শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

মসজিদ মিশন একাডেমী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে কমিটি গঠনের অভিযোগ

আপডেটঃ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৯, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন একাডেমী(স্কুল এ্যন্ড কলেজ),রাজশাহী শাখার অধ্যক্ষের  বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।যার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষকসহ সকল কর্মাচারীদের দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে।সমগ্র বাংলাদেশে মসজিদ মিশন সংস্থার অধিনে পরিচালিত হচ্ছে মসজিদ মিশন একাডেমী (স্কুল এ্যন্ড কলেজ)।এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তদারকির জন্য সাত সদস্যের একটি গভর্নিং বডি রয়েছে।গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এর মধ্যে একজন সভাপতি থাকবেন।যিনি সংস্থাটির কেন্দ্রের সভাপতি কর্তৃক মনোনিত হবেন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সচিব হবেন পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল।এছাড়া দুই জন শিক্ষক ও তিনজন অভিভাবক থাকবেন কমিটিতে।প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংস্থার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে, তিনি নিজের পছন্দমত গভর্নিং বডির সভাপতিসহ তিনজন অভিভাবকের নাম দিয়ে কমিটির অনুমোদন দেখিয়েছেন।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী কলেজের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি করে একটি চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ মসজিদ মিশন সংস্থার সভাপতি মু. নুরুল ইসলাম।১২ ডিসেম্বর নুরুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে বাংলাদেশ পুলিশের  সাবেক এসপি খন্দকার হাবিবুর রহমানকে সভাপতি মনোনিত করে আরেকটি চিঠি ইস্যু করেন মসজিদ মিশন একাডেমীর প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামান খান।এর পর তিনি সুকৌশলে সভাপতিসহ নিজের পছন্দ মতো তিন জন অভিভাবক ও দুই জন শিক্ষকের নাম দিয়ে গত ১২ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুমোদনের জন্য সেখানে তা প্রেরণ করেন।কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই, ১৫ জানুয়ারীতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, সেটি অনুমোদন দেন।বিষয়টি জানাজানির পর ওই দিনই বাংলাদেশ মসজিদ মিশন সংস্থার সভাপতি মু. নুরুল ইসলাম রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদ মিশন একাডেমীর প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামান খান গভর্নিং বডির ৭ সদস্যের কমিটির মধ্যে সভাপতিসহ তিনজন অভিভাবকের নাম অনুমোদনের ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।প্রিন্সিপাল সংস্থাটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিজের পছন্দসই ব্যক্তিদের নাম দিয়ে,তড়িঘড়ি করে কমিটির অনুমোদন করিয়েছেন।প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে,১১ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠির মাধ্যমে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহকে, জালিয়াতির মাধ্যমে ওই গভর্নিং বডির কমিটি তৈরির,  অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে অনুরোধ করেন।এর প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ, রাসিকের সচিব তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।যেখানে তিনে জানান প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামান খান সংস্থার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে কমিটি অনুমোদনের জন্য নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম দেন।

এমন অবস্থায় তার কাছে উক্ত কমিটি অবৈধ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।এর পর ১ লা জুন প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামান খানকে কৈফিয়ত তলব করেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক।এদিকে জালিয়ারিত আশ্রয় নিয়ে গভর্নিং বডি অনুমোদনের বিষয়টি জানাজানি হলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের বেতন আটকে যায়।ফলে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত, শিক্ষক ও কর্মচারীরা কোন বেতন তুলতে পারেননি।পরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি নিয়ে এবং তার স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে তাদের বেতন তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।তবে জুন মাসের বেতন ব্যাংকে পড়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা তা তুলতে পারেননি।বিষয়টি জানতে মসজিদ মিশন একাডেমীর (স্কুল এ্যন্ড কলেজ) প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।অন্যদিকে, জালিয়াতি  কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান, দাবি করেন তাকে সংস্থার সভাপতি অনুমোদন দিয়েছেন।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।