রবিবার ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আরএমপি চন্দ্রিমা থানায় বিচারকের আসনে সোর্স আলিম, আতঙ্কিত এলাকবাসি

আপডেটঃ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৮, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী মহানগর চন্দ্রীমা থানায় বিচারকের আসনে বসে বিচার ও মিমাংসা করছে ঐ থানার মাদক ব্যবসায়ী ও থানার কথিত আলম নামের এক সোর্স।ঘটনাটি অবিশাস্য হলেও সত্য।ঘটনাটি রাজশাহী মহানগর পুলিশের চন্দ্রীমা থানার ভেতরে।থানার ২য় তলায় দারোগা বাবুদের রুমে।থানাগুলিতে, চন্দ্রিমা থানায় গিয়ে দেখা গেল আজব ঘটনা এসআই-এর চেয়ারে বসা থানা পুলিশের সোর্স আলিমকে।শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় এসআই পলাশের পাশের চেয়ারে বসে মারামারীর একটি ঘটনা মিমাংসা করতে দেখা যায় এলাকার চিন্হিত মাদক ব্যবসায়ী  ও পুলিশের সোর্স আলিমকে।এ সময় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখেই থানা থেকে দ্রুত সটকে পড়ে আলিম।

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রীমা থানাধীন শিরোইল কলোনি ৩নম্বর গলির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে পুলিশের সোর্স আলিম এলাকার মানুষের কাছে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক।স্থানীয় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মেয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ছাড়াও ইয়াবা বা যেকোনো মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কারিগরও এই সোর্স আলিম।সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই সোর্সের হয়রানির শিকার হচ্ছে।এ ছাড়াও আলিমের বিরুদ্ধে রেলসহ বিভিন্ন সরকারী চাকুরি দেয়ার কথা বলেও বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারনার ঘটনাতো আছে অহরহ।শিরোইল কলোনি এলাকার বসবাস কারির জানান , চন্দ্রীমা থানার পুলিশের কিছু অসৎ কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পুলিশের সোর্স আলিম দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মারামারি এমনকি হত্যাকান্ডের মতো ঘটনার মিমাংশা করছে এই পুলিশের সোর্স আলিম।এ ছাড়াও শিরোইল কলোনি ৩নম্বর গলির তার বাড়িতে বসে জুয়ার আসর।

পুলিশের সোর্স হওয়াতে তার বাড়ি কোনদিন পুলিশ হানা দেয়নি।তার বাড়ির পাশে ময়দা মিলের পাশের খাস জমি দখল করে সেখানে বসায় মাদক সেবনের হাট। সেখানে মাদক সাপ্লায় দেয় সোর্স আলিমের ভাই মানিক।এই মানিক দির্ঘদিন থেকে হেরোইন ও ইয়াবার ব্যাবসা চালিয়ে আসলেও তার ভাই আলিম পুলিশের সোর্স হওয়াতে সে থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে।মাঝে মধ্য পুলিশ তাকে লোক দেখানো আটক করলেও তার নামে অল্প/স্বল্প মাদকের মামলা দেয়াতে সে দ্রুত জামিন পেয়ে আবার তার মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করেন।এখানেই শষ নয় পুলিশের সোর্স আলিমের গল্প কথা।গত কয়েক বছরে চন্দ্রীমা থানার পুলিশের কিছু অসৎ কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিভিন্ন জনকে মাদ,নারী ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে আপস মিমাংসার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা কামিয়েছে এই পুলিশের সোর্স আলিম।

