বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

খুৃঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজশাহীর রেশম কারখানা, ৬৩ টি লুমের বিপরিতে সচল ১৫, চলছে ১২ টি

আপডেটঃ ৪:২৭ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

১৮ বছরেও পুরোপুরি চালু করা যায়নি রাজশাহী রেশম কারখানা।যদিও কারখানাটি বন্ধ হয় ২০০২ সালের নভেম্বরে।বন্ধ হওয়ার পরে কয়েক দফা পুরো রেশম কারখানাটি চালুর উদ্যাগে মেলেনি সফলতা।সর্বশেষ চালুর মাত্র ১৯ লুমের পর্যাক্রমে ১১-১২টি দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে রেশম কারখানাটি।তবে কারখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারখানাটির সব লুম চালু করা গেলে ফিরবে সিল্কসিটির ঐতিহ্য।তবে কারখানায় রয়েছে দক্ষ শ্রমিকের অভাব।তারপরেও সর্বশেষ নভেম্বর মাসে কারখানাটিতে উৎপাদন হয়েছে ৮৯২ গজ কাপড়।জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে এই কারখানাটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে রাজশাহীর কর্তা-ব্যক্তিরা।

সেই বছরে লুম চালুর মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হয়।তারপরে কেটে যাওয়া তিন বছরে তেমন অগ্রগতি চোখে পড়েনি।বর্তমানে মাত্র ১৯টি লুমে প্রডাকশন চলছে কারখানাটিতে।কারখানায় যা উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে চলছে শো-রুমটি।রাজশাহী রেশম কারখানার ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, মোট ৩৮টি লুম ঠিক আছে।১৯টি লুম পুরোপুরি চালু থাকলেও পর্যায়ক্রমে ১১-১২টি লুমে উৎপাদনের কাজ চলছে। এদিয়ে গত নভেম্বর মাসে ৮৯২ গজ কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব হয়।তিনি আরও জানান, মোট ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছে।তবে দক্ষ শ্রমিকের অভাব।বন্ধের সময়ের (২০০২ সালের) কিছু শ্রমিক ফেরানো সম্ভব হয়েছে।অনেকে অন্য পেশায় গেছেন, তাই ফিরতে চান না।কেউ বৃদ্ধ হয়ে কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন।কেউ কেউ মারাও গেছেন।

কারখানা বিষয়ে তিনি জানান, কারখানা পরিচালনার জন্য পৃথক কোনো ফান্ড নেই।রাজস্ব বাজেটের টাকা দিয়ে বেতন, তাঁত মেরামত, রঙ কেনা ইত্যাদি কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের।বর্তমান অবস্থায় ভবন ও জানালাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।সেগুলো মেরামত করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।তুত চাষের বিষয়ে তিনি জানান, জেলার পবার পারিলা, চারঘাট, বাঘা ও মোহনপুরে তুত চাষ হয়।তবে চাহিদার তুলনায় কম।এছাড়া সারাদেশে ১২টি সুতা তৈরির ‘মিনি ফিলেচা’ (তৈরির কারখানা) আছে।এর মধ্যে জেলার চারঘাটের মীরগঞ্জে ‘মিনি ফিলেচা’ রয়েছে।জানা গেছে, নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় এ রেশম কারখানা।

রেশমের উন্নয়নে রাজশাহীতেই স্থাপন করা হয়, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয়।রেশমকে কেন্দ্র করে সিল্ক নগরী হিসেবে পরিচিত নগরে সমৃদ্ধ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরেও কেনো ধুঁকে ধুঁকে চলছে কারখানাটি এমন প্রশ্ন রাজশাহীবাসীর। তাদের দাবি এই কারখানাটি পুরোপুরি চালু হলে একদিকে ফিরবে ঐতিহ্য, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হবে শতশত মানুষের।ততকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে (২০০২) পুরো কারখানাটি বন্ধ হলেও ১৮ বছর পর (২০১৭) সালে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সেই বছরের ২৩ নভেম্বর কারখানাটি চালুর লক্ষে পরিদর্শন করেন- রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা ও বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান।এসময় কারখানার একটি লুম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।পরে নেতৃবৃন্দ রেশম কারখানা দ্রুত পুরোপুরি চালুর কথা সাংবাদিকদের জানান।তার অংশ হিসেবে ৩৮টি লুম মেরামত করেন কর্তৃপক্ষ।বর্তমানে কারখানার পর্যায়ক্রমে ১১ থেকে ১২টি লুম উৎপাদনে রয়েছে। তবে পুরোপুরি রাজশাহী রেশম কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।পরে ২০১৯ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি রেশম কারখানায় লুম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ সভায় উপস্থিত হয়ে ছিলেন, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আবদুল হাকিমসহ নেতৃবৃন্দ।

তাঁরাও পূর্ণভাবে রেশম কারখানা চালুর ব্যাপারে পরামর্শ দেন।সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ নভেম্বর দুপুরে রাজশাহী রেশম কারখানা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।এসময় তিনি রেশম থেকে কাপড় উৎপাদন দেখেন। আরও বেশি সংখ্যক লুম চালুর উপযোগী করতে নির্দেশনা দেন।তিনি জানান, বর্তমানে কারখানায় যে কাপড় উৎপাদন হচ্ছে তা ছোট একটি শো-রুমে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে।বেশি লুম চালু করে আমরা শো-রুমটিও বড় করতে চাই।এর পাশাপাশি অনলাইনে রেশম পণ্য বিক্রির একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

রেশম কারখানা পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় রেখে তৎকালীন বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ করে দেয়।এতে বেকার হয়ে পড়েন কারখানার প্রায় ৩০০ শ্রমিক।সেই সময় অনেক আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারেনি রাজশাহীবাসী।

দীর্ঘদিন পর রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রেশম বোর্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেন।এছাড়া রেশম কারখানাটি বন্ধ ঘোষণার সময় মোট ৬৩টি লুম ছিল।এর মধ্যে ৩৫টি পুরনো লুমে উৎপাদন চলতো।নতুন ২৮টি লুম চালুর আগেই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।বন্ধের আগে কারখানাটি বছরে এক লাখ ৬ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করতো।কারখানায় ৬৩টি লুম চালু হলে বছরে দুই লাখ ৮৭ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।