বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

অর্থের চেয়ে কর্তব্য বড় প্রমান করলেন আরএমপির এক এসআই

আপডেটঃ ২:০৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

৫ লক্ষ টাকার ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধারসহ দুই স্বর্ন পাচার কারিকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের এসআই আব্দুল মতিন।এমন একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও নগরবাসির মুখে মুখে এখন ভাইরাল।প্রবাদ আছে পুলিশের নামে, তারা নাকি ৫০/১০০ টাকাও ঘুষ নেন।পুলিশ সম্পর্কে এমন ধারণা রয়েছে অনেকের, ‘ঘুষ দিলেই পুলিশকে ম্যানেজ করা সম্ভব’।তবে এদের সংখা অতি নগন্ন।পুলিশে সিংহ ভাগ কর্মকর্তাই সৎ।যারা কোটি টাকার ঘুষের অফারও ফিরিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে।কোটি টাকার লোভ সংবরণ করে দেশের স্বার্থে নিজের পেশাগত দায়িত্বকেই প্রাধান্য দেন তারা।৫ লক্ষ টাকার ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ  টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধার করে এমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ বা দৃস্টান্ত সৃষ্টি করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নিবারন চন্দ্র বর্মন (পিপিএম) ও এসআই আব্দুল মতিন।প্রচলিত পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষের ধারণা পাল্টে দিয়ে এসআই মতিন দেখিয়ে দিলেন, ‘ঘুষ দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।

পুলিশ বাহিনীতে সততার এমন উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে সমগ্র রাজশাহী মহানগরী ও মেট্রোপলিটন পুলিশ মহলে এখন তিনি আলোচিত।তার সততায় গৌরবান্বিত রাজশাহী মহনগ পুলিশসহ  পুরো পুলিশ বাহিনীও।ডেটলাইন;-গত১ অক্টোবর সন্ধা সাড়ে ৬ টার সময়  নগরীর বর্নালীর মোড় এলাকা থেকে,  ঢাকা মেট্রো ব-১৫-২২৫১  নং গ্রামীন ট্রাভেলস বাস থেকে ২ টি স্বর্ণের বারসহ ২ স্বর্ন ব্যাবসায়ীকে আটক করে।আটক কৃতরা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপর রাজারামপুর (কুমারপাড়া),বর্তমান ঠিকানা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি থানার দরগাকুশিরা এলাকার মৃত মহসিন আলীর ছেলে আজিজুর ইসলাম (৪০) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন হরিনগর তাঁতিপাড়া এলাকার আঃ মঙ্গুর ছেলে ফারুক হোসেন (৩২)।তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪সালের ২৫বি/১/বি ধারায় মামলা রুজু শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করেন।ঘটনার পরপরই  স্বর্ন চোরাকারবারিদের গড ফাদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার এক প্রভাবশালী  ইউপি চেয়ারম্যান, স্বর্ণেরবারসহ আসামীদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন।

ঘটনার পর থেকে,  পর দিন অর্থাত ২ অক্টোবর  দুপর পর্যন্ত প্রায় ২৫ বার, তার ব্যবহ্রত মোবাইল থেকে  স্বর্ণেরবারসহ আসামীদের ছেড়ে দেয়ার জন্য ৫ লক্ষ টাকার অফার দেন।এই অফার প্রত্যাক্ষান করলে ঐ চেয়াম্যান পুলিশের উপর মহলে তার নামে অভিযোগ করে হয়রানী ও চাকুরী চ্যুতের ভয়ও দেখান।সকল লোভ লালসার উর্ধেথেকে নিজ কর্তব্য পালনে অনড় থেকে ওসির কথামত তিনি থানায় মামলা রুজ্জু করে আসামীদের আদালতে পাঠান।সততার এ নজির স্থাপনকারী এসআই আব্দুল মতিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার হরিনগর তাঁতিপাড়ার,  ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

তিনি ১৯৮৫ সালের পহেলা মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।তিনি পুলিশে কন্সটেবল পদে যোগদান করেন ২০০৫ সালের ৫ আগস্ট।এরপর আরএমপিতে যোগদান করেন, ২০০৫ সালের ৮ আগস্ট। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সাথে, আরএমপিতে চাকুরী করেন।তার সততা ও কর্মদক্ষতার জন্য  তিনি কন্সটেবল থেকে এ এস আই পদে পদোন্নতি পান ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর।এরপর আবারো আরকধাপ পদন্নতী এসআই পদে।তিনি এই থানায় একজন সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।ভালো কাজের জন্য তিনি বহুবার শ্রেষ্ট অফিসারে ভূষিত হয়েছেন।পেয়েছে  সম্মননা সনদ ও নগদ পুরুস্কার এমন সৎ অফিসার পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তী উজ্জল করে।তারা দেশ ও মানুষে অহংকার।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।