বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাাহী সব্জির বাজার অস্থিতিশীল দফায় দফায় বেড়েই চলছে দাম বেগুনে আগুন

আপডেটঃ ৪:২১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৩, ২০২০


নিউজ ডেস্কঃ

প্রায় দুই মাস ধরেই রাজশাহীতে সবজির বাজার অস্থিতিশীল।বারবার ওঠানামা করছে সব্জির দাম।সবজি কিনতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠলে আপাতত দাম কমার কোন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না।বরং দফায় দফায় বাড়ছে সবজির দাম।৩ অক্টোবর শনিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সবজির দামই চড়া।মাত্র দুই একদিনের ব্যবধানেই কোন কোন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।বারবার সবজির দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।আর বিক্রেতারা আছেন নির্বিকার।তারা বলছেন, বন্যার এই সময়ে সবজির দাম বেড়ে যাওয়াটা অনেকটাই স্বাভাবিক।তারাই বেশি দাম দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনছেন।ফলে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।তবে বিক্রেতাদের এই বক্তব্য মানতে নারাজ ক্রেতারা।ক্রেতাদের দাবি, বন্যা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এই পরিস্থিতিতে যতটা দাম বাড়ার কথা তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা।শুক্রবার বাজারে সব সবজির দামই ছিলো খুব চড়া।মাছ ও মাংস আগের মতোই স্থিতিশীল থাকলেও সবজির দাম খুব বাড়তি।পটলের দাম কেজিতে একদিনের ব্যবধানইে বেড়েছে ১০ টাকা।পটল বৃহস্পতিবার ৫০ টাকা কেজি থাকলেও শুক্রবার ছিল ৬০ টাকা।বেগুনেরও দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে।বেগুন এখন ৭০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।দাম বেড়েছে ঢেঁড়সেরও।ঢেঁড়স ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।বাড়তি দাম টমেটো, করলা, পটলেরও।করলা ও টমেটোর দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা করে।তিন দিন আগেও টমেটো ৫০ টাকা কেজি থাকলেও এখন ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।তেমনি করলার দাম বেড়ে কেজি প্রতি হয়েছে ৮০ টাকা করে।শসার দাম হয়েছে লাগামছাড়া।শসা কয়েকদিন আগে ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন ডাবল দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।শসার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা।

তবে কোন কোন দোকানে ৭০ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে।বাড়তি দামের কবলে পড়েছে মুলা, পেঁপে, ঝিঙ্গা ও বরবটিও।সহজলভ্য এই সবজিগুলো আর সহজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা।এই সবজিগুলো কিনতেও বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।পেঁপে ও মুলার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে।এখন মুলা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।তেমনি ৩০ টাকা কেজিতে পেঁপে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ঝিঙ্গার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে।ঝিঙ্গার দাম হয়েছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা করে। তবে বরবটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা করে।তিনদিন আগে বরবটি ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও শুক্রবার ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।তবে এই সপ্তাহে কমেছে কাচাঁমরিচের দাম।গত সপ্তাহে কাচাঁমরিচের কেজি ছিলো ২০০ টাকা।তবে এখন ৪০ টাকা কমে দাম হয়েছে কেজি প্রতি ১৬০ টাকা।তবে এখনও আগের মতোই এক দামই আছে আদা ও রসুনের।

এক সপ্তাহ আগেও রসুনের দাম ছিলো কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।এখনও এই দামেই পাওয়া যাাচ্ছে রসুন।তেমনি আগেও দামেই ক্রেতারা কিনতে পারছেন আদা।আদা গত সপ্তাহের মতোই ১২০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায় কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।তবে দাম বাড়তি পেঁয়াজের।লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে পেঁয়াজের।দেশী পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন আর এই দামে পাওয়া যাচ্ছে না।পেঁয়াজের দাম এখন হয়েছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা।দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজেরও।ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিলো কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা।তবে এখন দাম বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।বাড়তি এই দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।নগরীর সাহেব বাজারে এসেছিলেন পলি রাণী সাহা।তিনি বলেন, আমি সবসময়ই বাজার করি।গত এক মাস ধরেই সব সবজির দাম অনেক বেশি।মাছ ও মাংসের দাম ঠিক থাকলেও সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই কয়দিনে রাজশাহীর বন্যা পরিস্থতির অনেক অবনতি হয়েছে।রাজশাহীর অনেক ফসলি জমি ডুবে গেছে।আর এই জন্যই গত তিন চার দিনে সবজির দাম আরো বেড়েছে।বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দাম কমতে দেরি হবে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।