মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাকিবদের ১৮৬-র পর ডি ভিলিয়ার্সদের ঝড়

আপডেটঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ‘শিশির’ খুব একটা ভাবনায় প্রভাব ফেলেনি। রংপুর রাইডার্সের বিশ্বখ্যাত চার তারকা ব্যাটসম্যানকে নির্ভার ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না, এমন চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। বড় স্কোর গড়তে পারলে গেইল-রুশোদেরও চাপে পড়তে হয়। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা বড় লক্ষ্যই এনে দিলেন। জবাব দিতে নেমে ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে রংপুর চাপেও পড়ে। চাপটা সরিয়ে দিতে ডি ভিলিয়ার্স-হেলসরা চড়াও হয়েছেন। জয় উঠেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

ঢাকার বড় সংগ্রহের মূল কৃতিত্ব রনি তালুকদারের। তাঁর ৩২ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেছেন, পেয়েছেন এবারের বিপিএল নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। রনি তালুকদার ছিলেন মূল কান্ডারি। সুনীল নারাইন কিংবা অধিনায়ক সাকিব যখন নিজেদের ইনিংসের শুরুটা করেও দ্রুত আউট হয়ে গেলেন, আন্দ্রে রাসেলও ফিরলেন অল্পতেই; রংপুরের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বীরের মতো পাল্টা দিয়ে গেলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে সব সময়ই দুর্দান্ত এই ব্যাটসম্যান।

এই ইনিংস খেলেও রনি আফসোস করতে করতেই ফিরেছেন। চার ওভার বাকি থাকতে ফিরেছেন, পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করতে পারলে ঢাকার সংগ্রহটা হয়তো আরও বড়ই হতো। কিন্তু ফিফটি করেই ছক্কা মারতে গিয়ে রনি ধরা পড়েন রংপুরের ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যালেক্স হেলসের হাতে। লং অফে দাঁড়িয়ে হেলস বলের ফ্লাইট মিস করেও এক হাতে ক্যাচটি নিয়ে মনে করিয়ে দিলেন, এবারের বিপিএল কিন্তু দুর্দান্ত সব ক্যাচ ধরায় সেরা এক আসর হয়েই থাকবে।’

সাকিব নিজেকে শাপ-শাপান্ত করতেই পরেন। শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। বল তাঁর ব্যাটের একেবারে ঠিক জায়গায় লাগছিল। মাশরাফির একটি ওভারে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে শুরু করা সাকিব শেষ পর্যন্ত কী করলেন! ফরহাদ রেজার বলে স্কুপ মারতে গিয়ে স্টাম্প ছত্রখান তাঁর। সাকিব যদি রনির সঙ্গে আর কিছুক্ষণ থাকতেন, তাহলে ঢাকা রংপুরকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। কিন্তু সেটি হয়নি।

ঢাকার শুরুটা ছিল কিছুটা ধীরলয়ের। হজরতউল্লাহ জাজাই আর সুনীল নারাইন রংপুরের বোলারদের একটু দেখেশুনেই খেলতে থাকেন। ৩৫ রানের ওপেনিং জুটিটি এসেছে ৩১ বলে। জাজাই ১৮ বলে ১৭ রানের ওয়ানডে-সুলভ ইনিংস খেলে ফরহাদের বলে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ মিঠুনকে ক্যাচ দেন। তাঁর বিদায়ের পর একটু হাত খুলে খেলছিলেন নারাইন। ১৯ বলে ২৮ করে দারুণ এক ক্যাচ হন ফরহাদ রেজার। ঢাকার প্রথম পঞ্চাশ আসে ৬.৩ ওভারে। তবে শতক পূর্ণ হয় ১০.৪ ওভারের মধ্যেই।

রনি আর আন্দ্রে রাসেলের মধ্যে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৪ রান আসে ২৮ বলে। ১৩.২ ওভারে মাশরাফি এই জুটিটি ভাঙেন রাসেলকে ১৪ রানে আউট করে। রাসেলের ক্যাচটিও নিয়েছেন ফরহাদ রেজা।
রাসেল ফেরার পর ফেরেন রনি। এরপর শুভাগত হোম চৌধুরীও বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি। শহীদুল ইসলামের বলে বোল্ড হন। তবে চোট কাটিয়ে ফেরা কাইরন পোলার্ড ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে ঢাকার ইনিংসকে চ্যালেঞ্জিং চেহারা দেন। তিনি ২৩ বলে ৩৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।

রংপুরের সেরা বোলার ফরহাদ রেজা—৩২ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। এর সঙ্গে আছে দুটি ক্যাচও। মাশরাফি, শফিউল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, শহীদুল নিয়েছেন একটি করে।