শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গ্রাম্য যানবাহন গরুর গাড়ী বিলুপ্তির পথে

আপডেটঃ ৪:১৯ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৮, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

সেদিনের কথা মাত্র ২৫/৩০ বছর আগেও গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক প্রচলন ছিল গরুর বা মহিষের গাড়ীর ব্যবহার।জেলা সদরের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ছিল ইট বিছানো রাস্তা, কোথাও আবার কাঁচা রাস্তা। যে রাস্তায় গরুর গাড়ী ছাড়া অন্য গাড়ী চলাচল কল্পনা করা যেত না।গরুর গাড়ী সেসময় একমাত্র নিরাপদ মাধ্যম ছিল।কালের বিবর্তনের ধারায় আজ প্রায় বিলুপ্ত।গরুর গাড়ী নিয়ে অনেক গান, কবিতা, গল্প ও সিনেমা তৈরি হয়েছে।সেসময়ে ওকি গাড়িয়াল ভাইয়ের গান…রাজশাহীসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় ছিল।

আজ যোগযোগ ব্যবস্থার এতই উন্নতি হয়েছে যে গরুর গাড়ি খুব স্বল্প সময়ে রূপ কথার গল্প মনে হবে, আর স্থান পাবে জাতীয় যাদুঘরে।হারিয়ে যাবে গরুর গাড়ি, হারিয়ে যাবে গাড়িয়ান।যান্ত্রিক যূগে যান্ত্রিক যানবাহন জায়গা করে নিয়েছে।দ্রুত যানে মানুষ দ্রুত ছুটছে কর্মস্থল বা প্রিয় জনের কাছে।ফলে গরুর গাড়ীর ব্যবহার প্রায় বন্ধ গেছে বলা যেতে পারে।আগে কৃষক, গরুর গাড়িতে করে মাঠ থেকে ধান, গম বা অন্য ফসল গাড়িতে বোঝাই করে বাড়িতে নিয়ে যেত।এখন খুব কম এলাকায় গরুর গাড়ির ব্যবহার চেখে পড়ে।গরুর ব্যবহার ও কমেছে গাড়ির ব্যবহার এর প্রয়োজনীয়তা একেবারে কমে গেছে।শতকরা ৮০ ভাগের উপর গরু দুধ আর মাংসের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।সে আমলে গরুর গাড়ি একমাত্র বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হত।গরুবা মহিষের গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়া বা বিয়েতে যাওয়া কিয়ে আনন্দের যারা ঐ বিয়েতে গেছে তারাই শুধু জানেন।গাড়ি কচ কচ করে ধীরে ধীরে গড়ছে আর গাড়িয়ান যেন মনের আনন্দে গান গাইছে ওকি গাড়িয়াল ভাই.।কখনবা গাড়িয়ান তার বউ কে নিয়ে যায় আর গানের সুরে বলে ‘‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে… যাবো তোমায় শশুর বাড়ি নিয়ে’’…ইত্যাদি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে।নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশকে নিয়ে।মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। আগামিতে আরো অসাধ্য সাধন করবে বাংলার ছেলেরা।সেদিন গরু থাকবে কিন্তু গাড়ি থাকবে না। ঐতিহ্যবাহী গরু বা মহিষের গাড়ী আলাউদ্দীনের আশ্চর্য্য প্রদীপের মতই মনে হবে।আগামি প্রজন্মের শিশুরা বলবে এটা আবার কি!আমাদের অতীত ঐতিহ্য ভুলে গেলে চলবে না।এজন্য গরু বা মহিষের গাড়ির ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্ম ও আগামি প্রজন্মকে জানাতে হবে।আর এজন্য ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির ইতিহাস সংরক্ষণ করা অবশ্যই প্রয়োজন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।