সোমবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নিম্নমানের প্রণোদনার বীজে স্বপ্ন নিভে গেলো পেঁয়াজ চাষিদের

আপডেটঃ ৫:০৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৮, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

চলতি রবি মৌসুমে রাজশাহী জেলার চাষিদের মধ্যে পেয়াঁজবীজ প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছিল কৃষি অধিদপ্তর থেকে।পেয়াঁজের দাম চড়া থাকায় সরকারের দেয়া বিনামূল্যের পেয়াঁজবীজ পেয়ে খুশি হয়েছিলেন তারা।বিনামূল্যে পাওয়া প্রণোদনার বীজ বপন করে মাথাপিছু ১০ শতক করে জমিতে পেয়াঁজ আবাদ করা যাবে এমন আশায় মনে স্বপ্ন বুনেছিলেন চাষিরা।কিন্তু বপন করা বীজের চারা গজায়নি।তাই পেয়াঁজচাষের স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে।আর গচ্চা যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা।চাষিরা বলছেন, প্রণোদনার পেয়াঁজবীজ যেটা দেয়া হয়েছে সেগুলো অনেক বছরের পুরোনো ও নিম্নমানের।এ কারণে বীজ বপন করেও চারা গজায়নি।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮১ হাজার ৯ শ ৭৫ জন চাষির মধ্যে বিনামূল্যে মসুর, সরিষা, গম, খেসারি, চিনাবাদাম, চমেটো, মরিচ, ভুট্টা, মুগ, সূর্যমুখী ও পেয়াঁজ বীজ বিতরণ করা হয়।এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার ও দ্বিতীয় পর্যায়ে তিন হাজার ২ শ জনের মধ্যে পেয়াঁজবীজ বিতরণ করা হয়।
মাঠ পর্যায়ের সরকারের প্রণোদনার কৃষক-তালিকা তৈরি করেন ইউপি সদস্য ও পৌর কাউন্সিলররা।আর তাদের সহযোগিতা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।কৃষকদের মধ্যে বিতরণের আগে বীজের মান পরীক্ষা করে দেয়া উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।কিন্ত কৃষি বিভাগ তা করেনি।বরেন্দ্র অঞ্চলে রবি মৌসুমে যে পেয়াঁজচাষ হতো তা এ বছর আর সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন কমে যাবে, অন্যদিকে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, চলতি বছর প্রণোদনার পেয়াঁজবীজ ছিল নিম্নমানের ও পুরোনো।প্রথম দফা বীজ ২০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত চারা গজিয়েছে।এজন্য দ্বিতীয় দফার পেয়াঁজবীজ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকরা।এছাড়াও চারা বপনের সময়ও পার হয়ে গেছে।এমন সব তথ্য কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।প্রথম দফার প্রণোদনার ২৫০ গ্রাম করে পেয়াঁজবীজ পেয়ে বপন করেছিলেন তানোরের মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার সাদিপুর গ্রামে আবুল কাশেম, মুণ্ডুমালা গ্রামের বাবু ও পাঁচন্দর গ্রামের মুনসুর রহমানসহ এমন পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সঠিক নিয়ম মেনেই বীজ বপন করেছিলেন।কিন্ত বীজ থেকে চারা গজিয়েছে মাত্র ১০ থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত। ৮০ ভাগ বীজ থেকে চারা গজায়নি।তাই জমি তৈরি থাকলেও শুধু চারার অভাবে এ বছর পেয়াঁজচাষ করতে পারছেন না তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, পেয়াঁজ উৎপাদন বাড়াতে সরকার কৃষকদের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করছে।কিন্তুু সঠিকভাবে বীজগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ক্রয় করা, বিতরণ করা ঠিক হয়নি।এখন এই বীজ থেকে চারা না হওয়ায় পেঁয়াজ উৎপাদন হবে না।অনেক কৃষক আর দ্বিতীয় দফার পেঁয়াজবীজ বপন করেনি।এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাবে।তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম বলেন, প্রথম দফায় আমাদের বীজের যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তার থেকে চলতি বছর বীজের দাম অনেক বেশি।তাই ভাল মানের বীজ কেনা যায়নি। তবুও ৪০ থেকে ৫০ ভাগ চারা বের হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।

কিন্তুু বরাদ্দের টাকা ফেরত যাবে তাই কৃষকদের কথা চিন্তা করে সেই বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।দ্বিতীয় দফা আমরা পেয়াঁজবীজ নিতে চাইনি। কারণ প্রথম দফা বীজ নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে।সময়ও শেষ পর্যায়ে কিন্তুু কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আবারো বীজ বিতরণ করা হয়েছে।এতে কৃষকেরা বীজ বপন করতে পেরেছেন কিনা তা মাঠ পর্যায়ে দেখা হচ্ছে।রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সামছুল হক এ বিষয়ে বলেন, পেঁয়াজবীজের মান খারাপ একথাটি সঠিক নয়।চাষিদেরকে ভালো মানের বীজই দেয়া হয়েছে।বেশি শীতের কারণে চারা দেরিতে বের হচ্ছে।আবহাওয়া ঠিক থাকলে এই সমস্যা হতো না।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।