শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

পশ্চিমাঞ্চল রেলে কোচ সংকটে ৫ আন্তঃনগর ট্রেন

আপডেটঃ ১২:৪২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১০, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

এগারটি করে বগি নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও রেলওয়ে পশ্চিম রাজশাহীতে ট্রেনের কোচ সংকটের কারনে গত কয়েক মাস ধরে  ৫টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ১১ টি কোচের বদলে ,৬টি করে কোচ নিয়ে চলাচল করছে।এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে, অন্যদিকে রেলওয়েও রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদী থেকে রহনপুরগামী আন্তঃনগর কমিউটার এক্সপ্রেস, রাজশাহী – ভাঙ্গা -ফরিদপুরগামী মধুমতি এক্সপ্রেস, রাজশাহী – টুঙ্গিপাড়া -গোবরা গামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, রাজশাহী – ঢালারচর গামী ঢালারচর এক্সপ্রেস, ও রাজশাহী-চীলাহাটির মধ্যে চলাচল কারী আন্তঃনগর তীতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি চলাচল করছে ৬টি করে বগি নিয়ে।এসব ট্রেন শুরু থেকেই  ৯ থেকে ১১ টি কোচ  নিয়ে চলাচল করতো।

অথচ কোচ সংকটের অজুহাতে ট্রেনগুলির কোচ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।অথচ ট্রেনগুলোতে ১১ বগি নিয়ে চলাচলের সময়ই প্রতিদিন থাকতো উপচে পড়া ভিড়, সেখানে অর্ধেক বগি কমিয়ে দেওয়ায় এসব ট্রেনের যাত্রী সাধারণদের নিদারুণ কষ্টে ও চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।এছাড়া এই ট্রেন গুলোর কোচ সিরিয়ালের ধারাবাহিকতাও মানা হচ্ছেনা।সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত: ক, খ, গ, ঘ…এমন সিরিয়ালে কোচ গুলি সাজান থাকতো।কিন্তু বর্তমানে এসব ট্রেনগুলিতে  ‘ক’ এর পরে ‘ঙ’ বগি, আবার ‘খ’ কোচের পরে ‘জ’ বগি সিরিয়াল রাখা হয়েছে।এছাড়া সাধারণত: চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই এক বগি থেকে অন্য বগিতে যাতায়াত করার ব্যবস্থা ছিল।কিন্তু এসব ট্রেনের কোনটিতেই সে ব্যবস্থা নেই।গার্ড ব্রেক ট্রেনের পেছনে বা সামনে থাকার যাত্রীরা ইচ্ছে করলেও ট্রেনে ওঠার পর তাদের নির্দিষ্ট আসন খুঁজে নিজের আসনে বসবার জন্য চলন্ত ট্রেনে এক বগি থেকে অন্য বগিতে যেতে পারছেনা।

যাত্রীদের অভিযোগ ,আগে টিকেট না কাটতে পারলেও জরুরী প্রয়োজনে ট্রেনে উঠে টিটিইর কাছ থেকে টিকিট কেটে আসন নিয়ে চলাচল করা যেতো।কিন্তু এখন কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে ট্রেনে উঠলেও আসন না পেয়ে ঠাসাঠাসি করে  দাঁড়িয়ে ভ্রমন করতে হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনে হকারদের বিড়াম্বনা তো আছেই।এ অভিযোগ এসব ট্রৈনে চলাচল করা নিয়মিত নিয়মিত সকল যাত্রীর।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলে কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে, বগি সংকটের এটিও অন্যতম কারন।সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে রাজশাহী-পঞ্চগড় গামি নতুন ট্রেন বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, , মধুমতি, টুঙ্গিপাড়া, ঢালারচর,।

তীতুমীর, বরেন্দ্র একসপ্রেস ট্রেন থেকে বগি কেটে এনে।নতুন ট্রেনে পুরনো ট্রেনের বগি কেটে যুক্ত করা হয়েছে।ছাড়াও বিভিন্ন ট্রেনের বগি মেরামতের জন্য কারখানায় মাসের পর মাস পড়ে থাকায় এসব বগি সংকটহয়েছে বলে জানান রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা।পশ্চিমাঞ্চল রেল সূত্রে জানা গেছে,রাজশাহী-ভাঙ্গার দুরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার, রাজশাহী-গোবরার দুরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, ঢালারচর-রাজশাহীর দুরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার, ঈশ্বরদী-রহনপুরের দুরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার, রাজশাহী-চীলাহাটির দুরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার।এত দীর্ঘপথ ট্রেন যাত্রা করতে গিয়ে ট্রেন যাত্রীরা প্রতিদিন দুর্ভোগে নাকাল হচ্ছেন অথচ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ  কোচ সংকট নিরসনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা ও উদাসীন হয়েছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন) মমতাজ উল ইসলাম বলেন, নতুন ট্রেন চালু হলেও নতুন কোচ আমদানি না করা ও কারখানার সক্ষমতা না থাকার কারনে মেয়াদ উত্তির্ন কোচগুলো সময়মত মেরামত না হওয়ার কারনে, কোচ সংকটে পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেল।এ সংকট সহসা লাঘব হওয়ারও কোন লক্ষণ নেই।

রেলওয়ে পশ্চিমের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা জামশেদ মিনহাজ রহমান বলেন ,কোচ সংকটের কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে রেল। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য  মেয়াদ উত্তির্ণ কোচ বা বগি দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছেনা। তবে কোচ মেরামত হলে এই সংকট নিরসন হবে  বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।
রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. নাসির হোসেন বলেন, কোচ পুরনো হওয়া ও মেয়াদ না থাকায় কোচগুলো কারখানায় রয়েছে, এ কারণে কম কোচ দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কোচ সংকট কমিয়ে পরিপূর্ণ কোচ দিয়ে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করার।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একাধিক বুকিং সহকারী জানান‌,  রেলের কোচ সংকটের কারণে রাজস্ব আয়  কমে গেছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।