সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী নতুন করে বন্যায় ১৯ গ্রাম প্লাবিত ধ্বসে গেছে রাস্তাঘাট ও ২ শতাধিক বাড়িঘর

আপডেটঃ ১:৫২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার পানিতে গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এর মধ্যে উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের সবগুলোই এখন বন্যার পানিতে সয়লব।ওই ইউনিয়নের অন্তত দুইশত কাঁচা বাড়িঘর ধ্বসে পড়েছে বলে জানা গেছে।এর মধ্যে মুরারিপাড়া, কুলিবাড়ি, আমবাড়িয়া, মন্দিয়াল, কোহিতপাড়া, কড়বিহানালী ও পুর্বকান্দিসহ অনেক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বেকায়দায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে বানভাসীরা।উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৩টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে কম বেশী ভাসলেও সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বড়বিহানালী, দ্বীপপুর, কাচারীকোয়ালীপাড়া ও ঝিকরা ইউনিয়ন।

পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।ইউনিয়ন গুলোতে বন্যার পানি ঢোকার কারনে সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি হুমকির মাঝে রয়েছে।অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গাতে।কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সকল সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।বন্যায় কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্লাবিত হয়েছে।কাচারী কোয়ালীপাড়া, সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী, ঝিকরা, যোগীপাড়া, গনিপুর, বাসুপাড়া শুভডাঙ্গা, যোগীপাড়া ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নতুন ভাবে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।নতুন নুতন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।পরিবার পরিজন নিয়ে রান্নার জায়গা না থাকায় অনেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছেন।এবারের বন্যায় কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেননি উপজেলা প্রশাসন।তবে দুই এক দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে।বন্যায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার মধ্যে ১৩ টি ইউনিয়নের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ধান পানির নীচে ডুবে গেছে।এছাড়াও পুকুর ও বিলের চাষ করা কয়েক হাজার কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

পানবরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি অপরিমান ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।এলাকার বানভাসীদের অভিযোগ বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার পরেও উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি।তারা রান্নার অভাবে অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।স্থানীয় সাংসদের প্রেস সচিব জিল্লুর রহমান জানান,আগামী কাল বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন ও বানভাসী মানুষদের মাঝে ত্রান বিতরন করবেন।যার কারনেই দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে বানভাসীদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন।বড়বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন জানান, গত কয়েকদিনের বর্ষন ও বন্যায় ইউনিনের সবগুলো গ্রামই প্লাবিত হয়েছে।

এই ইউনিয়নের সাড়ে চার হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় চার হাজার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ জানান, ক্ষতির পরিমান নির্ধারনের জন্য স্ব স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।দুই এক দিনের মধ্যেই ক্ষতির পরিমান ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগগ্রস্তদের সরকারী ভাবে সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।