মঙ্গলবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এক মাসের স্থলে ৬ মাসেও রাজশাহী মহানগর আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি

আপডেটঃ ৪:৫১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

কথা ছিলো এক মাসের মধ্যেই রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গতে রুপ দিতে হবে।এটি করতে ব্যর্থ হলে চরম মূল্য দিতে হবে সভাপতি-সম্পাদককে।দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন হুমকির পরেও আংশিক কমিটি গঠনের ৬ মাস পেরিয়ে গেওে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি।এর জন্য সম্মেলনের পরপরই দেশজুড়ে করোনার তাণ্ডব শুরু হওয়ার কারণকেই মূলত দায়ী করা হচ্ছে।তবে ভিতরে ভিতরে রয়েছে অভ্যান্তরীন দ্বন্দ্বও।আর সেটি হলো, এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কাদের জায়গা দেওয়া হবে-তা নিয়ে।একটি পক্ষ চাইছেন, গতবার যেসব নেতা পদ বাগিয়ে, দলের সুনাম নষ্ট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন কিন্তু দলের পেছনে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা ছিলো না, সেসব নেতাদের এবার আর যেন ঠাঁই না দেওয়া হয়।আবার অনেকেই পদ বাগিয়ে নিয়েও থেকেছেন নিস্ক্রিয়, এবার সেসব নেতাদের যেন ঠাঁই না দেওয়া হয়।

কিন্তু একটি পক্ষ চাইছেন টাকার কুমরি ওইসব নেতাদের দলে এবারো জায়গা দিতে।আর তাতে তৈরী হয়েছে জটিলতা।এদিকে এবার দলে টেন্ডারবাজ, বালুদস্যু, ভূমিদস্যু, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এমনকি নিজ দলের অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার হত্যাকারীদের এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হলে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন অনেকেই।সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের নেতারা এ নিয়ে এখনোই সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে নানাভাবে প্রচারণা চালিয়েছে যাচ্ছেন।দলীয় সূত্র মতে, গত ১ মার্চ পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে শুধুমাত্র সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।কমিটি ঘোষণার ওইদিনই পরবর্তি এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সভাপতি-সম্পাদককে নির্দেশ দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হলে রাজশাহী মহানগরর কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে চরম মূল্য দিতে হবে।কিন্তু সেই হুমকির পরেও এখনো সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোরমুখ দেখেনি।এর আগে ২০১৪ সালের ২৫ আক্টোবর সম্মেলনে সভাপতি পদে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নাম ঘোষণা করে এবং কাউন্সিলদের ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক পদে ডাবলু সরকার নির্বাচিত হয়েছিলেন।সর্বশেষ গত ১ মার্চের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লিটন-ডাবলুর নাম সারসরি ঘোষণা করে তাঁদের স্বপদে বহাল রাখেন।দলীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে শুধুমাত্র পদ বাগিয়ে নিয়ে নানাভাবে সুবিধা আদায় ও বিতর্কে জড়ানো এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে নিস্ক্রিয় ছিলেন এমন নেতাদের সংখ্যায় বেশি ছিলো।তাদের মধ্যে বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিয়ে বালুমহালের রাজত্ব করে রাজশাহীজুড়ে আরেক জিকে শামিম বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন একজন নেতা।

সেই নেতাকে বিগত ৫ বছরে দলের তেমন কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।এমনকি সর্বশেষ গত ১৫ আগস্টে শোকসভার কর্মসূচিতেও ছিলেন অনুপস্থিত।অথচ তাঁকে এবারও দলে যায়গা দিতে চলছে তদবির।এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও ম্যানেজ করতে তিনি লবিং শুরু করেছেন বলেও নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।তবে তাঁকেসহ এবার অন্য বিতর্কিদের দলে যায়গা দেওয়া হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন রাজশাহীর সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের নেতাকর্মীরা।ওই ফোরামের অন্যতম সদস্য আমিনুর রহমান খান রুবেল তাঁর ফেসবুকে লিখেন, ‘এবার রাজশাহী মহানগরের কমিটি থেকে নব্য-হাইব্রিড লীগার, ভুমিদস্যু, পুকুরদস্যু, বাড়িদস্যু, চাঁন্দাবাজ, লুটেরা, শহীদ জাতীয় নেতা এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান’র কবর অবমাননাকারী ফ্রিডম পার্টির সংগঠক, ছাত্রলীগ নেতা গোলামের খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, সদ্য সাবেক বিএনপির নেতা, ছাত্রদল-যুবদলের সাবেক নেতা, সাবেক শিবির নেতা, অপ্রয়োজনীয় স্বার্থবাদী হাইব্রিড কাউন্সিলররা, ছাত্রদল করা বিএনপি সমর্থক সেই নাটকবাজ, শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী শীষ মোহাম্মদকে আশ্রয়দানকারীরা এবারও কমিটিতে পদ পাবে? পরিক্ষীত, ত্যাগী, নির্যাতিত দলের দুঃসময়ের নেতা- কর্মীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে এদেরকে বাদ দেওয়ার মত এতটুকু সাহস, আন্তরিকতা, দ্বায়িত্বশীলতা আমাদের নেতাদের কাছে আশা করা নিশ্চয় ভুল বা অপরাধ হবে না।’

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আমিনুর রহমান রুবেল বলেন, ‘যে নেতা ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়, তাকে আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয় কিভাবে।গত ৫ বছর ধরে আমরা এ নিয়ে চরম কষ্টে ছিলাম।এবার আশা করি জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা গোলামের মতো ব্যক্তিকে যারা খুন করতে পারে, সেসব খুনিদের মহানগর আওয়ামী লীগে যায়গা হবে না।এই ধরনের নেতাকে এবার পদ দেওয়া হলে আমরা সেটি মেনে নিব না।’জানতে চাইলে আরেক নেতা বলেন, ‘এবার কেনো মতেই ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিকে দলে যায়গা দেওয়া হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।কিছুতেই দলের নেতাকর্মীদের খুনিদের মেনে নেওয়া হবে না।আমরা চাই পদে আসুক ত্যাগীরা।যাদের জন্য টিকে আছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ।’অন্যদিকে তৃণমূলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যূ, ক্ষমতার অপব্যাবহার করে যারা গত ৫ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন, তাদের এবার কমিটিতে না রাখার জন্য দাবি জানানো হয়েছে সভাপতি-সম্পাদকের কাছে।

’জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘ করোনার কারণে কেন্দ্রে বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ঢাকায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো যায়নি।তবে এবার আমাদের চেষ্টা থাকবে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে পদে না রাখার।কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সেই নির্দেশনাই আছে আমাদের কাছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।