রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বেতন নেই চার মাস চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারিদের পাওনা ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা

আপডেটঃ ৭:০৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৩, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

প্রায় ৭০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে চালু থাকা রাজশাহী চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারিরা চারমাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।চিনিকলের কাছে তাদের এ কয় মাসে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।এদিকে, মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এখানকার শ্রমিক কর্মচারিরা।রাজশাহী চিনিকলের তথ্য মতে, চলতি বছর রাজশাহী চিনিকলে উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ১৯ মেট্রিকটন চিনি।এর বেশিরভাগই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গত বছরের ৭০ কোটি টাকা লোকসানের সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিকদের চার মাসের বকেয়া ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।বর্তমানে রাজশাহী চিনি কলে কর্মচারি ৪৪৫ জন।পাশাপাশি শ্রমিক আছেন ২২৮ জন।এছাড়াও কিছু চুক্তি ভিক্তিক শ্রমিকও আছেন। এদিকে, ঋন বাবদ চিনিকলের উপর প্রতি বছর যুক্ত হয়েছে ব্যাংকের বাৎসরিক ৪০/৪৫ কোটি টাকা ইন্টারেস্ট।এদিকে, ঈদউল আযহার আগেই বকেয়া বেতন পাওয়ার আশা করছিলেন শ্রমিক কর্মচারিরা।কিন্তু ফিরে যেতে হয় শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের বেতন নিয়েই।চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আবারো শুরু হবে আখ মাড়াই মৌসুম।বন্ধ কারখানা ফিরে পাবে প্রাণ আর শ্রমিক কর্মচারিতে মুখরিত হয়ে উঠবে অফিস ও কারখানা।কিন্তু বর্তমান সময়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারিরা।উৎপাদিত চিনির একটি আংশ এখনো অবিক্রিত অবস্থায় মজুদ আছে গুদামে।

ফলে চিনি বেচতে না পেরে টাকার অভাবে পড়েছেন রাজশাহী চিনিকল কর্তৃপক্ষ।রাজশাহী চিনিকেলর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগে টাকা না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে আখচাষিসহ শ্রমিক-কর্মচারিদের।বকেয়া বেতন ও কৃষকের আখের দাম পরিশোধের দাবিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও কোনো কাজে আসছে না পাওনাদারদের।আমরা শ্রমিকরাও মানবেতর জীবন যাপন করছি।তিনি আরও বলেন, এর আগেও ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের এরিয়ার বিল আজ পর্যন্ত পাইনি।সেই বিলও এক কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা আছে।করোনা অবস্থাতেও শ্রমিকদের বেতন না দেয়ায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।দোকানদাররা বাকিও দিচ্ছেন না।তারা আনেকেই খাবার কষ্টে আছে।এছাড়া চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা ২০১৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের পাওনা এখনো পাননি।তাদের পাওনা প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।রাজশাহী চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন শাহীনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক কর্মচারিদের বেতন বকেয়া রয়েছে। উৎপাদিত চিনি বেশ কিছু অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে আছে।যার অনুমানিক মূল্য দিয়েই শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা যাবে।এজন্য আমরা এখন চিনি ও লালগুড় বিক্রির কাজ শুরু করেছি।আগামীতে এটি বিক্রি হলেই তাদের বেতন হয়ে যাবে।এছাড়াও আমাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় এসব চাহিদা পাঠানো হয়েছে।সেখান থেকেও যদি আসে তবেই তাদের বেতন হবে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।