বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীতে ছিনতাই মামলার একদিনে তদন্ত সম্পন্ন

আপডেটঃ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।অথচ নূরে হাবিব ডুজন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন, তার ছয় লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে।তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো সে মিথ্যা বলেছেন।এক দিনের মধ্যেই পুলিশ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে।এখন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা মাত্র।নূরে হাবিব নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকার বাসিন্দা।তার বাবার নাম মৃত হাবিব উদ্দিন।১১ জানুয়ারি সোমবার বিকালে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার টাকা ছিনতাই হয়েছে।বোয়ালিয়া থানা থেকে সামান্য দূরেই মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তার টাকার ব্যাগ নিয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার সময় তিনিও শপিং ব্যাগে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন।রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।নূরে হাবিব মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি শাখা থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।পুলিশ ব্যাংকটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নূরে হাবিবকে পায়নি।এমনকি ব্যাংক থেকে কোন টাকা তোলা হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নূরে হাবিবের ব্যাংক হিসাবে আছে মাত্র ৮৩ টাকা।এতেই প্রমাণিত হয় যে নূরে হাবিবের কথা মিথ্যা।

এরপর নূরে হাবিবকে থানায় দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।তিনি লিখিতভাবে পুলিশকে জানান, তার বড় ভাই রওশন আলী আমেরিকা প্রবাসী।তার ডিপিএস থেকে তিনি ছয় লাখ টাকা তুলে খরচ করে ফেলেছেন।প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার শ্যামলী শাখায় তার ডিপিএস ছিল।সে ডিপিএস থেকে বিভিন্ন সময় টাকা তোলার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ছয় লাখ টাকা কেটে নিয়েছে। তাই সে ভাইকে না জানিয়ে টাকা খরচ করে দেয়ায়, তিনি ছিনতাই নাটক সাজান।

আরএমপির মুখপাত্র জানান, এক দিনেই মামলাটির তদন্ত শেষ হয়েছে।এখন আদালতে এই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করায় বাদীর বিরুদ্ধেই পেনাল কোড-১৮২ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘বাদীর কথাবার্তা শুনে আমার সন্দেহ হয়।আমি ১০ মিনিটেই বুঝে ফেলি ঘটনা ভিন্ন।বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করি।এর মাধ্যমেই রহস্য উন্মোচন হয়েছে।২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।