রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাস

আপডেটঃ ১২:৫২ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে দুই ধরণের রেলপথ চালু আছে।ব্রডগেজ ও মিটারগেজ।দেশের পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ, ও পশ্চিমাঞ্চলে ব্রডগেজ রেলপথ বিদ্যমান।পূর্বে ন্যারোগেজ রেলপথ থাকলেও তা এখন অচল।১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারী মাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে রেল চলাচল শুরু হয়।১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে জয়দেবপুর অবধি রেলপথ সম্প্রসারণ করা হয়।১৮৬২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া অবধি রেলপথ চালু করা হয়।সর্ব প্রথমব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডালহৌসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের কাছে ভারতবর্ষে রেলওয়ে স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পেশ করেন।পরে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল গেট ইন্ডিয়ার পেনিনসুলার রেলওয়ে নামক কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত মুম্বাই থেকে আনা পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইনটির উদ্বোধন করা হয়।এটিই ছিল ব্রিটিশ ভারতের রেলওয়ের প্রথম যাত্রা।বাংলার প্রথম রেলপথ চালু হয় ১৮৫৪ সালে পশ্চিম বঙ্গের হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেলপথের উদ্বোধনের মাধ্যমে।

১৮৭৪নসাল থেকে ১৮৭৯ সালের মধ্যে নর্থ বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে নামে ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মিটারগেজ রেললাইনস্থাপন করে।লাইনটি পদ্মার বাম তীর ঘেঁষে সারা(হার্ডিঞ্জব্রিজ)থেকে চিলাহাটি হয়ে হিমালয়ের পাদদেশস্থ ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত।কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ এবং আসামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য পদ্মার উপরে সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়ে। তারই প্রেক্ষাপটে ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ দুই লেনবিশিষ্ট হার্ডিঞ্জব্রিজ রেল চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে উত্তরবঙ্গেরশিলিগুড়ি থেকে চিলাহাটি হয়ে কলকাতা ওভারতের অন্যান্য স্থানে মালামাল সরবরাহ ওযাত্রী চলাচল গাড়ি বদল ছাড়াই সম্ভব হয়ে ওঠে।১৯২০ সালে রেলওয়ে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে জগন্নাথগঞ্জ ঘাটপর্যন্ত ইস্টার্ন বেঙ্গলক রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত৮৮ কিলোমিটার বেসরকারি রেললাইন রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভক্তির পর বেঙ্গল-আসাম রেলওয়ে পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তান উত্তরাধিকার সূত্রে পায় ২,৬০৬.৫৯ কি.মি. রেললাইননএবং তা ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে (ইবিআর) নামে পরিচিত হয়। ইবিআর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ব্রডগেজ এবং ২,১০০ কিলোমিটার মিটারগেজ।বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরএদেশের রেলওয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়বাংলাদেশ রেলওয়ে,যা উত্তরাধিকার সূত্রে পায়২,৮৫৮.৭৩ কিলোমিটার রেলপথ ও ৪৬৬টি স্টেশন। ৩ জুন ১৯৮২ সাল,রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্তহয়ে এর কার্যক্রম যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলওয়ে বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং বিভাগের সচিব ডিরেক্টর জেনারেল পদপ্রাপ্ত হন।১২ আগস্ট ১৯৯৫ সাল, বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিগত পরামর্শ দানের জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্টবাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (BRA)গঠন করা হয় এবং এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন যোগাযোগমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু সেতু উন্মুক্তকরণের ফলে জামতৈলথেকে ইব্রাহিমাবাদ ব্রডগেজ রেলপথেরমাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম রেলমযোগাযোগ শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন থেকে।সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।২০১১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে যোগাযোগমন্ত্রণালয়কে ভেঙ্গে নতুন রেল মন্ত্রণালয় গঠনকরা হয়। প্রথম রেল মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এরপর ২০১২ সালে এইমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান মুজিবুল হক।প্রকারভেদ বাংলাদেশ রেলওয়েকে যমুনা নদীর অবস্থানের ভিত্তিতে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যথা:পূর্বাঞ্চল পশ্চিমাঞ্চল বাংলাদেশের রেলওয়ের ৪ ধরণের লাইন আছে।যথা:1. ব্রডগেজ 2.মিটারগেজ 3. ডুয়েলগেজ 4. ন্যারোগেজ (বন্ধ আছে)মিটারগেজ: যেসব রেললাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১ মিটার তাকে মিটারগেজ লাইন বলা হয়।এসব লাইন যমুনা নদীর পূর্বাংশে অবস্থিত।

ব্রডগেজ: যেসব রেললাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১ মিটারের বেশি ঐ সব রেললাইনকে ব্রডগেজরেললাইন বলে।বাংলাদেশে এ সব লাইন যমুনা নদীর পশ্চিমাংশে অবস্থিত।রেল পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামো নিম্নোল্লিখিত তথ্যাদি[১]থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মপরিধির একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে।রেলপথের দৈর্ঘ্যস্টেশন ও জংশনের সংখ্যা বাৎসরিক যাত্রী পরিবহন বাৎসরিক পণ্য পরিবহন বাৎসরিক রাজস্ব রেলসেতুর সংখা লেভেল ক্রসিং সারা দেশে চলাচলকারীর সংখ্যা আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ট্রেন সংখ্যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের পাক- ভারত যুদ্ধ অবধি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বেনাপোল এবং দর্শনা এই দুই যাত্রাপথে রেল যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘ ব্যবধানের পর ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিলে ( পয়লা বৈশাখ)ঢাকা থেকে ভারত-এর কলকাতা শহর পর্যন্তমৈত্রী এক্সপ্রেস নামকম সরাসরি রেল যোগাযোগপুনঃস্থাপিত হয়। ২০১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচলের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটো ট্রেন নিযুক্তমরয়েছে।[২] মিয়ানমারেরসঙ্গে বাংলাদেশের কোনো রেল যোগাযোগ নেই।ব্যবস্থাপনা কাঠামো বাংলাদেশ সরকারের অধীনরেল বিভাগ আছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।