রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

ভেজাল মদে সয়লাব রাজশাহী অঞ্চলের বাজার, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

আপডেটঃ ৬:১৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

মদ পানে ৩ ও ৪ জানুয়ারি রাজশাহীতে মদ পান করে ছয়জনের মুত্যু,বগুড়ায় ১২ জনের মৃত্যু,আরও কয়েকজন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।অতিরিক্ত মদ পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে বলা হলেও মূলত ভেজাল মদের বিষক্রিয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা দাবি করেছেন।এর আগে গত ৩ ও ৪ জানুয়ারি রাজশাহীতে মদ পান করে ছয়জনের মুত্যু ঘটে।জানা গেছে, বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে লাইসেন্সধারী মদের বারগুলো বছরের পর বছর ধরে বিদেশি মদ বিক্রি করে আসছিল।সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দারা এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারি শুরু করার পর বাজার থেকে বিদেশি মদ উধাও হয়ে গেছে।সাধারণ মানের যে মদ মাস তিনেক আগেও আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৫ থেকে ৬ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। এরপরও তা সহজলভ্য নয়।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বোতলে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, স্পিরিটের পাশাপাশি নেশাজাতীয় অন্যান্য পদার্থ মেশানো নকল মদে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।রাজশাহী অঞ্চলে বাজার সয়লাব ভোজাল মদে।ভেজাল মদ প্রস্তুতকারীরা ভালোমন্দের কথা বিবেচনা না করে শুধু বাড়তি লাভের আশায় এ ধরনের বিষাক্ত মদ দেদার বিক্রি করছে, যা পান করে সম্প্রতি মুত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।বাজারে বিষাক্ত মদের ছড়াছড়ির বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন।তারা জানান, সম্প্রতি একাধিক অভিযানে বিপুল ভেজাল মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এসব মদ বিষাক্ত কিনা এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এখন পর্যন্ত ভেজাল মদ তৈরির কোনো বড় কারখানার সন্ধান পায়নি।এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই তারা সন্দেহ করছে এসব ভেজাল মদ দেশের বাইরে থেকে আসছে।এদিকে, সীমান্তের বিভিন্ন চোরাপথে ভারতীয় মদ বাংলাদেশে আসছে।প্রায়ই তাদের হাতে এসব মদের ছোটবড় চালান ধরা পড়ছে।তবে তা আসল নাকি ভেজাল তা তাদের জানা নেই।সম্প্রতি ভারতের খ্যাতনামা দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজারের বাংলাদেশে ভেজাল মদ পাচার সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের শুল্ক গোয়েন্দারা নদিয়ার করিমপুরে একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে।

সেখান থেকে বিপুল ভেজাল মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়।এসব মদের একটি অংশ ভারতের বিহার, ঝাড়খন্ডে পাঠানো হলেও এর বড় অংশ বাংলাদেশে পাচার হয়।এসব মদের চালান সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ছে বলেও ওই প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে।আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয় ক্যারামেলের (চিনি পুড়িয়ে তৈরি করা রস) সঙ্গে রয়্যাল স্ট্যাগের মতো সস্তা দরের হুইস্কি, কখনো বা জল মেশানো স্পিরিট দিয়ে সেখানে জ্যাক ড্যানিয়েল, শিবাস রিগ্যাল ও বস্ন্যাক লেবেলের মতো নামি ব্র্যান্ডের স্কচ তৈরি করা হতো।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এসব ভেজাল মদ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের এ ব্যাপারে কোনো জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় তারা মাত্রাতিরিক্ত স্পিরিট ও ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিচ্ছে।ফলে তা পান করে অনেক সময় মৃতু্যর ঘটনা ঘটছে।এ ধরনের মদ পানে মৃতু্য না হলেও বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

গত ৩১ জানুয়ারি বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় এক বিয়ে বাড়িতে বিষাক্ত মদ পান করে বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ১২ জন মারা যান।বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল সূত্র তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এর আগে গত ৩ জানুয়ারি রাজশাহীতে মদ পান করে ৬ জনের মুত্যু ঘটে।এ ঘটনায় পুলিশ ভেজাল মদ তৈরির সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, নগরীর হোসেনীগঞ্জ এলাকায় ১ জানুয়ারি রাতে কয়েকজন মদ পান করেন।তাদের মধ্যে কয়েকজনের বমি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়।

সেখানে ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে পরদিন বিকাল পর্যন্ত ছয়জনের মৃতু্য হয়।এ ঘটনার পর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মহানগরীতে অবৈধ মদ উদ্ধারে অভিযান চালায়।এ সময় ভেজাল মদ প্রস্তুতকারী ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এবং তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় টিউনিং মদ (মিশ্রিত মদ) তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, রাসায়নিক ও সরঞ্জাম।গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশি মদের সঙ্গে রেক্টিফায়েড স্পিরিটিসহ কিছু উপকরণ মিশিয়ে বিক্রির কথা স্বীকার করেন।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।