সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শতবর্ষীও মন্দিরের জায়গায় আশ্রয় প্রকল্প নির্মাণের প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে!

আপডেটঃ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৯, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘারুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে শতবর্ষের নিশিতলা ক্ষ্যাত বুড়িমার মন্দির এর স্থানে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নির্মাণ করা হবে এর বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার কে না জানিয়ে কে বা কাহারা ঐ স্থানে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের দাবি এই পূজা অর্চনার স্থান যুগের পর যুগ ধরে চরে  আসছে । শতবর্ষীয় এই স্থাপনা উচ্ছেদ করে এখানে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে করা হবে।  তারা বলছেন তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তাদের মন্দিরের জমি রক্ষা করবেন।এই বিষয়ে প্রফুল্ল কুমার নন্দী (৮৪) জানান  এই স্থাপনা কয়েক শত বছর ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা অর্চনা করে আসছেন। এই স্থানে বিভিন্ন মুনি ঋষিরা এসেছেন।

তাদের পদচারণায় মুখরিত এবং বছরের পর বছর পূজা অর্চনা করার স্থানে কে বা কাহারা ভূমিহীনদেরজন্য আশ্রয় প্রকল্প নির্মাণ করবে।আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিকট আকুল আবেদন আমাদের মন্দিরের জমি রক্ষা করবেন। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর আমলে ধর্মীয় যে সম্প্রীতি বজায় রয়েছে তা কিছু কুচক্রী মহল সেই সম্প্রীতি নষ্ট করার চিন্তা করছেন।

এই বিষয়ে ঘারুয়া পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র পাল (৬৬)  বলেন আমাদের সঙ্গে কোন কথা ন বলে কাহারা যেন রাতের আধারে এই জমি দখল করে আশ্রয় কেন্দ্র করার চেষ্টা করে আমরা সকালে এসে প্রতিহত করি।এই বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গনশুনানিতে উত্থাপন করে অভিযোগ দিবেন বলে জানান।এছাড়া চেয়ারম্যান মেম্বারদের না জানিয়ে কিভাবে এই প্রকল্প কর্মসূচি গ্রহণ করা হলো তার ব্যাখ্যা চান।

এই সম্পর্কে স্থানীয় সাংস্কৃতিক  ব্যক্তিত্ব  জনাব কামরুল ইসলাম জানান (৪০) জানান তারা যখন ছোট বেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহনক্ষত্রের করতেন তখন তিনি দেখে আসছেন এই খানে পূজা অর্চনা হয়।তিনি দাবি জানান এই শতবর্ষীয় মন্দিরের জমি যেন রক্ষা হয়।আগের মতোই এই খানে পূজা অর্চনা হয়।নিশিতলা বুড়িমার মন্দির যেন এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কবলে পরে মন্দিরের অস্তিত্ব বিলীন না হয়।

এই বিষয়ে আরো চৈতন্য পাল (৩৮) বলেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার জন্য কোন গোষ্ঠী গোপনে এই জমিতে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।আমাদেল সঙ্গে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে যে সম্পর্ক তা উদাহরণ স্বরূপ।আমাদের একটাই দাবি আমাদের পূজা অর্চনা করার নিশীতলার বুড়িমার মন্দিরের জমি রক্ষা হয়।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি জানান  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  কাছে আকুল আবেদন আমাদের মন্দিরের জমি যেন ভূমিহীন প্রকল্পের জন্য না নেওয়া হয়।

IPCS News /রির্পোট, মো: মিরান মাতুব্বর,ফরিদপুর প্রতিনিধি।