শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আতংকিত কৃষক আমন খেতে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব

আপডেটঃ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

খোলপচা রোগের প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আমন খেতে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে।এর ফলে ধান খেতে ব্যাপক হারে পাতামোড়ানো পোকার আক্রমণ ও পাতাঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে।পোকার আক্রমণ ও রোগের কবল থেকে ফসল রক্ষায় চাষিদের কীটনাশক কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।তবে রোগ নির্মূলে কৃষকদের সঙ্গে সারাদিন মাঠেথেকে  পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের।যেন কোন ভাবেই ফলন বিপর্যায় না ঘটে।তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় আমনের অবস্থা এবার খুব ভালো।আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে প্রয়োজনীয় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে ও  হচ্ছে।তাই আমন খেতে পোকার আক্রমণ ও পাতাঝলসানো (ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট, বিএলবি) রোগ এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।উপজেলার চিমনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, তার ২০ বিঘা জমিতে গুটিস্বর্ণ ধানে খোলপচা রোগ ধরলেও এখন কিছুটা কমেছে।কিন্তু এখন গাছের পাতা মুড়িয়ে আসছে।আর ধানের পাতা লাল আকার ধারণ করেছে।ওষুধ স্প্রে করলে এরোগ আর থাকবে না।আর এতে তেমন কোনো ফলন বিপর্যয় হবে না।এ বছর ফলন ভাল হবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাণপুর গ্রামের সুমন আলি বলেন, খোলপচা থেকে মুক্তি পেয়েছি।এখন পাতামোড়ানো আর বাদামি গাছ ফড়িংয়ের (কারেন্ট পোকা) আক্রমণ দেখা দিয়েছে।দাম চড়া হওয়ায় কীটনাশক কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।১০ বিঘা ধানের জন্য এত টাকা খরচ হলে, উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।তাতে করে লাভের ভাগ ঘটিয়ে খাওয়ার মত হবে।একই রোগ-বালাইয়ের কথা বলেন পাঁচন্দর গ্রামের আবু বুরাহান ও মিঠু সরকার, কচুয়া গ্রামের সাহিন হোসেন, আবদুল জব্বার, রবিউল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাকসহ অনেক কৃষক।চাষিরা জানান, উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা, বৈদপুর, শিবরামপুর, হাসনাপাড়া চৈরখের, নারায়ণপুর খালিকুল্লা, জুমারাড়া এলাকার আমন খেতে এ পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই দেখা দিয়েছে।এছাড়াও পাঁচন্দন, কামারগাঁ,কলমা, সরনজাই, তালন্দ, চাঁন্দুড়িয়া এসব ইউনিয়নগুলোতেই এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জামিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে সুমন স্বর্ণ, উফশি ও স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান রয়েছে।উপজেলার একাধিক উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা জানান, রোদ ও ভাপসা গরমের কারণে রোপা আমন খেতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।তবে বর্তমানে দিনদিন এ রোগ কমে যাচ্ছে।তারা  সর্বদা সকাল থেকে বিকেল মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।ধান খেতে পাতা লাল হওয়ার বিষয়ে তারা বলেন, রোপা আমনের খেতে বাতাসে ধানের একপাতার সঙ্গে আরেক পাতার সংর্ঘের কারণে এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে।সে ক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই।পটাশ, থ্রিয়ওভিট ও জিং জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা গেলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে তারা আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছরও ফলন বাম্পার হবে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।