মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহী মহানগর আঃলীগ কমেটিতে দুর্দিনের ত্যাগীরা উপেক্ষিত

আপডেটঃ ৪:১১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

কেন্দ্রে জমাকৃত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা রাজশাহী মহনগর আওয়ামী লীগের কমিটি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ হয়েছে।কমিটিতে ত্যাগীদের বঞ্চিত করে, হাইব্রিড, ভূমিদস্যু, টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখার কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি গোপন রাখার চেস্টা করেছে।কিন্তু পত্রিকায় প্রস্তাবিত কমিটি প্রকাশ হয়ে গেলে, নগরীতে আওয়ামী লীগের সকল স্তরে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।কর্মীদের সমালোচনার তোপের মুখে নেতারা এই মুহুর্তে মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রস্তাবিত কমিটিতে একাধিক বিতর্কিত নেতাকে রাখা নিয়ে শহর জুড়ে দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পরেছে।প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি মাহফুজুল আলম লোটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘৭৫ পূর্ববর্তী সময় থেকেই জাসদের রাজনীতিতে জড়িয়ে ছিলেন।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ফ্রিডম পার্টি গঠন করলে, লোটন রাজশাহীতে সংগঠিত করার দায়িত্ব পাল করেন।বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক ও রশিদ রাজশাহীতে সাংগঠনিক সফরে এসে তার বাড়িতে আতিথিয়েতা গ্রহন করেন।এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিয়োগ বানিজ্য, ভূমি দস্যুতার অভিযোগও তার নামে রয়েছে।দেশের শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী বর্তমান কারাগারে আটক শিষ মোহাম্মদের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিলো।তার মাধ্যমেই শিষ মোহাম্মদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ পায়।প্রস্তাবিত কমটিতে সহসভাপতি পদে আছেন প্রনব পান্ডে নামে একজন।যাকে সংগঠনের কোন স্তরের নেতা-কর্মীরাই চিনে না।অধিকাংশ নেতা-কর্মীই বলেন, তারা এই নাম প্রথম শুনলো।

কমিটির আরেক সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী।তার নামে বিস্তর অভিযোগ।কর্মী নয়, নেতার প্রিয়পাত্র হিসাবেই বারবার স্র কমিটিতে জায়গা পান।বারবার আত্রাই- রানীনগর আসনে মনোনয়ন চাওয়া এই নেতা, সম্পূর্ণ কর্মী বিচ্ছিন্ন।কোন কর্মীর সঙ্গেই তার কোন যোগাযোগ নাই।একসময়ে জাতীয় পার্টি করার এবং স্বৈরাচার এরশাদ পতনের পর, আওয়ামী লীগে যোগদানেরঅভিযোগ রয়েছে তার নামে।যোগদানের পর থেকেই নেতাদের তোষামোদী করেই চলছেন তিনি এবং পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বারবার।সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনীতদের মধ্যে একজন আসলাম সরকার।তিনিও সম্পূর্ণ কর্মী বিচ্ছিন্ন।তাকেও কর্মীরা উপহাস করে ‘ওয়ান ম্যান আর্মী’ বলে ডাকে।এই সাবেক ছাত্র সমিতি ও ন্যাপ নেতা আসলাম সরাকার, তার পিতা এবং তার স্ত্রী, তিনজনেই দলের থেকে বহু সুবিধা নিয়েছেন।তার এক ভাইকে রুয়েটে চাকরি দিয়েছে।কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনীত হওয়া এবিএম হাবিবুল্লাহ ডলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাবেক জাসদ এই নেতা ২০০৮ সালের পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে।কোন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা অংশগ্রহন না থাকলেও শুধুমাত্র টাকার জোরেই সে কমিটিতে স্থান পেয়েছে।