এখানে শুধু আলিম ই লাভবান হয়নি লাভবান হয়েছে চন্দ্রীমা থানার পুলিশের অসৎ কর্মকর্তারাও।এর মধ্য গত ৬মাস আগে শিরোইল কলোনি ৫নম্বও গলি এলাকার টায়ার ব্যাবসায়ী নজরুল নামে এক জনকে মেয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে চল্লিশ হাজার(৪০,০০০) টাকা আদায় করেন, একই এলাকার ৩নম্বর গলির বার্গার ব্যাবসায়ী শামীমকে মিথ্যা অপহরনের মামলাই ফাঁসিয়ে দশ হাজার (১০,০০০) টাকা,গত ৪মাস আগে ৪নং গলির কসমেটিক ব্যাবসায়ী রশিদকে মেয়ে দিয়ে ফাসিয়ে তার কাছ থেকে বিশ হাজার (২০,০০০) টাকা, ৩নং গলির হাডোয়ার দোকানের কর্মচারি মুজাহিদকে তার বাড়ির নারী ভারাটিয়াকে দিয়ে মিথ্য অভিযোগ করিয়ে চন্দ্রীমা থানায় বসে তার কাছ থেকে পঁচিশ হাজার (২৫,০০০) টাকা, সিটি এসবির হাবীব এর কাছ থেকে তার সালার রেলে চাকুরি দেয়ার নামে দুইলক্ষ পঞ্চাশ হাজার (২,৫০,০০০) টাকা, এছাড়াও বারো রাস্তা এলাকার সুমন,ছোট বোনগ্রাম এলাকার রতন,শিরোইল কলোনি এলাকার সুমন,শিপলুসহ আরো অনেককেই মাদক দিয়ে ফাঁশিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ নিয়ে তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন এই পুলিশের সোর্স আলিম।

এমন ঘটনার সত্যতা জানতে গত কয়েকদিন থেকে মহানগরীর চন্দ্রীমা থানায় ঘোরাঘুরি করে গত শুক্রবার রাত্রী সাড়ে আটটার সময় দেখা মেলে পুলিশের সোর্স আলিমের।তাও আবার চন্দ্রিমা থানায় এসআই পলাশের পাশ্বে দারোগা বাবুর চেয়ারে বসে মারামারীর একটি ঘটনা মিমাংসা করতে সেখানে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখে থানা থেকে দ্রুত সটকে পড়ে আলিম।এ সময় প্রতিবেদক এসআই এর চেয়ারে বসা ভদ্রলোক কে ? এমন প্রশ্ন করতেই থানায় উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজন ব্যঙ্গ করে বললেন উনি আলিম থানার কথিত ওসি।পরে অবশ্য তারা বিষয়টি পরিস্কার করে বলেন, আলিম থানার একজন সোর্স।থানা পুলিশের সাথে সম্পর্ক রেখে নিজ ভাই মানিককে দিয়ে হেরোইনের কারবার চালাচ্ছে দির্ঘ কয়েক বছর ধরে।তারপরও পুলিশ মানিককে ধরেনা।

এছাড়াও আলিম নিজ এলাকায় বিভিন্ন মেয়ে দিয়ে সাধারন মানুষদেরকে জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অপকর্ম করে থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলেন, চন্দ্রিমা থানার অধিকাংশ পুলিশের যাতায়াত রয়েছে আলিমের বাড়িতে।আলিম অবশ্য তাদের অপ্যায়নের ত্রুটি রাখেন না।আর সেই সুবাদে এলাকায় আটকের বিষয়গুলি নিয়ে থানায় তদবিরও করে থাকে আলিম। থানার কোন ঘটনা হলে এলাকার লোকজন পুলিশের কাছে না গিয়ে সরাসরি যায় আলিমের কাছে। আর এতে আলিমের আয় রোজগার ভাল হয় বলেও জানায় স্থানীয়রা। তবে তারা এক বাক্যে বলেন থানার কথিত ওসি আলিম।এসআই-এর চেয়ারে সোর্স বসার কারন জানতে চাইলে, এসআই পলাশ বলেন, বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি। তবে খেয়াল করলে তাকে বসতে দিতাম না।

এ বিষয়ে চন্দ্রীমা থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুম মনিরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি করনা পজেটিভ রেষ্টে আছি।এমন কোন ঘটনা আমার থানায় ঘটেছে বিষয়টি জানা নেয়।তার পরেও সোর্সদের মাধ্যমে কেউ কোনো হয়রানির শিকার হলে বা তাদের কোনো অপকর্ম দৃষ্টিগোচর হলে সাথে সাথে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে।সাথে সাথে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি বলেন, কেউ যাতে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রকার অপকর্ম বা অপরাধ কর্মকান্ড না করতে পারে সে বিষয়ে পুলিশ এখন অনেক বেশি সতর্ক।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।