শুক্রবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বছরজুড়ে পাওয়া যাবে ফলের রাজা আম

আপডেটঃ ১২:২৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে এখন বছরজুড়ে চাষ হচ্ছে আম।আর এই রসালো আম পাওয়া যাবে সারা বছর ধরে।দিনের সাথে সাথে বদলাচ্ছে আয়ের নতুন নতুন কৌশল।উপজেলার নামো মুশরীভূজা গ্রামের আব্দুস শুকুর বিশ্বাসের ছেলে কামাল উদ্দিন আধুনিক পদ্ধতিতে আয়ের নতুন কৌশল হিসেবে ১১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন বারী-১১ জাতের আম।যা, বছরজুড়ে পাওয়া যাবে এ আম।কথা হয় নতুন জাতের আম চাষি, কামাল উদ্দিনের সাথে।তিনি বলেন, চলতি ২০২০ সালের প্রথম দিকে ৬/৭ বছর বয়সের ৮০০টি আমরূপালী জাতের গাছসহ ১১ বিঘা আম বাগান লীজ নেন তিনি।লীজ নেয়ার পর সব গাছের ডাল ছাঁটাই করে বারী-১১ জাতের আম গাছের ডগায় টেপ করেন।নিয়মিত পরিচর্যাসহ জমির লীজসহ মোট খরচ হয়েছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা।এখন প্রত্যেকটি গাছে আমের গুঠি ও মুকুলধরে আছে।

সম্প্রতি ৩৫০ টাকা কেজি দরে ২ লাখ টাকার আমও বিক্রি করেছেন তিনি।এই বাগান থেক তিনি ২০২১ সালে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন এই আম চাষি।এই আম চাষির হিসাব মতে, তিনি ১১ বছরের জন্য লীজ নেয়া জমিতে মোট আয় করবেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বলেও আশা করছেন তিনি।তিনি আরো জানান, ১০ বছর পর জমির মালিককে গাছসহ জমি বুঝিয়ে দিতে হবে।তবে তিনি বলেন, এই ১০ বছরের মধ্যে আম থেকে তিনি বড় ধরনের আয় করবেন।আমের গাছের পরিচর্যার ব্যাপারে কৃষক কামাল উদ্দীন বলেন, দেশীয় জাতের আম গাছের চেয়ে এই নতুন জাতের আম গাছের পরিচর্যা ও খরচ অনেক বেশী।তিনি বারী-১১ জাতের আম চাষের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন।আম বাজারজাতে কোন সমস্যা হয় না।বাগান থেকে আম কিনে নিয়ে যায় ফল ব্যবসায়ীরা।তিনি বলেন, একই মৌসুমে দেশীয় আম ব্যাপক উৎপাদনে মানুষের চাহিদা পূরণ হয়ে আমের চাহিদা কমে যায়।আম ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারে না।

কিন্তু বারী-১১ জাতের আম চাষ করে বছরজুড়ে আম উৎপাদন যেমন ব্যাপক হারে হয়, তেমনি ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে প্রচুর লাভবান হওয়া যাবে।ব্যাপকভাবে বারী-১১ সহ বেশ কিছু উন্নত জাতের আম রয়েছে যা বছরজুড়ে উৎপাদন হবে।এর ফলে দেশে সারা বছর আমের চাহিদা পূরণ করাসহ দেশের বাইরে রপ্তানীও করা সম্ভব হবে।আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে আম ব্যবসায়ীসহ বাগান মালিকেরা লাভবান হবে।ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু জানান, বছরজুড়ে আম উৎপাদন হলে আমচাষ করে ব্যাপক লাভবান আম চাষি ও আম ব্যবসায়ীর।এ ছাড়া সারা বছর আমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।তিনি আরো বলেন, কামলা (শ্রমিক) ছাড়া এলাকায় আরো কয়েক জন আমচাষ শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বারো মাস আমচাষের ব্যাপারে চাষিদের কারিগরি সহায়তাসহ নিয়মিত পরিচর্যা ও সার প্রয়োগের মাত্রাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তারা।এ আম উৎপাদনে দেশের মানুষের সারা বছরের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আম ফাউন্ডেশন সভাপতি মশিউর রহমান জানান, তিনি বারো মাস আমের উৎপাদনের কথা শুনে তাৎক্ষণিক আমবাগান সরেজমিন পরিদর্শনে যান।বার মাস আম উৎপাদন হলে, আর্থিকভাবে স্বাভাবিক মৌসুমের উৎপাদিত আমের চেয়ে বেশি লাববান হবেন আম চাষিরা।তাছাড়া ভোলাহাট উপজেলাসহ দেশের মানুষের সারা বছর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করে তিনি।এছাড়া উপজেলার একমাত্র আম বিক্রয় কেন্দ্র আম ফাউন্ডেশনে সারা বছর আম বাজার বসলে আম ফাউন্ডেশনও আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।