বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

জীবন যুদ্ধে হার না মানা, পঙ্গু জাহিদের জীবন কাহিনী

আপডেটঃ ৮:০৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১০, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

হার না মানা জীবন যুদ্ধের সৈনিক জাহিদুল ইসলাম পলাশ।সে রাজশাহী ফুডপান্ডা জোনের একজন ডেলিভারি ম্যান।তাঁর দুটি পা নেই অথচ স্বাভাবিক মানুষের মতোই লড়াই করে বাঁচতে চায় সে।দুই পা না থেকেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে লড়ে যাচ্ছেন তিনি।মহানগরী রাজশাহী কাজলা কেডি ক্লাব এলাকার বাসিন্দা পলাশ।বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২০১০ সালে দুটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঢাকার বার্ন হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ছয় মাস।পলাশের বাবা নাজের আলী জানান, তাদের পারিবারিক অবস্থা সচ্ছল না।দিনমজুর করে সংসার চলে।চিকিৎসাধীন অবস্থায় এলাকার বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তিরা সাহায্য করেছিলেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সন্তান, তার পা দুটি হারান।

পলাশ জানান, ম্যাটরো পলেটকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট থেকে এসএসসি ৪.৪১ এবং এইচএসসি ৩.৯৬ পেয়েছেন।এখন অ্যাডমিশন পরীক্ষা দিবেন। ফুডপান্ডা জোনের তার কাজ শুরু এক সপ্তাহ থেকে।তিন চাকার ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার করে ভোক্তার চাহিদা মতো খাবার তিনি ডেলিভারি করেন।সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই সে।পলাশ আরো জানায় যে শুধুমাত্র তিনি, তিন মাস পরপর সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পান।

তিনি আরও জানান,সে ক্রিকেট খেলেন (ড্রাস ক্যাটাগরি) থেকে।২০২০ সালে সারা বাংলাদেশ মিলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তারা।পলাশ নিজের উদ্যোগে এগিয়ে যেতে চান।এখানে কোনো বেতনভুক্ত নন।কিন্তু পরবর্তীতে বেতনভুক্ত হবেন, এই প্রত্যাশা তার।এছাড়া সে নিজেই ‘আশার আলো প্রতিবন্ধী উন্নয়ন’ নামে একটি সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।সহযোগিতা করছেন রাজশাহী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কল্পনারানি ভৌমিক।সবধরনের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করবেন ভবিষ্যতে।

কল্পনা রানী ভৌমিক জানান, পলাশ একজন মেধাবী শিক্ষার্থী।ছেলেটা বুদ্ধিমান।নিজের জন্য না, এলাকার প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে চান।প্রতিবন্ধীদের যে সকল অভিভাবক সচেতন না, তাদের নিয়েও পলাশ কাজ করতে চান।করোনাকালেও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করেছেন পলাশ।সে সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা পেলে, সে এলাকার প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা ভালো কিছু করতে পারবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।