শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শীতে জুবুথুবু রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস

আপডেটঃ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে রাজশাহী।গত রবিবার রাজশাহীতে বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এদিকে, তাপমাত্রা হঠাৎ করে নিচে নেমে যাওয়ায় শীতে আরো অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে জনজীবন।বিশেষ করে তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।নিবারণ করতে অনেককে খুড়কুটো জ্বালিয়ে রাখতে দেখা যায়।কিন্তু ছিন্নমূল বা খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে তেমন সাহায্য নিয়ে হাত বাড়ানোর তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব মানুষরা, প্রকৃতিতে শীতের আবহের মধ্যে কয়েকদিনের রোদের রাজত্ব শেষে আবারও একরকম জেঁকে বসেছে শীত।সারাদিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উঁকি দিচ্ছে সূর্য। কখনো কুয়াশার সঙ্গে বইছে শৈত্যপ্রবাহ।এতে রাজশাহীর তাপমাত্রা আরো কমেছে। জবুথবু অবস্থায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও শীতজনিত বিভিন্ন অসুখে রোগির সংখ্যাও বাড়ছে।

গত রোববার  রামেক হাসপাতালের ২৩, ২৪ ও ২৬ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এ ওয়ার্ডগুলোতে রোগির সংখ্যা বেড়েছে।২৬ নং ওয়ার্ডে বেডসহ পুরো ফ্লোরজুড়ে রোগি দেখা গেছে।শিশুদের থেকে বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ,শিশু ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ রুম হিটারের ব্যবস্থা করেছেন।তবে ফ্লোরে থাকা রোগিদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা গেছে।ফ্লোরে রোগি থাকায় যাতায়াতেও সমস্যাসহ চিকিৎসকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা  দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।জেলার তানোর উপজেলা  থেকে শীতজনিত সমস্যার জন্য দুই মাসের বাচ্চা নিয়ে এসেছেন আবু জাফর আলী।

তিনি জানান, তার বোনের বাচ্চাকে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে অ্যাডমিট করা হয়েছে।কয়েকদিন থেকে তারা হাসপাতালে আছেন।এখন বাচ্চার অবস্থা অনেকটাই ভালো।কিন্তু তার রোগি কোনো বেড পাননি।তাকে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগি ভর্তি হন।কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক এর উপরে রোগি ভর্তি হচ্ছে।এদের অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ।সর্দি-কাশি-জ¦র ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন বেশি। গত রোববার ৯৫ জন রোগি ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগেও রোগির সংখ্যা বেড়েছে।আগে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগি আসতেন।

গত কয়েকদিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ জনে।শনিবার ৫০০ জন রোগি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, কয়েক দিন থেকে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।কুয়াশার প্রকোপটাও বেশি।এতে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগি বাড়ছে।ঠান্ডাজনিত সমস্যা যেমন: হাঁপানি, সর্দি-কাশি-জ¦র, ডায়রিয়াসহ এলার্জিজনিত সমস্যা নিয়ে রোগি ভর্তি হচ্ছেন।হাসপাতালের ১০, ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড ও ফ্লোরে রোগি পূর্ণ হয়ে গেছে।তিনি আরো জানান, শিশু ওয়ার্ডগুলোতে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করা হচ্ছে।কেননা শিশু ও বৃদ্ধরাই ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বেশি আসছেন।আর এদের বেশ কিছু লক্ষণ করোনার লক্ষণের সঙ্গে মিলছে।গতদিন প্রায় ৭৫ জনের করোনা টেস্ট করানো হয়েছিলো।কিন্তু কারো করোনা পজিটিভ আসে নি।এবং এ পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে কোন শিশু বা বৃদ্ধ মারা যায় নি।

তিনি আরো জানান, সকালে সন্ধ্যায় কুয়াশা পড়ছে।দিনের বেলায় রোদেরও তেমন দেখা নেই।এ সময়টায় সকালে শিশুদের দেরি করে ওঠাতে হবে।ঠান্ডা লাগতে পারে এমন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।আর কোনো ধরনের সমস্যা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে, রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এএফএম গাউসুজ্জামান জানান।রোববার  সকাল রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রিডিগ্রি সেলসিয়াস।যা শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।এর আগে চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ২৯ ডিসেম্বর ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উল্লেখ্য,  রবিবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটে থার্মোমিটারের পারদ নেমেছে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।