বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

মুক্তি যোদ্ধা ইসহাক আলীকে মূখে লাথি মারা – চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

আপডেটঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলীর স্ত্রীর চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু  লাশ আটকে রেখে সন্তান ও  মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাককে  মারপিটের ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজশাহী মহানগরীর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেছেন, রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদরা।এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছেন ২ ডজন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, কর্মী ও রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ।উল্লেখ্য য, মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী (৭৫)। গত বুধবার স্ত্রী পারুল বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।সঙ্গে তার ছেলে ও ছেলের বৌ ও ছিলেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে যান।এডমিশন স্লিপে লেখা হয়েছে স্ট্রোক।পরে পারুল বেগমকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে।পারুল বেগমের ছেলে রাকিবুল ডাক্তার-নার্সদের কাছে গিয়ে তার মাকে একটু দেখার জন্য হাতজোড় করে অনুরোধ করেন।কিন্তু কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তাতে কর্ণপাত করেননি।

এ সময় রাকিবুল আরেক শিক্ষানবিস ডাক্তারের কাছে যান। তারাও রোগীর কাছে আসেননি।মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী জানান,তার কান্না জড়িত আকৃতিতে তারা বিরক্ত হয়। অল্প বয়সী দু’জন ই-ডাক্তার ছুটে এসে ছেলে রাকিবুলকে মারধর শুরু করে।এ সময় দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।পরে আরও ১৫-২০ জন ইন্টার্ন ডাক্তার এসে ছেলে রাকিবুলকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।ছেলেকে রক্ষায় তিনি ও তার বৌমা এগিয়ে গেলে ওই ডাক্তাররা তার ওপরও হামলা করে।এ সনয় আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।নিজের পরিচয় দেয়ার পরও কয়েকজন অল্প বয়সী ডাক্তার মিলে আমার বুকে-মুখে-পিঠে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি আর লাথি মারতে শুরু করেন।আমি মেঝেতে পড়ে গেলে আমাকে টেনেহিঁচড়ে মারতে মারতে একটা ঘরে নিয়ে আটকায়।তখনও আমার ছেলে ও ছেলের বউকে তারা মারধর করছিল।কিছুক্ষণ পর আমাকে যে ঘরে আটকে রেখেছিল সেখানে আমার ছেলেকেও নিয়ে যায়।

এরপর আরও কয়েকজন নেতা গোছের ডাক্তার এসে ঘর খুলে আমার ছেলের সামনে আমাকে আবারও লাথি মারতে শুরু করে।আমার দাড়ি ধরে টানতে শুরু করে। মুখে ঘুষি মারতে থাকে।আমি তাদের পা ধরে মাফ চাইলেও তারা শুনেনি।আমি এখন বুকে খুব ব্যথা অনুভব করছি।আমার সারা শরীরে ব্যথা।আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।স্ত্রীকে বাঁচাতে না পারলেও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা কল্পনায়ও ভাবিনি।’আমরা এখন কার কাছে অভিযোগ দেব।আমরা কোন দেশে বসবাস করছি।’এজন্য কি জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছি।ঘটনার পর থেকে, মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের ওপর এমন ভয়ংকর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।রামেকে এক শ্রেণির শিক্ষানবিস ডাক্তারের দৌরাত্ম্য খুবই ভয়ংকর।

তারা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে এমন আচরণই করে আসছেন কয়েক বছর ধরে।এ ছাড়া ৫ বছর ধরে হাসপাতালটিতে মিডিয়া কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রেখেছে কতৃপক্ষ।একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি-কিল-ঘুষি মেরে আহত করা ই- ডাক্তারদের দ্রুত তদন্ত সর্বাপেক্ষা আইনের আওতায় না আনলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবার কথা ভাবছে রাজশাহীর মানুষ।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।