সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

সৌন্দর্যের রানী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ইতিহাস

আপডেটঃ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৮, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন শহর। পদ্মার কোল ঘেঁষে শহরটি ১৭৭২ সালে বৃহত্তর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।বর্তমান রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় শহর যা উত্তরাঞ্চল তথা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম শহর।সুপ্রাচীন উত্তরের এই ঐতিহ্যবাহী জেলা শহরের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের, রয়েছে সুদীর্ঘ পথ চলার ইতিহাস।বাংলার অন্যান্য জনপদে অনেক পূর্বে রেল নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত হলেও রাজশাহী অঞ্চল এই নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হয় ১৯ সনের ২০ এর দশকে।ব্রিটিশ শাসক গোষ্ঠী এই বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের উর্বর ভূমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজাত পণ্য বিশেষত রেশম,ধান,গমসহ বিভিন্ন উৎপাদাতি ফসলাদী, ব্রিটিশ ভারতের অন্যত্র সহজে খরচ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।

ফল স্বরূপ ১৯৩০ সালে আজকের এই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন যাত্রা শুরু।১৯৩০ সালে আব্দুলপুর-আমনুরা ব্রডগেজ লাইনটি, সারা-সিরাজগঞ্জ লাইনের একটি শাখা হিসাবে চালু করা হয়।তখন আব্দুলপুর-আমনুরা শাখা লাইনের স্টেশন হিসাবে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চালু হয়।স্বাধীনতা পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত নতুন রিমডেলিং ভবনের মাধ্যমে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন।রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম,সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।রেলওয়ে স্টেশনটি গুরুত্ব এছাড়া এর অনন্য স্থাপত্য শৈলী এখনো খুব প্রশংসিত ও সৈন্দর্যময়।

রাজশাহী স্টেশন, এর বর্তমান মূল ভবনটি সামনে থেকে দেখতে অনেকটা পাখির মতো।ভবনের সামনে বাহারী গাছ আর ফুল গাছ রোপন করা হয়েছে আইল্যান্ড করে,এই বাহরী গাছ আর ফুলেল অপরুপ সৈন্দর্যে মন কাড়ে মানুষের।রাস্তা থেকে স্টেশন চত্বরে প্রবেশ করেই মূল ভবনের ঠিক সামনে রয়েছে গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহনের পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে বিশাল যায়গা।প্রধান স্টেশন ভবনের বাম ও ডান পাশে শোভন শ্রেনীর যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশাল ও মনোরম খচিত বিশ্রামাগার।এছাড়া রয়েছ ভিআইপি ও ভিভিআইপি বিশ্রামাগার।প্রতিটি বিশ্রামাগারে রয়েছে, মহিলাদের জন্য নামায পড়া এবং নবজাতকদের নির্বিঘ্নে দুগ্ধ পান করানোর জন্য মাতৃদুগ্ধ কর্ণার, স্টেশনটিতে রয়েছে ৮ টি টিকেট কাউন্টার।তার মধ্যে মহিলা,প্রতিবন্ধি ও মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য রয়েছে পৃথক কাউন্টার।যাত্রীদের সুবিধার্তে রয়েছ রেলওয়ে ইনকোয়ারি অফিস, খাবার হোটেল, বইয়ের দোকান এবং ২ টি ফাস্টফুডের দোকান।

স্টেশনের মূল ভবনের ভিন্নতা এনে দিয়েছে এর বিশেষায়ীত ছাদ। আমাদের দেশের চিরাচরিত সম্পূর্ণ কনক্রিটের ছাদের পরিবর্তে একটু ভিন্নধর্মী প্লাস্টিক ও কনক্রিট ঢালাই এর সমন্বয়ে ত্রিভুজ আকৃতির কয়েকটি অংশ দিয়ে এই ভবনটির ছাদ তৈরী করা হয়েছে ।ভবনটির ভেতর ও বাইরে দেয়া হয়েছ মজবুত ও সৈন্দর্যময় পিলার।

প্রধান ভবনটি ৩ তলা বিশিষ্ট এই ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে মোট ৬ টি প্লাটফর্ম।বামপাশের দোতলাতে আছে মসজিদ আর দোতলা ও তিনতলাতে আছে একটি আবাসিক হোটেল।রেলওয়ে স্টেশন এর দুই পাশে দুইটি প্রবেশ পথ দিয়ে প্লাটফর্ম এ প্রবেশ ও বাহির হওয়া যায়।এছাড়াও আরো একটি প্লাটফর্ম আছে যা মূল স্টেশন ভবনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত নয়।মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রহনপুরগামী লোকাল ট্রেনসমূহ উক্ত প্লাটফর্মে থামে।রাজশাহী স্টেশন ইয়ার্ডে লোকো ডিপো, ট্রেন ওয়াশ পিট ও ক্যরেজ শপ অবস্থিত।

বর্তমানে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন হতে আপ-ডাউন মিলিয়ে মোট ৪৮ টা ট্রেন চলাচল করে৷এর মধ্যে আপ-ডাউন মিলিয়ে ২৪ টি ট্রেন আন্তঃনগর।বর্তমানে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন হতে যেসকল রেল রুট সক্রিয় আছে সেগুলো হলো :
১. রাজশাহী-ঢাকা
২. রাজশাহী-খুলনা
৩. রাজশাহী-ভাঙ্গা
৪. রাজশাহী-গোবরা
৫. রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৬. রাজশাহী-রহনপুর
৭. রাজশাহী-চিলাহাটি
৮. রাজশাহী-পার্বতীপুর
৯. রাজশাহী-পঞ্চগড়
১০. রাজশাহী – ঢালারচর

উল্লেখ্য আগামীতে এই স্টেশন হতে রাজশাহী-কলকাতা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন সেবা চালুর বিষয়টি বর্তমানে প্রস্তাবিত অবস্থায় আছে।সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমাগত রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এর ব্যস্ততা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে রেলের সেবার মানও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।সকলের আস্থা অর্জন করে এভাবেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রত্যাশায় রাজশাহী বাসি।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।