শনিবার ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

শত্রু কাঁপানো সেই এফ-৬ যুদ্ধ বিমানটি এখন অযত্ন আর অবহেলায় ডানা ভেঙ্গে পড়ে আছে

আপডেটঃ ৩:৫২ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৫, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ের নাম শুনলেই আগে শহরের মানুষের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এফ-৬ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান। যা ২৫ বছর ধরেই প্রতিস্থাপন করা ছিলো সেখানে।তবে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সর্বোচ্ছো ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে।তাই গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ জায়গা বদল করে রাজশাহী মহানগরীর এফ-৬ মডেলের যুদ্ধবিমানটি।কথা ছিল শিগগিরই এটিকে শহরের আলিফ-লাম-মীম ভাটা এলাকায় বসানো হবে।কিন্তু তারপরও প্রায় ৭মাস পার হলেও যুদ্ধবিমানটি জায়গা মতো বসানো হয়নি এখনো।যদিও রাজশাহী সিটি করপোরেশন বলেছিল, যুদ্ধবিমানটি বসানোর জন্য এরই মধ্যে স্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।আলিফ-লাম-মীম ভাটা এলাকায় নির্মাণাধীন বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখে আলোকায়নেরও ব্যবস্থা হয়ে গেছে।সবকিছু ঠিক থাকলে গত মার্চ মাসের শুরুতেই তা সেখানে বসানো হবে বলে জানিয়েছিল।কিন্তু শীত পেরিয়েছে, গ্রীষ্ম পার হয়েছে, বর্ষার মাঝামাঝি তবু মাটি থেকে উঠতে পারেনি এফ-৬ যুদ্ধবিমানটি।

যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজের টানে আকাশ থেকে নেমে মাটিতে বুক  চিতিয়েছে বিমানটি।তবে কাছে গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে অরক্ষিত অবস্থায় ডানা খুলে পড়ে রয়েছে যুদ্ধবিমানটি।আর এক সময়ের নগরীর সৌন্দর্যবর্ধক সেই বিমানটির ভিতরে রাখা হয়েছে বালুর বস্তা, ইট ও বাঁশের মাচা।এতে করে গ্রীষ্মে মাটির স্তর পড়ে তামাটে রঙের পর বর্ষায় পানিতে কালচে আবরণ নিয়েছে এ যুদ্ধবিমানে।আর এভাবেই পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বিমানটি।তাই স্থানীয়দের দাবি, সত্যি সত্যিই ধ্বংসাবশেষে রূপ নেওয়ার আগেই দ্রুততম সময়ে যুদ্ধবিমানটিকে নতুন ঠিকানায় বসানো হোক।তারা বলেন, গত বছরের নভম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এই যুদ্ধবিমানটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরের সাথে থাকা সিঅ্যান্ডবির মোড় থেকে খুলে এখানে আনা হয়।কিন্তু বিমানটি এখানো বসানো হয়নি সেখানে।বিমানটির খুলে নিয়ে আসা বিভিন্ন অংশ এখনও জুড়ে দেওয়া হয়নি।কোনো রকম যত্ন না থাকায় বিমানটিতে মাটির প্রলেপ পড়েছে।গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত এটিকে নতুন স্থাপন করা না হলে ধীরে ধীরে বিমানের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাজশাহীতে নামিয়ে ফেলা হল যুদ্ধবিমানএদিকে, স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার কাজী শাহজাহান জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের আকাশসীমার সুরক্ষায় এফ-৬ মডেলের যুদ্ধবিমানটি কেনা হয়েছিল।যুদ্ধবিমানটি সর্বশেষ আকাশে উড়েছিল ১৯৯১ সালে।পরে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন একটি অব্যবহৃত বিমান সিঅ্যান্ডবি মোড়ে স্থাপনের আবেদন জানায়। অনুমোদনে পর ১৯৯৪ সালে রাজশাহী সিঅ্যান্ডবি মোড়ে কংক্রিটের তৈরি স্ট্যান্ডের ওপর এ বিমানটি স্থাপন করে সিটি করপোরেশন।যুদ্ধবিমানটি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি।এ মডেলের বিমানের ইঞ্জিন সাধারণত ভেতরেই থাকে। তবে এটিতে ইঞ্জিন নেই। কিন্তু এখনও দুই পাখার সঙ্গে ড্রপ ট্যাংক আছে।এছাড়া পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিমানটি মডেল হিসেবে রূপ দেওয়া হলেও এর পাইলটের বসার স্থানটি ঠিক রাখা হয়।যদিও স্থানান্তরের কারণে এখন বিমানটির পাখা এবং ড্রপ ট্যাংকগুলো খুলে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আবারও তা যথাস্থানে লাগিয়ে দেওয়া হবে।এদিকে জানা গেছে, নগরীর আলিফ-লাম-মীম ভাটা থেকে বিহাস পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে সাড়ে চার কিলোমিটার ফোর লেন সড়ক।আর এ সড়কের প্রবেশ মুখেই বসানো হবে যুদ্ধবিমানটি। নতুন সড়কটি রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে মিলিত হয়েছে।ফলে দুই সড়কের সংযোগস্থলে থেকে এফ-৬ মডেলের ‘যুদ্ধবিমান’ নির্দেশনা দেবে ‘বিমানবন্দরের’ দিকে।এটি হবে নতুন সড়কের মূল আকর্ষণ।তবে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকা যুদ্ধবিমানটি এখন চেনা-ই দায় হয়ে পড়েছে।

IPCS News /রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ (রাজশাহী)।