শনিবার ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আপডেটঃ ১২:৩১ অপরাহ্ণ | মার্চ ২০, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক:

১৬ মার্চ ২০১৯ জঙ্গীবাদ দমনে আমরা সফল তবে তৃপ্ত নই , জঙ্গীবাদ-সহিংসতা এক ধরনের মতবাদ। এই মতবাদ মোকাবিলার পাল্টা একটি মতবাদ নিয়ে এগুতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুুসলিম বিদ্ধেষী যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা নিরসনে ইসলামী চিন্তাবিদদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। একই সাথে আন্তধর্মীয় সংলাপ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ দমনে আমরা সফল হয়েছি, তবে তৃপ্ত হয়নি। নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর বাংলাদেশে উগ্রবাদ প্রতিরোধে আরও বেশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ দেশে জঙ্গীবাদের যাতে কোনো ধরনের স্ফূরণ না ঘটে সে বিষয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদা সতর্ক রয়েছে। সর্বশেষ উগ্রবাদী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে যাবে। ১৬ মার্চ শনিবার এফডিসিতে ‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে র‌্যাবের মহাপরিচালক জনাব বেনজীর আহমেদ এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সম্প্রীতি প্রকল্প। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আইরিন বাশার রিফাত।


‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ী লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বিতার্কিকদের ক্রেস্ট হাতে র‌্যাবের মহাপরিচালক জনাব বেনজীর আহমেদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সাথে দেখা যাচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গীবাদে বিস্তারে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকলেও আমরা তা মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছি। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। নিউজিলান্ডে মসজিদে হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজট না থাকা স্বত্তে ও ঘটনা ঘটার ৪০ মিনিট পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। প্রয়োজন হলে জঙ্গীদমনে নিউজিলান্ডকে যে কোনো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, জঙ্গীবাদ ও সহিংসতা বিস্তারে অন্যতম কারণ তথ্যপ্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। জঙ্গীবাদ ও সহিংসতা নিরসনে ভার্চুয়াল ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে আমাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে সরকারের নীতি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ বিরোধীতা এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে।


‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় র‌্যাবের মহাপরিচালক জনাব বেনজীর আহমেদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ-এর সাথে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডে উগ্রবাদী এ শেতাঙ্গ ব্যক্তি কর্তৃক জুম্মার নামাজের সময় মুসলমানদের উপর এই সহিংস-উগ্রবাদীর হামলার পর আমরা কোন বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বলতে শুনিনি খ্রিষ্টান বা শেতাঙ্গ ট্যারোরিষ্ট। কিন্তু কোন উগ্রবাদী মুসলিম এ ধরনের কাজ করলে সারাবিশ্বজুড়ে মুসলিম ট্যারোরিষ্ট অথবা ইসলামি টেরোরিষ্ট হিসেবে আঙ্খায়িত করা হতো। মসজিদে হামলাকারী ঐ ব্যাক্তির মধ্যে মুসলিম বিরোধী প্রতিশোধ প্রবণতা কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মত দেশে এ ধরনের ছোট-বড় র্দুভাগ্যজনক কোন ঘটনা ঘটলেই তথাকথিত রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। ভ্রমনের উপর নিষধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শত নিরাপত্তা প্রদান করার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল করা হয়। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় আমরা মনে করি আমাদের দেশ অনেক নিরাপদ। অতীতে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটা ছাড়া বর্তমানে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাব, পুলিশ, কাউন্টার ট্যারোরিজম ইউনিট বাংলাদেশকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে। এখানে কোন সহিংস উগ্রবাদ প্রশ্রয় পাচ্ছে না। জঙ্গিবাদের কোন ঠাই বাংলাদেশে নাই।

প্রতিযোগিতায় দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসাকে পরাজিত করে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারি বিতার্কিকদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক মাজহার মোশাররফ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, এবং ড. এস এম মোর্শেদ।

ক্যাপশন:১
‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ী দল লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বিতার্কিকদের ক্রেস্ট প্রদান করছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক জনাব বেনজীর আহমেদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ipcsnews/ জাহিদ রহমান, পরিচালক, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি