রবিবার ৭ই মার্চ, ২০২১ ইং ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর সম্প্রসারণে পাঁচ মাসেই ব্যয় বাড়ল ১২ কোটি টাকা

আপডেটঃ ৬:১২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ‘যাত্রী টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও নবরূপায়ণ প্রকল্পে’ কাজ শুরুর পাঁচ মাসেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।গত ৪ জানুয়ারি ৭০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় ৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুমোদন দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।কোন কোন খাতে এ অর্থ খরচ করা হবে, তা উল্লেখ না করে এ-সংক্রান্ত চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘প্রকল্পের অনুকূলে ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।’ তবে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল র্কর্তৃপক্ষে (বেবিচক) বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘শাহ মখদুম বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে যাত্রী টার্মিনাল, রানওয়েসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজ চলছে।এর মধ্যে যাত্রী টার্মিনাল দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেট কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পে নয়ছয় করার সুযোগ নেই। স্বচ্ছভাবে সবাইকে কাজ করতে বলা হয়েছে।এরপরও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৪ সালের ১ অক্টোবর রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায় ১৬২ একর জমির ওপর শাহ মখদুম বিমানবন্দর করা হয়।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৪ ফুট ওপরে অবস্থিত এ বিমানবন্দরে ৬ হাজার ফুট রানওয়ে রয়েছে।এখানে ২০১০ সাল থেকে গ্যালাক্সি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি এবং ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বৈমানিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।এর বাইরে মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী নামে কানাডার তৈরি ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ, ইউএস-বাংলা ও নভো এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।দীর্ঘদিন পর রানওয়ে সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড স্টেশন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।যাত্রী টার্মিনাল দৃষ্টিনন্দন করতে গত বছরের আগস্টে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক কয়েক দফা বৈঠক করে।এরপর প্রতিমন্ত্রীসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কোটি টাকার সংস্কারকাজ করা হয়।২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।এরপর গত বছরের ২০ আগস্ট বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও নবরূপায়ণ প্রকল্পের জন্য ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বাজেট পাস করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।এর মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বিমানবন্দরের যানবাহনসহ অন্যান্য কাজে ধরা হয়।

এই বাজেটের মধ্যে প্রকল্পের জন্য ১৫০ জনবল, প্রশাসনিক ব্যয় (স্টেশনারি, প্রিন্টিং, বাইন্ডিং, সম্মানী, ফটোকপি, যানবাহনের জ্বালানি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রমুখ), প্রারম্ভিক ও সাধারণ অংশসমূহ, ২১০০ বর্গমিটার টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ, ১৭০০ বর্গমিটার বিদ্যমান টার্মিনাল ভবন নবরূপায়ণ, ২৫০ বর্গমিটার কন্ট্রোল টাওয়ার, ১৫০ বর্গমিটার সাব-স্টেশন ভবন, কারপার্ক, অ্যাপ্রোচ রোড, ড্রেনেজ কাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক যন্ত্রাবলি সরবরাহ-সংস্থাপন কাজ, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রাবলি সরবরাহ-সংস্থাপন কাজ, ৩ সিটের লাউঞ্জ ফার্নিচার, ১টি ডাবল কেবিন পিকআপ ও ২টি মোটরসাইকেল, ফিজিক্যালি কনটিনজেন্সি (১.৫ শতাংশ), প্রাইস কনটিনজেন্সির (২য় ও ৩য় বছরের ব্যয়ের ৫ শতাংশ) জন্য বাজেট ধরা হয়েছে।আর ৭০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয় যাত্রী টার্মিনাল সম্প্রসারণের উন্নয়নকাজে, যা আগামী ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু গত ৪ জানুয়ারি হঠাৎ এ প্রকল্পের ব্যয় আরও ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বাড়ানো হয়।বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।এতে বেবিচকের প্রকৌশলী শাখার কতিপয় কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে।অথচ প্রথম বরাদ্দের অর্থেই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করা যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।রানওয়ে ছোট হওয়ায় প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট ওঠানামা করছে।তবে রানওয়ে বাড়াতে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।