রবিবার ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বিএমডিএর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৭ মাস অনুপস্থিত

আপডেটঃ ৮:২৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

দেশব্যাপি করোনায় আতঙ্ক শুরু হয় গত মার্চ মাস থেকে।এরপর মাঝে দুই মাস ছিলো সাধারণ ছুটি।ছুটি শেষে সবকিছুই যেন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে।অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সবখানেই কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।হাটে-ঘাটে মানুষে মানুষে ভিড়ও প্রায় স্বাভাবিক।কিন্তু করোনার ছুটি যেন এখনো শেষ হয়নি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজশাহী সদর দপ্তরের এক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর।করোনা আতঙ্কের দোহায় দিয়ে গত সাত মাসে তিনি অফিস করেছেন মাত্র একদিন।সেও গত ১ নভেম্বর।এরপর আর অফিসে আসেননি।অথচ সুমন্ত কুমার বসাক নামের এই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাটোরে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি বৃহৎ প্রকল্পের পরিচালক তিনি।এই প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি প্রায় ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে কয়েক ধাপে।টেন্ডারের ফাইল স্বাক্ষরসহ সমস্ত কাজ এই প্রকৌশলী করেছেন বাড়িতে বসে।

নগরীর সিএন্ড মোড় এলাকায় আলিশান বাড়িতে বসেই চলে তাঁর অফিসের ফাইলের স্বাক্ষরের কাজকর্ম।কিন্তু তিনি অফিসে আসেন না।ফলে অফিসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঘটছে চরম ব্যাঘাত।তাতে কি ক্ষমতার দাপটে এই কর্মকর্তা অফিস না করেই নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে যাচ্ছেন মাসের পর মাস।আর এ নিয়ে বিএমডিএ জুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, সুমন্ত কুমার বসাকের প্রকল্পের আওতাধীন অনুষ্ঠিত প্রায় ৩০ কোটি টাকার টেন্ডারও ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে তাঁর বাসায় বসে।ফলে সর্বনিম্ন দর দিয়ে বঞ্চিত হয়েছেন অনেক ঠিকাদার।আর এ নিয়ে ঠিকাদারদের মাঝেও দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা।

বিএমডিএ সূত্র মতে, গত ২৫ মার্চের পর মাত্র একদিন অফিস করেছেন বিএমডিএ সদর দপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক।গত ১ নভেম্বর তিনি অফিস করে চলে যান।এরপর আর অফিসে আসেননি।তাঁর স্বাক্ষরের জন্য অফিসের পিয়ন বা অন্য কোনো ব্যক্তি ফাইল নিয়ে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকার বাসিন্দা সুমান্ত কুমার বসাকের বাড়িতে।জানতে চাইলে বিএমডিএ’র কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সাত মাসে মাত্র একদিন যদি কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসেন, তাহলে কিভাবে ওই দপ্তরের কাজকর্ম চলে? এদিকে বিএমডিএ সূত্র জানায়, নাটোরের প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে পরিচালক সুমান্ত কুমার বসাককে পরিচালকও করা হয় নিয়ম ভেঙে।প্রকল্পটির মেয়াদকাল ৪ বছর।সেই হিসেবে ২০২৪ সালে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।অপরদিকে সুমন্ত কুমার বসাকের চাকরির মেয়াদও শেষ হচ্ছে একই বছরেই।যদিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও প্রকল্প পরিচালকের কমপক্ষে ৬ মাস চাকরি থাকার নিয়ম আছে।ফলে নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রকল্প পরিচালক হতে পারেন না।

আবার তাঁর ওই কাজেরও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।তারপরেও এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুমন্ত কুমার বসাককে প্রকল্প পরিচালক করা হয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে।অন্যদিকে এরই মধ্যে নাটোরের ইআইআরএফ নামের খাল খনন ও ইরিগেশন প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি গ্রুপে সম্পন্ন হওয়া প্রায় ৩০ কোটি টাকার টেন্ডারও ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার।তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ‘ভাগ-বাটোয়ারার কারণে টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কেউ কেউ কাজ পাননি।একেকজনকে মূল টাকার ১৫ ভাগ অর্থ দিয়ে কাজ নিতে হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক সুমন্ত কুমার বসাক বলেন, শারীরিক নানা সমস্যার কারণে নিয়মিত অফিসে যেতে পারি না।তবে মাঝে মাঝে যায়।কয়েকদিন আগেও গিয়েছি।কিন্তু সাত মাসে একদিন অফিস করার বিষয়টি ঠিক নয়।’আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার পেতে নানা তদবির ফোন আসে।কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকেই যতটুকু ম্যানেজ করে চলা যায় সেটিই করা হয়েছে।কাউকে অনিয়ম করে কাজ দেওয়া বা ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়টি সঠিক নয়।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।