শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নদী ভাঙন ও করোনায় বিপর্যস্ত পদ্মা চরের অর্থনীতি

আপডেটঃ ১:০৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২০, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী চর এলাকায় একদিকে মহামারী করোনার প্রভাব, অন্যদিকে  নদীর ভাঙ্গনের ফলে একের পর এক এলাকা নদী গর্ভে বিলিনের ফলে, চর এলাকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতি হুমকীর মুখে পড়ছে।ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা রাজশাহীর পবার চর খিদিরপুরের মদিনা ও ফজলুর দম্পতির মতো পদ্মার চরাঞ্চলের হাজারও  মানুষ প্রতিবছর নদী ভাঙনের শিকার হন।ভাঙনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, ফসলিজমি, চিকিৎসাকেন্দ্রসনহ নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।এ ছাড়া কয়েক বছরের ভাঙনে পবার চর খানপুর নামের একটি ভূ-খন্ডই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।মদিনা ও ফজলু দম্পতি জানান, তাদের এইবার দিয়ে তিনবার বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছে।একবার বাড়ি ভেঙে গেলে, তা মেরামত করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়।আমরা গরীব মানুষ এতবার বাড়ি ভাঙলে বাড়ীঘর করা কঠিন হয়ে পড়ে।রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পদ্মা নদী বয়ে গেছে।এই নদীর চরে গড়ে উঠা ৩০টি গ্রামে, প্রায় লক্ষাধীক মানুষের বসবাস।চরের সাথে গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র পথ প্রমত্তা পদ্মা নদীর মধ্যদিয়ে।এখন পর্যন্ত এই চরের গ্রামের কোনো মানুষের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।তাদের নিকট করোনার চেয়ে বেশি আতঙ্ক নদীভাঙন।তবে করোনার প্রভাবে চরের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।কুদ্দুস নামের এক বাসিন্দা জানান, চরের মানুষদের প্রধান পেশা গরু পালন ও মাছ ধরা।

চরের ভাঙনের কারণে গরু পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।এছাড়া করোনার কারণে লোকজনের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রিও কমে গেছে।এখন জীবন যাপন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।আবুল হোসেন নামের আরেক চাষী বলেন, জমিতে যেটুকু পাট চাষ করেছিলাম সব পানিতে ডুবে গেছে।যা পুঁজি ছিলো সব শেষ।এখন বাজার সদাই করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের এই সময়ে, চরের কোথাও কোথাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বাল্যবিবাহ।আর সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।শিউলি খাতুন নামের এক নারী বলেন, চরে কোনো চিকিৎসা নেই।যেকোনো চিকিৎসার জন্য ছয় কিলোমিটার প্রমত্তা পদ্মা নদী পার হয়ে যেতে হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।পবার চর খিদিরপুরের পল্লী চিকিৎসক পারভেজ সাজ্জাদ জানান, ছোটখাট চিকিৎসা আমরা দিয়ে থাকি।যখন রোগীর জটিল কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।এছাড়া চরে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নাই।এ ছাড়া জরুরী কোন ঔষুধও পাওয়া যায়না চার এলাকায়।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।