শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বছরের প্রথম মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ৪২৭ , নিহত ৪৮৪ জন

আপডেটঃ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

জানুয়ারিতে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২৭টি।এতে নিহত ৪৮৪ জন ও আহত ৬৭৩ জন।নিহতের মধ্যে নারী ৯২ ও শিশু ৪৭টি।১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৬৮ জন, যা মোট নিহতের ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।দুর্ঘটনায় ১৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ।যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।এ সময়ে চারটি নৌ দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত, চারজন আহত ও ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন।১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

দুর্ঘটনায় বাসের ৩১ জন যাত্রী, ট্রাকের ১৪, পিকআপের চার, ট্রলির এক, ট্রাক্টরের তিন, মাইক্রোবাসের দুই, প্রাইভেট কারের সাত, অ্যাম্বুুলেন্সের দুই, জিপের সাত, সিএনজির ১১, ইজিবাইক-অটোরিকশা-মিশুক-লেগুনা-টেম্পুর ৫৫, নসিমন- ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-বোরাকের ২১, টমটমের চার এবং বাইসাইকেলের আরোহী ছয়, মাটিকাটার ভেকু মেশিন গাড়ি শ্রমিক এক ও হ্যালোবাইক আরোহী একজন নিহত হয়েছেন।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৩টি (৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১০৭টি (২৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৯৭টি (২২ দশমিক ৭১ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৫৯টি (১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ১১টি (২ দশমিক ৫৭ শতাংশ) সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাগুলোর ৮৮টি (২০ দশমিক ৬০ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩৯টি (৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৪৪টি (৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪৭টি (১১ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং নয়টি (২ দশমিক ১০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে।১১২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২৮ জন।সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে।৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ জন।একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ৩১টি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত।সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায়, দুটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো: ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশ:- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে!

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।