শনিবার ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বাঘায় পদ্মার ভাঙনে কাঁচা ধান কাটছে কৃষক

আপডেটঃ ১২:১৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩০, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা ভাঙনের ভয়ে, গো-খাদ্যের জন্য কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে  কৃষকেরা। ২৯ জুলাই বুধবার উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী মাঠে ফজল শেখ নামের কৃষককে এই ধান কাটতে দেখা যায়।জানা যায়, ফজল শেখের কালিদাসখালী মাঠে ৬ বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ভাঙতে ভাঙতে সবগুলো রাক্ষুসে পদ্মা গিলেছে।আর মাত্র ১০ কাঠার মতো জমি ভাঙতে বাঁকি রয়েছে।এই জমিতে সে আমন ধান রোপন করেছিল।ধানের চারার বুকে থোড় এসে গেছে।যে কোন মুহুর্তে পদ্মা গ্রাস করবে বাকি সম্বল টুকু।পদ্মার ভাঙনে তো জমি চলেই যাচ্ছে, কাঁচা ধান কেটে নিয়ে গেলে হয়তো গরুকে খাওয়ানো যাবে।এছাড়া তার বাড়িটাও ভাঙন থেকে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।তার বাড়িটাও অন্যত্রে সরে নিয়ে যেতে হবে।তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন।

জমি ছিল ৬ বিঘা।পদ্মায় ভাঙনে ভাঙতে সব জমি পদ্মা নদীতে চলে গেছে।এখন কথায় যাবে ভেবে পাচ্ছে না।এদিকে তার ৪টি গরু ও ৬ টি ছাগল রয়েছে।পদ্মার মধ্যে ১৫টি চরের আয়তন ৪৬ কিলোমিটার।জনসংখ্যা সাড়ে ১৫ হাজার।জমির পরিমাণ ৬ হাজার একর।মানুষের বসবাস প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।আমান ধান চাষ হয়েছে ১০০ হেক্টর।ফজল শেখের মতো আরো অনেক কৃষক কাঁচা ধান গো-খ্যাদ্যের জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর (কালিদাসখালী) শহিদুল ইসলাম বলেন, এই ওয়ার্ডে সাড়ে ৩ শতাধিক পরিবার বসবাস করতো।পদ্মার ভাঙনের কারণে গত বন্যায় ও এবারের বন্যায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।এছাড়া ১০-১৫ বছর আগে রোপন করা আম গাছসহ কয়েক শত বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।এই ওয়ার্ডে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাও ৩ দিন আগে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তবে বিদ্যালয়ের মামলামাল টেন্ডারে বিক্রি করা হয়।কালিদাসখালী চরের এক স্কুল শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, নদীর এপাড় ভাঙে ওপাড় বাঁধে এটাই সত্য।গত কয়েক বছরের চর ভাঙতে ভাঙতে হাজার হাজার একর আম বাগানসহ ফসলি জমি পদ্মা গর্ভে চলে গেছে।ইতোমধ্যে চকরাজাপুর মোজার চিহৃ হারিয়ে গেছে।কালিদাসখালী চরের তিন ভাগের দুই ভাই হারিয়ে গেছে।তবে ভাঙনের ভয়ে অনেকই কাঁচা ধান গো-খাদ্যের জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছে।এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, ভাঙনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।