রবিবার ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে টিউমার কাটতে শিশুর কিডনি কেটে ফেলেছেন চিকিৎসক

আপডেটঃ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীতে টিউমারের অপারেশনের সময় শিশুর কিডনি কেটে ফেলেছেন এক চিকিৎসক।এ ঘটনায় শিশুটির বাবা উজ্জ্বল (৩০) নগরীর রাজপাড়া থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।২০ আগস্ট রোববার সন্ধায় তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন।উজ্জ্বলের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা গ্রামে।তার বাবার নাম নরেস।আর অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম।তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।গত ১৩ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় বেসরকারি রয়্যাল হাসপাতালে তিনি উজ্জ্বলের মেয়ে অনুর পেটে অস্ত্রোপচার করেন।অস্ত্রোপচারের সময় কিডনি ফেলে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম।তিনি বলেন, টিউমার ছিল কিডনিতে। সেটা ক্যান্সার। সে কারণেই ফেলে দেয়া হয়েছে।আর অস্ত্রোপচারের সময় শিশুটির অভিভাবক যারা ছিলেন তাদের বিষয়টি জানিয়ে অনুমতি নেয়া হয়েছে।তবে ওই সময় শিশুর বাবা উজ্জ্বল হাসপাতালে ছিলেন না।উজ্জ্বল বলেন, তার মেয়ের কিডনিতে টিউমার বা সে ক্যান্সারে আক্রান্ত এমন কোন বিষয় তাদের জানানো হয়নি।তাদের না জানিয়েই শিশু অনুর কিডনি কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে।পরে শুধু ক্যান্সারের বিষয়টি জানানো হয়েছে দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসকের কাছে গেলে।

এ কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।তিনি বলেন, তার মেয়ে অনু জন্মের পর থেকেই পেটের সমস্যায় ভুগছিল।তার পেট ছিল অস্বাভাবিক বড়।প্রায় নয় মাস আগে উজ্জ্বল তার মেয়েকে রাজশাহীর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এবি সিদ্দিকীর কাছে নিয়ে যান।তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, অনুর পেটে টিউমার রয়েছে।তাই ডা. এবি সিদ্দিকী শিশু অনুকে রয়্যাল হাসপাতালে ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।তার কথামতো উজ্জ্বল তার মেয়েকে ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম অনুকে দেখার পর জানান তার মেয়ের পেটে অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করতে হবে।এরপর তার কথামতো গত ১২ এপ্রিল উজ্জ্বল তার মেয়েকে রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন।পরদিন বেলা ৩টার দিকে তার মেয়ের পেটে অস্ত্রোপচার করেন ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম।এরপর ১৭ এপ্রিল এই হাসপাতাল থেকে তার মেয়েকে ছুটি দেয়া হয়।ছুটি দেয়ার সময় ১৫ দিন পর তার মেয়েকে আবার ডা. সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।উজ্জল তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বাড়ি যাওয়ার পর অনুর শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি।১৫ দিন পর তার বাবা উজ্জ্বল আবার ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে যান।

তিনি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে বলেন, তার মেয়ের ক্যান্সার হয়েছে।এরপর উজ্জ্বল তার মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।শিশুটি এখনও এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ভর্তির পর রামেক হাসপাতাল থেকে অনুর পেট আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট আনতে বলা হয়।উজ্জ্বল গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর এলাকার দ্য এপোলো ডায়াগনষ্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান।এপোলো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা জানায় তার মেয়ের একটি কিডনিই নেই।একটি কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে।

এখানকার চিকিৎসকরা জানান, পেটের অস্ত্রোপচারের আগে যে সমস্ত ডায়াগনষ্টিক রিপোর্ট আছে, সেসবে অনুর দুটি কিডনিই আছে।কিন্তু অস্ত্রপচারের পর যে রিপোর্ট হচ্ছে তাতে তার একটি কিডনি দেখা যাচ্ছে না।রাজপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।প্রাথমিক তদন্ত করতে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।অভিযোগকারীকে রোগীর সমস্ত রিপোর্ট আনতে বলা হয়েছে।তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।