বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

লাখ লাখ প্রাণের রক্তে ভেসে এসেছে, বাংলাদেশের বিজয়

আপডেটঃ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৫, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদাররা বাংলার মানুষের ওপর পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম নারকীয় ও ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায়।গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, ভৌত অবকাঠামো ধ্বংস, নারীদের সম্ভ্রমহানি- সবকিছুই তারা করেছে।কিন্তু বাঙালির রণকৌশলের কাছে তারা টিকতে পারছিল না।তাই বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দু’দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্যরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনে মাঠে নামে।রাতের অন্ধকারে বাসা কিংবা কর্মস্থল থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে তারা শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে।

এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা।দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চললেও মূল হত্যাযজ্ঞ চলে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে।১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই হত্যাযজ্ঞের শিকার বুদ্ধিজীবীদের নিকটাত্মীয়রা বধ্যভূমিতে লাশ খুঁজে পান।বুদ্ধিজীবীদের নিথর দেহজুড়েই ছিল আঘাতের চিহ্ন, চোখ, হাত-পা বাঁধা, কারও কারও শরীরে একাধিক গুলি।অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে।ক্ষতচিহ্নের কারণে অনেকেই প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্তও করতে পারেননি।

বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে শহীদ হয়েছেন- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. মোহাম্মদ মুর্তজা, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, ডা. মোহাম্মদ শফি, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, সৈয়দ নাজমুল হক, জহির রায়হান, আলতাফ মাহমুদ, ড. আবদুল খায়ের, ড. সিরাজুল হক খান, ড. ফয়জল মহী, ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীন, অধ্যাপক হবিবুর রহমান, কবি মেহেরুন্নেসা, গিয়াস উদ্দীন আহমদ প্রমুখ।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।