কোন রকম কর্মী যোগাযোগ না থাকলেও শীর্ষ এক নেতার আত্মীয়তার সূত্রে এবং নেতাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতার কারণেই সে কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলেই মনে করে দলের নেতা কর্মীরা।আইন সম্পাদক পদে মনোনীত এ্যাড. মোসাব্বিরুল ইসলামের নামে সীমাহীন অভিযোগ।তার নামে প্রথম যে অভিযোগ তা হলো, মুসাব্বির সাবেক ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মী এবং ক্যাডার।জোট সরকারের শাসনামলে সে শিবিরের নেতাদের সাথে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের নেতা- কর্মীদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন এবং চাদা নিতো।২০০৯ সালের পর জামায়াত সমর্থক পরিবারের মুসাব্বির আওয়ামীলীগে যোগ দেয়।সে বিভিন্নভাবে রাজশাহী কোর্টের আওয়ামী পন্থী আইনজীবিদের মধ্যে মতভেদ তৈরীর মধ্যমে দুরত্ব সৃষ্টি করে সংগঠনকে দূর্বল করেছে।এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক পদে থাকা মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান রাজা ২০১০ সালে বাম রাজনীতি থেকে এসে আওয়ামী লীগে গত কমিটিতে তোষামোদের মাধ্যমে পদ পেয়ে যায়।সেই তোষামোদির ধারবাহিকতায় এবারও পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

প্রস্তাবিত কমিটিতে জিয়া হাসান আজাদ হিমেল রয়েছেন।যিনি দলের কর্মসূচীর থেকে বেশি সময় ব্যায় করেন নেতার এবং নেতার স্ত্রীর তোষামোদিতে।তোষামোদির মাধ্যমে ছাত্রলীগের কমিটিতে একবার পদ পাওয়া এই হিমেল প্রায় ২০ বছর যাবত গ্রামীন ফোনে স্থায়ী চাকরী করে এবং বর্তমানে তার পোস্টিং টাঙ্গাইলে।সে চাকরির কারণে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে না থাকলেও নেতাদের আশেপাশে তাকে ঘুরঘুর করতে দেখা যায় সর্বদা।প্রস্তাবিত কমিটিতে থাকা প্রচার সম্পাদক পদে রয়েছেন দিলীপ কুমার ঘোষ।মেয়র পত্নীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিএনপি, জামায়াত থেকে হাইব্রিডদেরকে দলীয় পরিচিতি প্রদান, নিয়োগ বানিজ্য ও নেতার তোষামোদির অভিযোগ রয়েছে খুলনার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে।রুয়েটের চাকরী বিধি ভেঙ্গে তাকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।তাদের অভিযোগ দিলিপ কুমার যতটা না আওয়ামী লীগার তার থেকে বেশি সে মেয়র পত্নীর কাছের মানুষ।মেয়র কন্যার গৃহ শিক্ষক সুবাদেই রাজনীতিতে তার উত্থান।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক শ্যাম দত্তকে কোন নেতা- কর্মী চিনতেই পারছে না।সকলের মুখে মুখে একই প্রশ্ন, কে এই শ্যাম দত্ত? সে কিভাবে মহানগর কমিটিতে স্থান পেলো? সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর পক্ষে ভোটের ক্যাম্পেন করা এই বিএনপি নেতার এবারের কমিটিতেও স্থান পাওয়া নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০১০ সালের পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এই বিএনপি নেতা কিভাবে মহানগর কমিটিতে স্থান পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন কর্মীদের মাঝে।প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য পদে থাকা সামসুজ্জামান আওয়ালের অন্তর্ভুক্তিতে দলের সকল স্তরেই চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।কেননা আওয়ালের নামে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।গত রাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হারের অন্যতম কারণ মনে করা হয় এই টেন্ডার মাফিয়াকে।টেন্ডার নিয়ন্ত্রন, নিয়োগ বানিজ্য, ভূমি দস্যুতাসহ অনেক অপকর্মের মূল হোতা আওয়াল গত রাসিক নির্বাচনে মেয়র পরাজয়ের পর দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে সে রাজশাহী ছেড়ে স্বপরিবারে ঢাকায় চলে যায় এবং বর্তমানে সে ঢাকাতেই স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে আছেন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।