মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

ট্রেন দূর্ঘটনা প্রতিরোধে গেট কিপারদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ রেল কর্তৃপক্ষের

আপডেটঃ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৯, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনের দূর্ঘটনা প্রতিরোধে লেভেল ক্রসিং গেটে নিয়োজিত গেটকিপারদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।বিভাগীয় প্রকৌশলীদের উদ্যোগে দুই অঞ্চলের ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং রাজশাহী-রংপুরসহ বিভিন্নস্থানে দফায় দফায় প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।সারাদেশে ৩০১৮ কিঃমিঃ রেলপথ রয়েছে।এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের ১৬০১ কিঃমিঃ পূর্বাঞ্চলে রয়েছে ১৪১৭ কিঃমিঃ রেলপথ।পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর চীফ ইঞ্জিনিয়ার আল ফাত্তা মো. মাসুদুর রহমানের অধিনে মোট লেভেল ক্রসিং গেট আছে ১৪৭৯টি এবং পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের চীফ ইঞ্জিনিয়ার সুবক্তগীনের আওতায় সিগনাল এবং ট্রাফিক বিভাগসহ সর্বমোট লেভেল ক্রসিং গেট আছে ৮ শতাধিক।

গেটকিপারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গেট কিপারদের দায়িত্ব-কর্তব্য, দূর্ঘটনা রোধে করণীয়, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার, লেভেল ক্রসিং গেটে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বিধি প্রভৃতি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ ইঞ্জিনিয়ার সুবক্তগীন বলেন,গেটকিপারগণ লেভেল ক্রসিং গেটের নিরাপত্তা বিধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।তিনি জানান গেটকিপারদের সামান্য ভূলের কারনে মারাত্নক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।দূর্ঘটনায় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে চীফ ইঞ্জিনিয়ার গেটকিপারদের সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, গেটকিপারদের উন্নত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, লেভেল ক্রসিং গেটে টেলিফোন সংযোগ প্রদানসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।এছাড়া গেটকিপারদের ৩ হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর ও কথা বলেন।চীফ ইঞ্জিনিয়ার জানান, লেভেল ক্রসিং গেটের তুলনায় গেটকিপারের সংখ্যা কম রয়েছে।দূর্ঘটনা প্রতিরোধে গেটকিপার নিয়োগের দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা বর কোনেসহ ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।আহত হয় কয়েকজন।গত বছরের ২২ ডিসেম্বরের ,ফুলবাড়িতে মালবাহী ট্রেনের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষে একজন গেট কিপার নিহত হন।এসব মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত।পশ্চিমাঞ্চলের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আল ফাত্তা বলেন,লেভেল ক্রসিং গেটে গেটকিপারদের অদক্ষতার কারণে ট্রেন দূর্ঘটনা ঘটে থাকে।আমরা বেশ কয়েক মাস যাবত গেটকিপারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।তাদের কর্মদক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ট্রেন দূর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

রেলওয়ের হিসেব মতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে গত ২৮ মাসে ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।এর মধ্যে রেলক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেন-গাড়ি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন।বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য যানবাহন চালকদের অসচেতনতাকেই দায়ী করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিটি।

পশ্চিমাঞ্চলে ১৪৭৯টি লেভেল ক্রসিং গেট আছে।২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা বর কোনেসহ ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং শুধু সিরাজগঞ্জেই নয়, প্রায় সারা দেশের রেলপথেই বিদ্যমান।বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের ৮০ শতাংশের বেশি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।আর এসব লেভেল ক্রসিং দিয়েই প্রতিদিন পার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন।স্বাভাবিক কারণে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।অকালে ঝরে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ।ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ রেলপথ।রেলপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের রেলপথে ২৪৯৭টি লেভেল ক্রসিং আছে।এর মধ্যে ১০৮৫টি অবৈধ।যেখানে কোনো ‘গেট বেরিয়ার’ বা ‘গেটকিপার’ নেই।আর বাকি ১৪১২টি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ৪৬৬টিতে আছে গেট বেরিয়ার ও গেটকিপার।

অর্থাৎ ৯৪৬টি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটকিপার বা বেরিয়ার নেই।সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে বৈধ ও অবৈধ ২০৩১টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিতে।তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে ৪ হাজার ৮৮৮টি ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০২ জন ও আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০ জন।এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটেছে লেভেল ক্রসিংয়ে।সেই হিসাবে এসব ক্রসিংয়ে প্রায় ৩২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ৮৪০ জন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।