প্রাণ এগ্রো কোম্পানির কয়েকটি কারখানা চালু হওয়ায় গত কয়েক বছরে গোদাগাড়ীতে টমেটোর আবাদ বেড়েছে।প্রাণ কোম্পানি চাষিদের কাছ থেকে চুক্তি ভিত্তিতে টমেটো কিনে গোদাগাড়ীর কাদিপুর, নাটোরসহ আরও কয়েকটি কারখানায় প্রক্রিয়া করে।আমের মৌসুমে এসব কারখানায় পাল্পও তৈরি করা হয়।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে প্রাণসহ কয়েকটি কোম্পানি এগ্রো কারখানা করায় চাষিরা চুক্তিভিত্তিতে টমেটো বিক্রি করে চাষাবাদের খরচ তুলেও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।তবে এবার এসব কোম্পানির পরিকল্পিত কারসাজিতে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা।

গোদাগাড়ীর চর আমতলা গ্রামের চাষি জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে আগাম জাতের টমেটো উঠেছে নভেম্বরের মাঝামাঝি।তখন তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে টমেটো চালান করেছেন মোটামুটি গড় মূল্যে।তবে মধ্য ডিসেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো রহস্যজনক কারণে দুই সপ্তাহ কেনা বন্ধ রাখেন।এ সময়ে হাজার হাজার মণ টমেটো জমি থেকে তুলে চাষিরা কারখানায় বিক্রি ও বাইরে চালানের অপেক্ষায় থেকেছেন।কিন্তু চুক্তি মোতাবেক কোম্পানিতে ওই সময় টমেটো দিতে পারেননি তারা। ফলে দামও পাননি।এখন পানির দরে কিনছে।চাষিদের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি কম দামে কেনার জন্যই এ কৌশল নিয়েছে।এতে চাষিরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বিঘা টমেটো আবাদে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা।প্রতি বিঘায় ফলন আসে ৪০ থেকে ৪৫ মণ।১৮ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলে এই পরিমাণ টমেটো থেকে চাষির ৫০ হাজার টাকার কিছু বেশি টাকা আসে।পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে চাষির ঘরে ওঠার কথা সাত থেকে আট হাজার টাকা।কিন্তু এবার অনেক চাষি খরচই তুলতে পারছেন না।অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ীর প্রাণ এগ্রো কোম্পানির ডিজিএম সারোয়ার হোসাইন বলেন, প্রাণ চুক্তিভিত্তিক টমেটো কিনে থাকে চাষিদের কাছ থেকে। চুক্তিতে বলা আছে, যখন যে দর থাকবে সেই দরে টমেটোর দাম পাবে চাষিরা।আর দালাল ফড়িয়া দিয়ে কারসাজি করে টমেটো কিনে চাষিদের ক্ষতি করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।