রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীর বাঘায় ১৫ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা

আপডেটঃ ১:৩৯ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৭, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি শীত মৌসুমের শুরুতে চলছে খেজুর গুড় উৎপাদনে ব্যস্ততাই গাছি কৃষকেরা।এই উপজেলার খেজুর গুড়ের খ্যাতি দেশজুড়ে।চলতি শীত মৌসুমে খেজুর গুড় থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৩৮৯ জন গাছি কৃষি পরিবার রয়েছে।বাগানসহ সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনা মিলে ৭৩ হাজার খেজুরগাছ আছে।একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন।বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার হাজার গাছি রস সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে।প্রতি মৌসুমে তারা খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকানির্বাহ করেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একেকজন কৃষক তাদের গাছের সংখ্যা অনুপাতে গাছি নিয়োগ করেন।তারা মৌসুম জুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকেন।উপজেলার আমের যেমন দেশজুড়ে খ্যাতি, তেমনি সুমিষ্ট খেজুর গুড়ের খ্যাতিও রয়েছে।উপজেলায় গুড়ের প্রধান হাট বাঘা ও আড়ানী।এরপর রয়েছে মনিগ্রাম ও দিঘাসহ অন্যান্য হাট।

সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার বাঘারহাট বসে।এ হাটেই সবচেয়ে বেশি গুড় বেচাকেনা হয়।উপজেলার বাঘা ও আড়ানী পৌরসভা ছাড়াও বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, বাউসা ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের অন্যান্য হাটেও কম-বেশি গুড় বেচাকেনা হয়।তবে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই বাঘা ও আড়ানী হাটে গুড় বিক্রি করতে আসেন।বাঘার হাটে রোববার প্রতি কেজি খেজুর গুড় ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হয়।মৌসুমের একেবারে শুরুতে এ গুড়ের দাম প্রতি কেজি ১০৫-১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতে বেশি দামে গুড় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কমে যায়।তবে আর কিছুদিন পরই শুরু হবে ভরা মৌসুম।বাঘা বাজারের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার এনামুল হক বলেন, পুরো শীত মৌসুম এখনো শুরু হয়নি।

তবে দেড় থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাপক হারে গুড় বেচা কেনা শুরু হবে।শীত বেশি পড়লে গুড়ের উৎপাদন ভাল হয়।বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, চলতি মৌসুমে মানুষ খেজুর গুড় থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আয় করবে।উপজেলার ৩৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭৩ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদনে সহায়তা দেয়া হলে এই শিল্পকে আরো লাভজনক করা সম্ভব। ফলে বিদেশেও গুড় রফতানি করা যেতে পারে।এছাড়া এই গুড় থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।