বৃহস্পতিবার ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

মহামারী রুখবে মশার লালা থেকে তৈরি ‘ ভ্যাকসিন’

আপডেটঃ ১:৪২ অপরাহ্ণ | জুন ১৩, ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের মতো মহামারী আচমক হানা দিলে তাকে ঠেকানো একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার।মহামারী করোনার দাপটে বিধ্বস্ত গোটা বিশ্ব।করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করতে গিয়ে তাই নাজেহাল গোটা বিশ্বের গবেষকরা।তবে মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানী ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জেসিকা ম্যানিং দাবি করেন মশা বাহিত রোগের জীবাণু থেকে তৈরি ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ যে কোন মহামারী রুখবে।মহামারীর প্রকোপ রুখে দিতে শুরু থেকেই রোগ প্রতিরোধ গড়ে উঠবে মানুষের শরীরে।যার দ্বারা যে কোন সংক্রামক রোগের প্রকোপ ঠেকানো সম্ভব।

মশা বাহিত যেসব রোগের জীবাণু মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে, সেই জীবাণু দিয়েই তৈরি হচ্ছে এমন ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন।মশার লালা থেকে জীবাণু নিয়ে তৈরি এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে গিয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে।জেসিকা ম্যানিং বলেছেন, মশার থেকে যেসব জীবাণু বা প্যাথোজেন মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, জিকা, হলুদ জ্বর, বা মেয়ারো ভাইরাস, সেইসব প্যাথোজেন দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই ভ্যাকসিন।শরীরে গিয়ে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করবে যা যে কোনও সংক্রমণ আটকাতে পারবে।

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধই এর মূল উদ্দেশ্য হলেও গবেষণার অনেক দিক খুলে দিয়েছে ম্যানিং ও তার টিম।ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অহ হেলথে জেসিকা ম্যানিংও তার টিমের বানানো এই ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।৪৯ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে এই টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।দু’ভাবে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে।এনআইএইচ জানিয়েছে, প্রথমে দুটি ডোজে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।তার কয়েক সপ্তাহ পরে মশার কামড় দিয়ে দেখা হবে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে শরীরে।মশার লালার মাধ্যমে ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কিনা।এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েকবার করা হবে।যদি দেখা যায় মশার কামড়ের পরেও সুস্থ ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ তৈরি হয়নি তাহলেই বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধী শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে।জেসিকা বলছেন, মানুষের উপরে এই ট্রায়াল সফল হলে এই ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন বিজ্ঞান ও গবেষনার নতুন দিক উন্মোচন করবে।তবে এটি এখন হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ধাপে রয়েছে।

IPCS News /রির্পোট।