মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীতে পুলিশ ফাঁড়ী ঘেঁষেই রাতের আঁধারে চলছে ধানি জমিতে পুকুর খনন

আপডেটঃ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২১, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর বাগমারার হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাত্র ৪০০ গজ দূরেই ধানি জমিতে হচ্ছে পুকুর খনন।দিনের আলোয় পুকুর খনন করলেও সম্প্রতি লোক চক্ষুর আড়াল করতে, রাতের আঁধারে চলছে এইসব অবৈধ পুকুর খননের কাজ।পুকুর খননের মাটি বহনের সময় পাকা রাস্তাকে নষ্ট ও রাস্তা কর্দমাক্ত করে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে দিয়ে মাটি বহনের সময় অলৌকিক কারনে নিরব রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’—এমন সরকারি নির্দেশনা ও হাই কোর্টের রিট থাকলেও বাগমারা উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিলে অবৈধ পুকুর খনন করছে অসাধু মৎস চাষী ও পুকুর ব্যাবসয়ীরা।এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

এক শ্রেণির অসাধু মৎস ও পুকুর ব্যবসায়ীরা অসহায় গরীব কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ও লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধ্য করাচ্ছে।আর কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি।অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীরা।আর এই পুকুর দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভূক্ত জমিও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাগমারা উপজেলা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নাকের ডগায় অর্থাৎ পুলিশ ক্যাম্পের মাত্র ৪০০ গজ দুরে বাড়ীগ্রাম এলাকার আইয়ুব আলী ও হাসেম আলী নামের দুই ব্যক্তি প্রায় ২০ বিঘার দুইটি পুকুর খনন করছে নির্বিঘ্নে।এবিষয়ে এলাকার সাধারণ জনগনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, কিছু অসাধু মানুষের কারনে দেশের আবাদি জমি কমছে।এদের কারনে দেশে আজ খাদ্যের অভাব পড়ছে।এভাবে পুকুর খনন করতে দিলে আগামীতে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

তারা আরও বলেন, খু্ব দ্রুত এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে তার সাথে অসাধু পুকুর ব্যাবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে।তবে পুকুর খননকারি আইয়ুব আলীর সাথে কথা বললে তিনি সরাসরি বলেন, আমি সকলকে ম্যানেজ করেই এই পুকুর খনন করছি।আমি গত বছর এই পুকুর খনন শুরু করি কিন্তু বর্ষা আসার কারনে খননের কাজ শেষ করতে পারিনি।এবার আবার শুরু করছি।আর আমি সকলকে খুশি করেই পুকুর খনন করছি।তাই আমার কাজে বাধা দিবেনা।এবিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি পুকুর খনন বিষয়ে জানিনা।

আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।তবে তিন তাকে ম্যানেজ করার কথা অস্বীকার করেন।পুকুর খনন বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলে দিচ্ছি এখন থেকে ধানি জমিতে আর পুকুর খনন যেন বন্ধ করে দেন।তবে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুকুর খনন বন্ধ করার কথা বললেও, বন্ধ হয়নি হাটগাঙ্গোপাড়ার সেই অবৈধ পুকুর খনেনর কাজ।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।