মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

কৃষকের প্যাকেজ প্রণোদনা ঋণে নানারকম জটিল শর্ত; আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারি-কৃষকরা

আপডেটঃ ২:৩৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক-খামারিদের ক্ষতি পোষিয়ে নিতে সরকার স্বল্প সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণের ঘোষণা দেন।কিন্তু নানারকম জটিল শর্তের কারনে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে কৃষক ও খামারিদের।এর ফলে প্রণোদনার ঋণে নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা।রাজশাহী জেলার কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ঋণ গ্রহীতাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে না, বরং ঋণ গ্রহণে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ ফুল, ফল, শস্য, মাছ, হাঁস, মুরগি, দুগ্ধ খামার এবং প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের সাথে জড়িত গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক ও খামারিরা এ ঋণ পাওয়ার কথা।কিন্তু অধিকাংশ কৃষক ও খামারিরা ব্যাংক থেকে বিশেষ প্রণোদনার এ ঋণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে অসৈজন্যমূলক আচরণ, ঋণের টাকা পরিশোধের নিশ্চয়তায় দলিল ও জামানত জমা রাখাসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এমনকি একাধিকবার যেতে হচ্ছে ব্যাংকে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রণোদনা প্যাকেজের কোনোটাই কোনো অনুদান নয়, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এই ঋণ দেবে।ঋণের সুদের কিছু অংশ সরকার বহন করবে এবং বাকিটা ওই গ্রাহককে দিতে হবে।সরকার কিছু সুদ বহন করবে, এটাই এই প্রণোদনা প্যাকেজের মূল বৈশিষ্ট্য।ফসল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঋণে বেশি আগ্রহ থাকলেও নানা কারণে ডেইরি ও ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি খামারিদের আগ্রহ অনেকাংশে কমে গেছে।প্রণোদনা ঋণ ঘোষণার পর ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনায় ছিলেন ক্ষতিগ্রস্তরা।বর্তমানে সেই আগ্রহে ভাটা পড়েছে।সরকারি ব্যাংকে ঋণ গ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের একধরনের অনীহা জন্মেছে।সরকারি ব্যাংকের বিপরীতে ঋণ বিতরণে মাঠে নেমেছে বেসরকারি এনজিও।ঋণ বিতরণে তারা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলছেন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।প্রণোদনা ঋণ সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানান, ব্যাংকগুলো প্রণোদনা ঋণে খামারিদের আগ্রহ করার বিপরীতে অনুৎসাহিত করছেন।

খামারিরা ঋণ গ্রহণে আগ্রহ থাকলেও তাতে ভাটা পড়েছে।ব্যাংকগুলো অলিখিত নানা শর্ত জুড়ে বিব্রত ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেইসাথে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে এমন ভয়ে নাজেহাল ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা সরকারি ঋণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অধিকাংশ পোল্ট্রি খামারিদের।রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, প্রণোদনার জন্য একটা তালিকা করা হয়েছে।প্রণোদনার যে টাকা আসবে তা খুবই সামান্য, আট-দশ হাজার টাকা।ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় খামারিদের আট-দশ লাখ টাকা করে ঋণের ব্যবস্থা করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ।প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেও ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আগ্রহী নন।নানা শর্ত জুড়ে খামরিদের অনুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে একাধিক খামারি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন।প্রণোদনা ঋণে খামারিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর এলাকার পোল্ট্রি খামারি মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, প্রথমে প্রণোদনা ঋণের বিষয়ে জেনে ব্যাংকে যোগাযোগ করলে জমির দলিল, খারিজ কপিসহ নানা ঝামেলা ও উদ্ভট শর্ত পূরণ করে ঋণ নিতে বলে।

সবার তো আর জমির দলিল নেই, নিজের কাছে থাকে না। তাই ব্রাক ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি।তারা আবার লাখে ২০ হাজার টাকা রেখে দিয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্যাশ দিয়েছে। সরকারি ঋণ যদি সহজে পাওয়া যেত তাহলে এ অবস্থা হতো না।একই এলাকার বাসিন্দা রাকিব বলেন, জটিলতার কারণে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হওয়ার পরও সরকারি ঋণ নেইনি।আশেপাশে দু-একজন যদি ঋণ নিতে পারত, তাহলে তার দেখাদেখি ঋণ নিতে পারতাম।সরকারি ঋণ নিলে নানা ঝামেলা থাকে।আশেপাশের একজনও ঋণ পাননি।আর সরকারি ঋণ সবাই পায় না।যাদের ব্যাংকে ভালো যোগাযোগ আছে, উঠাবসা আছে তারাই ঋণ পায়।সাধারণ খামারিদের এই ঋণ দেবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই খামারি।এদিকে, রাজশাহী নগরীর পঞ্চবটি এলাকার খামারি আরাফাত রুবেল ডেইরি খাতে বেসরকারি ঋণ নিতে গিয়ে পড়েন বিড়ম্বনায়।তিনি বলেন, ঋণের জন্য শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকে আবেদন করেছিলাম।শুরুর দিকে যারা আবেদন করেছিলেন তারাই পাবে, আমারটা বাতিল হয়ে গেছে।আমি এখন কৃষি ব্যাংকে অথবা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে যোগাযোগ করব।

এ বিষয়ে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেন বলেন, ১০-১৫ বছর আগে হয়ত কিছু বিষয়ে জটিলতা ছিল।এখন সম্পূর্ণ জটিলতামুক্ত।কোন ধরণের অনিয়ম করার সুযোগ নেই।যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য তারাই ঋণ পেয়েছেন এবং পাবেন।প্রান্তিক পর্যায়ে পোল্ট্রি খামরি, ডেইরি, ফসলসহ কৃষি প্রণোদনা খাতের ঋণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।আমাদের সপ্তাহে ৭ দিনই মনিটরিং চলছে।স্বয়ং মাঠে নেমেছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্যার।প্রণোদনা ঋণের বিষয়ে উপযুক্তরা আবেদন করলে প্রত্যেককে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।৩৮৩টি শাখায় ঋণ বিতরণ চলছে দুই-একটি শাখায় সামান্য সমস্যা হতে পারে।সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।তিনি আরোও বলেন, শুরুতে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ ছিল ১০ শতাংশ।ক্রমেই বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ। বর্তমানে ৫৫ শতাংশেরও বেশি কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন।গত জুলাই-আগস্ট দুইমাসে ৬০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ প্রদান করা হয়েছে।প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে।যাতে তারা সহজেই এ ঋণ নিতে পারে।ঋণ নিতে কোন জটিলতা নেই বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।