বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাকাবে ছয় লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবের খোঁজ মিলছেনা,কতৃপক্ষ বলছে সফটওয়্যার জটিলতা

আপডেটঃ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

সরাকরি নির্দেশনায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) কৃষকেরা খুলেছিলেন ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব।কেউ কেউ লেনদেনও করেন সেটিতে।তবে সম্প্রতি আনলাইন ব্যাংকিং করতে গিয়ে ছয় লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবের কোনো খোঁজ মিলছে না।ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের দাবি, ব্যাংকিং কার্যক্রমকে অনলাইনে নিতে গিয়ে সফটওয়্যার জটিলতায় এ বিপত্তি ঘটেছে।তবে আইসিটি বিভাগ বলেছে, হিসাবের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনের ভুলের কারণে এটি ঘটেছে।তবে কোন হিসাব মুঝে যায়নি।প্রতি তিন মাস পরপর ব্যাংক হিসাবের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দেয় রাকাব।

এতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৬ লাখ ২৯ হাজার ২৮৯টি হিসাব কম।জুনে ছিল ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৬টি।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে সেপ্টেম্বরে কৃষকদের ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার ১৫২টিতে নেমে আসে।গত জুনে যা ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রাকাবকে বাদ দিয়ে হিসাব করলে ওই তিন মাসে হিসাবের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ে।অবশ্য খুঁজে না পাওয়া হিসাবগুলোতে তেমন টাকা ছিল না।তাই এতগুলো হিসাব কমলেও তা আমানতে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি, বরং মোট আমানত ১১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা।রাজশাহীর সরদাহ্ শাখার ম্যানেজার নরুন নবী আনোয়ার বলেন, যে হিসাবগুলোতে জিরো ব্যালেন্স আছে সেগুলোকে বন্ধ করে দিচ্ছে।আনেক ডাটা মাইগ্রেশন করতে গিয়ে যে গুলোতে জিরো ব্যালেন্স হয়ে আছে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এগুলো আবার নতুন করে করতে হবে।আমাদের এখানে কারেন্ট হিসাব ১৫০টির মত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে ১০ টাকার হিসাব খুব কম ছিলো।তবে অন্তত ৫টির মত হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাকাবের সোনামসজিদ শাখার তাসবির বিশ^াস বলেন, আমাদের এখানে আনেকগুলো ডরমেন্ট হয়ে আছে।এগুলোগে ঘুমন্ত আবস্থায় থাকা বলে।এগুলো আবার গ্রাহক আবেদন করলেই ঠিক হয়ে যাবে।আমাদরে এখানে কৃষকের হিসাব ছিলো ১ হাজার ৩০০ এর মত। এরমধ্যে ১০০টি হিসাব চালু আছে।বাকিগুলো ডরমেন্ট হয়ে আছে।আমাদের কাছে তারা আবেদন করলেই এগুলো আমার ঠিক করে দিব।
তবে হিসাব হারানোর বিষটি মনতে নারাজ আইসিটি ডিজিএম আবুল কালাম।তিনি বলেন, এটি আমার শাখা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।তাদের হিসাব স্টেটমেন্ট দেবার সময় ভুল হয়েছিলো।এটি তার সঠিক স্ট্যেটমেন্ট দিয়েছে।ব্যাংকের হিসাব হারিয়ে যাবার নয়।এগুলো সব ঠিক ঠাক আছে।এগুলো থেকে সবাই টাকা তুলতে পারবো।

১০ টাকার হিসাব এর মধ্যে কৃষক হিসাব নয়, ভাতা, কিশোর, ভর্তুকি, মুক্তিযোদ্ধার হিসাব আছে।এর মধ্যে কৃষকদের ভতৃকির জন্য একটি আলাদা রিপোর্ট দিতে হয়।তবে এটি আলাদা করতে গিয়ে সংখ্যাগত ভুল হয়েছিলো।তবে হিসাবের কোন ক্ষতি হয় নি।তিনি বলেন, আমাদের কৃষি প্রনোদণার বিষয়টি একটি সিস্টেম দিয়ে চলে।এখানে সমাজসেবা থেকে তালিকা দেওয়া হয়।সেগুরো মেনুয়্যালি লেজারে করে দেওয়া হয়।তাদের প্রণোদনার টাকাটাই সেখানে যায়।সংশ্লিষ্ট শাখা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।তার মনে সেই হিসেব নেই।তারা সেটি করেছে কম্পিটারে যে তথ্য ছিলো সেগুলো আমার কোর ব্যাংকিং এ নিয়ে চলে এসেছি।বর্তমানে রাকাবের ৩৮৩টি শাখা পুরোপুরি অনলাইনে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাকাবের কাছে খোয়া যাওয়া হিসাবগুলোর তথ্য ব্যাকআপ আছে কিনা, তা খোঁজ নিতে হবে।১০ টাকার হিসাব হলেও অনেক হিসাবে এর চেয়ে বেশি টাকা থাকতে পারে।গ্রাহকরা চাইলে যাতে ফেরত দেয়া যায়।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।