বুধবার ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নাই স্বাস্থ্য বিধির বালাই

আপডেটঃ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে শীত।উত্তরাঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যেই শীতের তীব্রতা অনুভব করতে পারছে।শীত বাড়ার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতও অবনতি হতে শুরু করেছে।অল্পদিন আগেও দেশে করোনা সংক্রামনের হার ১০ শতাংশে নেমে গেলেও আবার তা উর্ধ্বগামী হয়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে।রাজশাহীতেও বাড়ছে করোনা সংক্রামনের মাত্রা।করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলেও রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অনিহা দেখা দিয়েছে।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে।করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্ভাব্যতা নিয়েও সঙ্কিত সরকার। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে সেখানে কেউই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। এমনকি এসব দেখারও যেন কেউ নাই।কোনও কিছুতেই মানছে না স্বাস্থবিধি।রাজশাহীর বাজারগুলো থেকে শুরু করের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই সময়টায় বেশ পরিপূর্ণ।কিন্তু কোথাও নেই স্বাস্থ্যসেবা মানার বালাই।করোনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না কোথাও।

কেউ মানছেন না সামাজিক দূরত্বও। রাজশাহীর কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার দৃশ্য দেখা যায়নি।বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ভাইরাস প্রথম ধাপেই বড়সড় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে গেছে।এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপেও বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।দ্বিতীয় জোয়ারের মাঝেই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।দোকানগুলোতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা থাকলেও অধিকাংশই দোকানেই ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ মাস্ক ব্যবহার করছেন না।নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি জানান, করোনার কারণে দোকানগুলোতে নো মাস্ক, নো সার্ভিস লেখা সংবলিত ব্যানার টাঙ্গাতে বলা হয়েছে।এ কারণে আমরা এ ব্যানার টাঙিয়েছি।তবে আমরা চেষ্টা করি সবসময় মাস্ক ব্যবহার করতে।

কিন্তু সব সময় মাস্ক পরে থাকতে অস্বস্তি বোধ হয়। যার কারণে মাঝে মাঝে খুলে রাখি।সরজমিন দেখা যায়, বুধবার সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় অসংখ্য মানুষের ভিড়।বাজারে ছুটেছুটি অসংখ্য মানুষের।তবে এসব মানুষের ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনের মুখে মাস্ক নেই।সামাজিক দুরত্ব নেই।যে কয়েকজন মাস্ক পরে আছে তাদের মধ্যে অনেকেরই মাস্ক মুখের বদলে গলার দিকে নামানো।যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেকাংশে।ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতামূলক নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কেউ মানছেন না।রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতেও দেদারছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাস্কবিহীন মানুষ।বুধবার সকালে নগরীর সাহেববাজার এলাকার জুলহাস মণ্ডল নামে এক চাকুরিজীবী বাজার করতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, চারিদিকে হতাশ করা চিত্র। করোনা নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি।বাজারে আসলে আরো ভয় লাগে।কেউ মানে না স্বাস্থ্যবিধি।রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষায় তারা শনাক্ত হন।বুধবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার বিভাগের রাজশাহীতে সাতজন, নওগাঁয় পাঁচজন, জয়পুরহাটে পাঁচজন, বগুড়ায় ৫০ জন, সিরাজগঞ্জে ১৬ জন এবং পাবনায় নয়জন শনাক্ত হয়েছেন।এ দিন বিভাগে ৫১ জন করোনা রোগি সুস্থ হয়েছেন।এর মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, জয়পুরহাটের একজন, বগুড়ায় ৩০ জন, সিরাজগঞ্জে দুইজন এবং পাবনার ১২ জন সুস্থ হয়েছেন।মঙ্গলবার বিভাগে নতুন কারও মৃত্যু হয়নি।বিভাগে এ পর্যন্ত ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ৩২৮ জন।এদের মধ্যে ২১ হাজার ১৬১ু জন সুস্থ হয়েছেন।বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৭২৭ জন কোভিড-১৯ রোগি।রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান জানান, সবাই জানে করোনার ক্ষতিকর দিক।কিন্তু কেউ সচেতন নয়।একজন সচেতন হলে অন্যজন সচেতন না হলে পরিস্থিতি উন্নয়ণ হবে না।‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়টি আমাদের সবাইকে মানতে হবে।পাশাপাশি প্রশাসনকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।