শনিবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে বহুমাত্রিক উন্নয়ন নিয়ে, মডেল রূপে সৌন্দর্যের শহর রাজশাহী মহানগর

আপডেটঃ ৩:১৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

সুপ্রশস্ত রাস্তা, শিল্পীর কারুকাজ, সবুজের নান্দনিকতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এক শৈল্পিক রূপসহ বহুমাত্রিক নাগরিক সুবিধায় অত্যাধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে উঠছে রাজশাহী নগরী।মেট্রোপলিটন এ শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই এগিয়ে চলছে উন্নয়ন কাজ।নগর উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও কর্মকৌশলে বদলেছে নগরীর পুরো চিত্র।করোনা পরিস্থিতিতেও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে মুজিববর্ষের নতুন রূপ পেয়েছে ‘গ্রিন, ক্লিন ও হেলদি’ খ্যাত এ মহানগরী।রাসিক সূত্রে জানা যায়, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথমবার মেয়র থাকাকালে সবুজের মহানগরীতে পরিণত করাসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব ঠেকাতে, শহরের রাস্তা ও ফুটপাত বাদে ফাঁকা জায়গাগুলো সবুজ গাছে ঢেকে দিতে জিরো সয়েল প্রকল্প গ্রহণ করেন।বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবুজ ও বিচিত্র ফুলের সমাহারে নতুন রূপ পেয়েছে নগরী।

মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ, উপশহর মোড় থেকে সোনাদিঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প ও ৩০ টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্পে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র বদলেছে বদলাচ্ছে।এতে খুশি নগরবাসী।নগরীর অটোচালক সুরুজ ইসলাম জানান, নগরীর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে তাদের গাড়ি চলাচলে অনেক সুবিধা হয়েছে।

আগের চেয়ে রাস্তাঘাট বড় হওয়ায় ও নগরীর ভেতরের রাস্তাগুলোও নতুন রূপ পাওয়ায় যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি কমেছে, তেমননি তারাও গাড়ি চালিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।এজন্য তিনি রাসিককে ধন্যবাদ জানান।নগরীর শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়।কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ প্রস্তুত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক।যেখানে রাজশাহীর প্রায় ১৪ হাজার কর্মস্থান হবে।এরইমধ্যে হাইটেক পার্কের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে কাজে নেমেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।এতে আশাবাদি হচ্ছেন, রাজশাহীর শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা।রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থী বদরুদ্দোজা জানান, তিনি এরই মধ্যে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্সের কাজ শিখেছেন।

আন্তজার্তিক প্রযুক্তি বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকতে নিজেকে আরো দক্ষ করে তোলার প্রচেষ্টায় আছেন।আর তাদের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।রাজশাহীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটনসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সপার স্টেশন নির্মাণ, মহানগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, মহানগরীর সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, মহানগরীর সড়কবাতি ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকায়ন, শ্রীরামপুর পদ্মানদীর তীরে বঙ্গবন্ধু ইকো পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, শেখ রাসেল সায়েন্স সিটি ও সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম, স্বাস্থ্য কার্যক্রম, আলোকায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, শিল্পায়ন, যানজট কমাতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, পিপিপির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, ডিজিটাল কার্যক্রম, শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম, রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কিছু বাস্তাবায়ন ও চলমান থাকায় এরইমধ্যে মডেল নগরী পরিচিতি পাচ্ছে এ শিক্ষা নগরী।

রাজশাহী নগরীর সৌন্দর্য ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেখতে অন্য জেলাগুলো থেকে অনেকেই ঘুরতে আসছেন।প্রশংসামূলক অনুভূতি জানিয়ে রাজশাহীকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করার কথাও বলছেন।গাইবান্ধা পৌরসভার বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎ জানান, তিনি রাজশাহীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ।গ্রিন, ক্লিন ও হেলদি সিটি খ্যাত রাজশাহী নগরীকে অন্যান্য পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন মডেল হিসেবে নিয়ে অনুসরণ করতে পারে।তিনি আরো বলেন,গত কিছুদিন আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ব্রাকের একটি প্রতিনিধি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন।সেখানে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন।সেখানে রাজশাহীকে মডেল হিসেবে নিয়ে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার জানান, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও নির্দেশনায় নগর জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে।নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, সবুজায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নগরীর চেহারাই পাল্টে গেছে।রাজশাহী শান্তির শহর ও উত্তম বাসযোগ্য শহর হিসেবে প্রস্তুত হয়েছে।এ সময় তিনি নগর বাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার নির্দেশনায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন।রাজশাহীকে গ্রিন, ক্লিন ও হেলদি সিটিসহ আধুনিক মডেল শহর হিসেবে গড়তে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।এক্ষেত্রে রাসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন সহযোগিতা করছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও সহযোগিতা করছেন।সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে এক অন্যন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।এসময় তিনি নগর বাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।